ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন সারা দেশে নদী হত্যা
Published : Monday, 4 April, 2022 at 12:00 AM
দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন সারা দেশে নদী হত্যাঅবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সারা দেশে নদী দখলের রীতিমতো মহোৎসব শুরু হয়েছে। এমনিতে খননের অভাবে দেশের বেশির ভাগ নদীর অন্তিম অবস্থা। বর্ষার কয়েক মাস ছাড়া নদীগুলোতে প্রবাহ থাকে না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমে অনেক নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায়।
তাতে চাষাবাদ হয়। নদীর এমন দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে সারা দেশেই অবৈধ দখলদাররা বাঁধ দিয়ে, স্থাপনা তৈরি করে, পুকুর কেটে, উঁচু পার বানিয়ে যৎসামান্য যে প্রবাহ আছে তা-ও বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে নদীগুলোর মৃত্যু আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে। গতকালের কালের কণ্ঠেও এ রকম কয়েকটি খবর রয়েছে। এসব খবরে বলা হয়েছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দরবাড়িয়ায় ঘাটাখালী নদীর বুকে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানিয়েছেন একটি ইটখোলার মালিক। ফলে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। নাটোরের সিংড়ায় নাগর নদের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে, পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরছে প্রভাবশালীরা। সেই সঙ্গে নদীর বুকে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে এবং উঁচু করে পার বানানো হচ্ছে। এতেও পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় এই নাগর নদের বুকজুড়ে এখন চাষাবাদ হচ্ছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের হিড়িক লেগেছে। এদের কারোরই বালু তোলার বৈধ অনুমতি নেই। অথচ প্রতিদিন শত শত ট্রাকে অবাধে এসব বালি পরিবহন করা হচ্ছে। প্রশাসন নির্বিকার।
প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় এ রকম বহু খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কয়েক দিন আগে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, খুলনার পাঁচটি উপজেলায় নদীর জায়গা দখল করে ২৭টি ইটখোলা গড়ে উঠেছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আড়িয়ালখাঁ নদের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় আড়াআড়িভাবে পাঁচটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো কোনোটির ওপর দিয়ে ইট বিছিয়ে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। এসব নদীর প্রবাহ থাকবে কিভাবে? আর প্রবাহ না থাকলে নদীও বাঁচতে পারে না। এ রকম ঘটনা সারা দেশেই ঘটছে। উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। তার অর্থপ্রবাহ ব্যাহত করে নদীর মৃত্যু ত্বরান্বিত করা ঘোরতর অন্যায় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনগুলো এ ব্যাপারে প্রায় কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।
বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। এর প্রকৃতি, চাষাবাদ, জনজীবন—সব কিছু নদীনির্ভর। এ কারণে বলা হয়, নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কিন্তু বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমরা কি করছি? এটা ঠিক, নদ-নদীর বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী দীর্ঘদিনের অবহেলা। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে নদী খননের উপযোগী কোনো ড্রেজার ছিল না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার চারটি ড্রেজার কিনেছিল। তারপর আর কোনো সরকার কোনো ড্রেজার কেনেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৩৮টি ড্রেজার ও ১৬৮টি ড্রেজার সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে ঢিমেতালে চলছে নদী খনন। বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর করতে হবে। তার আগে যারা নদীর ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।