ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
পারিবারিক কলহে বাড়ি ছেড়েছিলো চার বোন
৭দিন পর উদ্ধার
Published : Saturday, 4 June, 2022 at 12:00 AM, Update: 04.06.2022 12:44:59 AM
পারিবারিক কলহে বাড়ি ছেড়েছিলো চার বোন নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাবা-মা’র সাথে অভিমান করে বাড়িছাড়া চার বোনকে ৭ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। শুক্রবার (৩ জুন) নগরীর হাউজিং এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তাদেরকে উদ্ধারের কথা জানান পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম।
উদ্ধার হওয়া চার বোন হচ্ছে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের কালেম গ্রামের মজিবুল হকের বড় মেয়ে আফসারুল উলুম কামিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাসনিম জাহান (১৮), একই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্রী মারজান (১৭), ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তাজিন সুলতানা (১২) ও স্থানীয় নারুয়া তালিমুল কোরআন মডেল মাদরাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী মাইশা আক্তার (৭)।
উদ্ধার হওয়া চার বোনের বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, দীর্ঘ পারিবারিক কলহের জের ধরে মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার পর তারা নগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করে। এর মধ্যে বড় বোন তাসনিম কুমিল্লা ইপিজেডের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে সেখানে কাজ করতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-মায়ের কলহের জেরে অভিমান করে তাদের সন্তানরা গত ২৬ মে সকালে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। এক পর্যায়ে কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকার একটি বাসা ভাড়া নেয় চার বোন। এদের মধ্যে বড় বোন তাসনিম জাহান কুমিল্লা ইপিজেডের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তাদের পরিবার থেকে নিখোঁজের তথ্য পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় জাঙ্গালিয়া থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে চার বোনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ২৫ মে তাদের বাবা মুজিবুল হক তার তিন মেয়ে তাসনিম, মারজান ও তাজিনকে বকা-ঝকা করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এদিন বিকেলেই তিন বোন তাদের নানাবাড়ি চলে যায়। নানার বাড়িতে থেকেই তাদের ছোটবোন মাইশা মাদরাসায় পড়াশোনা করে। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে নিয়ে তিন বোন মাদরাসার কথা বলে নানাবাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু মাদরাসা ছুটির পরও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় সম্ভাব্য জায়গায় খুঁজেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাদের পরিবার।
এদিকে হঠাৎ করেই অভিমানে বাড়িছাড়া চার কন্যাকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা বাবা মুজিবুল হক। আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি আমার কলিজাদের ফিরে পেয়েছি, আল্লাহর কাছে লাখো-কোটি শুকরিয়া। সামান্য বকা-ঝকাতেই যে ওরা এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা জানতাম না। তাদেরকে হারিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কলিজা সাথে ছিলো না। পুলিশকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১৮ বছর দুবাই ছিলাম। দেশে ফেরার পর লোকজন বিভিন্নভাবে আমার টাকা মেরে দিয়েছে। আমার চার মেয়ে কোনো ছেলেসন্তান নাই। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ শারীরিক নানা অসুখ-বিসুখের কারণে আমি কিছুটা হতাশাগ্রস্ত। হঠাৎ করে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। ওই কারণে মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকা করতাম। ওরা যে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা জানতাম না। আর আমি আর তাদের বকা দেব না।