
আম্পায়ারিং
নিয়ে টালমাটাল ডারবান টেস্ট। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের সিদ্ধান্তগুলো
বেশিরভাগই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গিয়েছে। পাশাপাশি প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা খুব
বাজেভাবে স্লেজিং করেছিলেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
আনুষ্ঠানিকভাবে সামগ্রিক আম্পায়ারিং নিয়ে আইসিসির কাছে অভিযোগ করার
পরিকল্পনা করেছে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন।
চার দিন সমানতালে লড়াই করে শেষ দিনে এসে খেই হারায়
বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ডারবানে ২২০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায়
সফরকারীরা। ব্যাটারদের ব্যর্থতার পাশাপাশি আম্পায়রিংয়ের প্রভাবও দেখছে
বাংলাদেশ। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিসিবি কর্মকর্তা- সবাই সরব এই ইস্যুতে।
আগের দিন সাকিব আল হাসান ও খালেদ মাহমুদ সুজন আম্পায়রিং নিয়ে উষ্মা প্রকাশ
করেছিলেন।
গতকাল সোমবার ম্যাচ হেরে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিস্ফোরক তথ্য
দিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগের পাশাপাশি
গালাগালির অভিযোগ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারস্থ হচ্ছে আইসিসির। ক্রিকেট পরিচালনা
বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘আমরা ওয়ানডে সিরিজের পরই
আম্পায়ারিংয়ের ব্যাপারে অভিয়োগ দায়ের করেছিলাম। ম্যাচ রেফারি আমাদের
ম্যানেজার নাফিস ইকবালের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিল। টেস্ট সিরিজে
আম্পায়ারিং নিয়ে আমরা আইসিসির কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবো।’
জালাল ইউনুস
আরও বলেছেন, ‘স্লেজিং তো হতেই পারে। আর এটা দুই পক্ষ থেকে হয়। কিন্তু
স্লেজিংয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সেটা কখনোই ভালো কিছু নয়। আমাদের খেলোয়াড়রা
সামান্য স্লেজিং করেও সতর্কবার্তা পেয়েছে। কিন্তু ওদের ক্ষেত্রে তেমনটা
দেখা যায়নি। আমি মনে করি, এখানেই পক্ষপাত হয়েছে। আইসিসির অবশ্যই নিরপেক্ষ
আম্পায়ার পুনর্বহাল করার ব্যাপারে ভাবা উচিত।’
এর আগে আম্পায়ার নিয়ে
অসন্তোষ প্রকাশ করে মুমিনুল বলেছেন, ‘স্লেজিং তো হয় মাঠে। স্লেজিং হবে এটা
স্বাভাবিক। স্লেজিং যদি মাঝে মাঝে অ্যাবিউজের কাছে চলে যায়, তখন এটা খুব
খারাপ। আমার কাছে মনে হয়, মাঝেমধ্যে তারা (দক্ষিণ আফ্রিকা) অ্যাবিউজ করছিল।
খুব বাজেভাবে। যেটা আম্পায়ারও ওভাবে ওদের নোটিশ করেনি।’
ডারবান টেস্টের
চতুর্থ দিনে বিতর্কিত আম্পায়ারিং করে সমালোচিত হন অনফিল্ড দুই আম্পায়ার
মারাইস এরাসমুস ও আড্রিয়ান হোল্ডস্টক। সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের পক্ষে এলে
ম্যাচের পরিস্থিতি অন্যরকমও হতে পারতো! মাঠের আম্পায়ারদের বিতর্কিত
আম্পায়ারিং দেখে তাই টুইট করেছেন সাকিব আল হাসান।
১৪ রানে কেগান
পিটারসনও একবার আম্পায়ারের কল্যাণে বেঁচে যান। তার বিপক্ষে বাংলাদেশ
এলবিডাব্লিউর আবেদন করলে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ রিভিউ না নেওয়ায়
বেঁচে যান প্রোটিয়া ব্যাটার। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় মিডল স্ট্যাম্পে
আঘাত করতো বল। শেষ পর্যন্ত ৮৫ বলে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে আউট হন
এই ব্যাটার।
শুধু এই একটিই নয়। রবিবার দিনের শুরুতেই ৭ রানে জীবন পান
অধিনায়ক ডিন এলগার। বোলার ও ফিল্ডাররা মিলে এলবিডাব্লিউর জোরালো আবেদন
করলেও তাতে সাড়া দেননি এরাসমুস। রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান
প্রোটিয়া অধিনায়ক। অথচ কলটি বাংলাদেশের পক্ষে গেলে নিশ্চিত আউট হয়ে ফিরতেন
এলগার। শুধু তাই নয় ওপেনার সারেল এরউইয়ের বিরুদ্ধেও এলবিডাব্লিউর আবেদন
করলে তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ দল রিভিউ নিয়ে উইকেট পেয়েছে।
শুরুতে
বেঁচে যাওয়া পিটারসন ও এলগার শেষ পর্যন্ত ১১৪ বলে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ
জুটি গড়েছিলেন। পরে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন। যদিও এলবিডাব্লিউর আবেদনে শুরুতে
সাড়া দেয়নি আম্পায়ার। পরে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে এলগারকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে
বাধ্য করেন!
করোনাভাইরাস মহামারীর পর থেকে ভ্রমণে কড়াকড়ির কারণে
নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকে আইসিসি। স্বাগতিক দেশের
আম্পায়ার দিয়েই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ পরিচালনা করা হচ্ছে। মহামারী
অনেকটাই কেটে গেছে। তাই সাকিব আল হাসান, হাবিবুল বাশার, খালেদ মাহমুদ সুজন,
জালাল ইউনুস থেকে শুরু করে মুমিনুল হক- সবাই মনে করেন এখন নিরপেক্ষ
আম্পায়ার দেওয়ার সময় এসেছে।