
বিশ্বকাপ
অভিযানের শুরুটা ভালো হলেও জুতসই ছিল না। বড় ইনিংস খেললেও শতক পূর্ণ
হচ্ছিল না অ্যাসিলা হিলির। মাঝে কয়েকটা ইনিংস খারাপও গেছে। তবে আসল সময়ে
এসে পরিপূর্ণ জ্বলে উঠলেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটার। নারী
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর ফাইনালে লিখলেন রূপকথা।
হিলির দানবীয় সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার ঘরে উঠেছে নারী বিশ্বকাপের সপ্তম
শিরোপা।
রবিবার ক্রাইস্টচার্চের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭১ রানে হারিয়ে
শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এ নিয়ে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের সপ্তম শিরোপা
জিতে নিয়েছে তারা। হিলির ইনিংসের পরই আসলে ট্রফিতে দুই হাত দিয়ে রেখেছিল
তারা। ন্যাট স্কিভার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি
ইংলিশদের। হিলির ১৭০ রানের অসাধারণ ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫৬
রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর স্কিভার অপরাজিত ১৪৮ রান করেও হার
বাঁচাতে পারেননি ইংল্যান্ডের, ৪৩.৪ ওভারে তারা অলআউট হয় ২৮৫ রানে।
সেমিফাইনালে
হিলি খেলেছিলেন ১২৯ রানের ইনিংস। আর ফাইনালে খেললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের
সর্বোচ্চ ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে আক্ষরিক অর্থেই ইংলিশ বোলারদের শাসন করেছেন
এই উইকেটকিপার। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান নিয়ে
গেছেন পাহাড়ে। ১৩৮ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ২৬ বাউন্ডারিতে।
দুর্দান্ত
এই ইনিংসে নতুন ইতিহাস লিখেছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। পুরুষ কিংবা নারী-
যেকোনও বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন হিলি। এতদিন অ্যাডাম
গিলক্রিস্টের ১৪৯ রান ছিল সর্বোচ্চ, ২০০৭ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
খেলেছিলেন। সেটি টপকে ১৭০ রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়া নারী দলের
ব্যাটার।
হিলির রেকর্ড আছে আরও। টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জেতা এই
উইকেটকিপার নির্দিষ্ট কোনও বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন।
সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি করা হিলি এবারের বিশ্বকাপে করেছেন ৫০৯ রান।
তাতে ছাড়িয়ে গেছেন আগের সর্বোচ্চ ৪৫৬ রান। হিলির ওপেনিং পার্টনার রাচেল
হেইনেস আছেন এখন নির্দিষ্ট বিশ্বকাপের রান সংগ্রাহকের তালিকার দ্বিতীয়
স্থানে। ক্রাইস্টচার্চের ফাইনালে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন
তিনি ৪৯৭ রান নিয়ে।