
নতুন
বিশ্ব বাস্তবতায় সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। সংকট শুধু বাংলাদেশের একার
নয়, বিশ্বের অনেক দেশই এখন এই সংকট মোকাবেলা করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের
ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শিকল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্য দিয়ে
অগ্রসর হচ্ছি আমরা।
এমনিতেই আমাদের বাজারব্যবস্থায় কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ
নেই। প্রতিযোগিতা কমিশন আছে, প্রতিযোগিতা নেই। ভোক্তার অধিকার উপেক্ষিত
বাজারে। দেখার কেউ নেই। আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক
সময়ে মূল্যস্ফীতি দেশের স্থির আয়ের জনগোষ্ঠীকে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি
করেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে ‘চাকুরে, চাষি ও শিক্ষার্থীর জীবন কাটছে যেভাবে’
শীর্ষক গুচ্ছ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবিত্ত পরিবার বেকায়দায়। নিত্যপণ্য
কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেকায়দায় পড়েছে। খাবার
জোগাতেই পকেট ফাঁকা হচ্ছে ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের। বর্গা চাষিদের
দিনও চলছে না।
মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের চলার পথে এখন বড় প্রতিবন্ধক।
উন্নয়ন চিন্তা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে এর প্রভাব পড়ছে। সরকারকেও
তা ভাবিয়ে তুলেছে। মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার জন্য সামাজিক রক্ষার কৌশলের ওপর
জোর দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে যেভাবে খাদ্য, জ্বালানি
ও সারের দাম বেড়েছে, তাতে বৈশ্বিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে গত বুধবার
সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংক প্রধান ডেভিড ম্যালপাস। এ অবস্থায় আমাদের এখনই
সতর্ক হতে হবে।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন
মোটেও ইতিবাচক নয়। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন চ্যালেঞ্জগুলো এখন সামনে চলে
এসেছে। খুব স্বাভাবিভাবেই মানুষ কিভাবে জীবন যাপন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের চাহিদা পূরণ করার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা
কি আমাদের দেশে আছে?
তাহলে এখন আমাদের কী করতে হবে? প্রথম এবং প্রধান
বিষয় হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থির আয়ের মানুষের পাশে
কিভাবে দাঁড়ানো যায় সেই পরিকল্পনা করতে হবে। সরকার বিভিন্ন সময়ে টিসিবির
ট্রাক সেল করেছে। কিন্তু দেখা গেছে, একটা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যাদের
প্রতিদিন পাওয়া যায় টিসিবির ট্রাকের লাইনে। কাজেই স্থায়ী একটা ব্যবস্থা
খুঁজে বের করা দরকার। রেশন কার্ড বা এ ধরনের কার্ড দিয়ে ন্যায্য মূল্যের
দোকান করা যেতে পারে। তাতে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কিছুটা
হলেও স্বস্তি পাবে।