ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
জীবনবোধ ও জীবনদর্শন
Published : Wednesday, 30 March, 2022 at 12:00 AM
জীবনবোধ ও জীবনদর্শনজুলফিকার নিউটন ||
(পূর্বে প্রকাশের পর)
১৫
স্কুলের একজন ছাত্র এভাবেই কিছু বিচ্ছিন্ন জ্ঞানের অধীশ্বর হয়। অধীশ্বর কথাটি ইচ্ছে করেই বললাম। কেননা অল্প বয়সে নতুন সংবাদ জেনে সহপাঠীদের জানানোর মধ্যে একটি গর্বের অভিষেক থাকে। বড় হয়ে যখন কিছু জানি তখন যেন স্বাভাবিকভাবেই জানি। কিন্তু অল্প বয়সে যখন কিছু জেনেছি তখন অনুপম মাধুর্যেই জেনেছি।
অনেকে বলেন অতীত তো অতীত হয়ে গেছে তাঁকে নিয়ে চিন্তা করে লাভ কি? কিন্তু অতীত কখনো অতীত হয় না অতীত চিরকাল বর্তমান থাকে। অনেকে অভিযোগ করেন তারা অতীতের বোঝা বহন করে চলেছেন কিন্তু কথাটি সত্য নয়। কেননা অতীতেই সকল বোঝা বহন করে চলে। আমরা আবার কখনো কখনো বলি অতীতকে কখনো মুছে ফেলা যায় না কিন্তু সেটাও সত্য নয়, কেননা পৃথিবীতে অনেক মানুষ বর্তমানের মধ্যে এমন বেশি নিমগ্ন যে অতীত তার কাছে দৃশ্যমান হয়ই না। আমি সবসময় অনুভব করেছি আমার বর্তমানের সঙ্গে অতীত জড়িত হয়ে রয়েছে এবং আমার বর্তমানের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমান্তরাল হয়ে অতীত কখনো উদ্বিগ্ন রূপে, কখনো আশ্বাস রূপে বিদ্যমান থাকছে। আমি আমার স্মৃতিতে অতীতকে ধারণ করে আছি। আমার স্মৃতি লালিত হচ্ছে আমার হৃদয় দ্বারা এবং আমার মস্তিষ্ক দ্বারা। এই হৃদয় ও মস্তিষ্ক দ্বারা লালিত হয়ে অতীত কখনো মধুর হচ্ছে কখনো বেদনাময় হচ্ছে, কখনো বিবেক রূপে উপস্থিত হচ্ছে।
কি করেছি অতীতে অথবা কোন কোন কর্মকান্ডে অতীত উজ্জীবিত ছিল সেগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অতীতের জীবনদর্শন। যে বোধ এবং বিশ্বাসে অতীতের কর্মকাণ্ড শাসিত হয়েছে সে সমস্ত বোধ এবং বিশ্বাস আমার বর্তমানকে প্রভাবিত করছে। তাই আমি যখনই পৃথিবীর মাটিতে পা ফেলি সে পদক্ষেপের মধ্যে অতীতের বিশ্বাসের শাসন থাকে এবং প্রত্যয় থাকে। এত বিস্ময়কর বিপুল এবং বিরাট যে স্মৃতির ভাণ্ডার তা অন্ধকারে হারিয়ে যায় না, বর্তমানের সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়। স্মৃতির দিগন্তে ঘটনাক্রমকে ঠিকমত কখনো সাজিয়ে রাখা যায় না কেননা অতীতের ঘটনাগুলো নানা উপলক্ষ্য করে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে এবং সে উপলক্ষ্যগুলো জীবনদর্শন বিশ্বাস এবং চৈতন্যের উপলক্ষ্য। যদি মানুষের কোনো বিশ্বাস না থাকে এবং জীবনকে যদি মানুষ মনে করে একটি সাময়িক অবস্থিতি যা মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে, সে মানুষের কাছে অতীতের কোনো মূল্য নেই। অতীত তার কাছে কোনো উৎসর্গ নিয়ে আসে না। আমার কাছে অতীত কিন্তু উৎসর্গ নিয়ে আসে, আশা নিয়ে আসে শান্তি এবং সংবর্ধনা নিয়ে আসে।
এসময় স্কুলে থাকতেই ফরাসী বিপ্লবের কাহিনী পড়ি এবং নেপোলিয়নের নাম শুনি। চার্লস ডিকেন্সের 'এ টেইল অব টু সিটিজ’ বইয়ের সংক্ষিপ্তসার পাঠ করে ফরাসী বিপ্লবের কাহিনীতে উৎসাহিত বোধ করেছিলাম। একটি চরম দুর্ভাগ্যের মধ্যে এবং অসহায়তার মধ্যে জনসাধারণ যখন বাস করছে তখন ক্রমান্বয়ে তাদের চিত্তে জাগছে প্রতিবাদ। অবশেষে সমস্ত ক্ষুব্ধতা একটি বিপুল বিস্ফোরণে ফেটে পড়লো এবং রাজা এবং রাজপরিবারের সকলকে হত্যা করা হল। এই ভয়ংকর রক্ত প্লাবনের কাহিনী আমাকে অভিভূত করেছিল। চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসের একটা দৃশ্য আমার চোখের সামনে এখনো ভাসে। দূরে গিলোটিন দাঁড় করানো আছে এবং একপাশে একটি সাধারণ মেয়ে মানুষ সেলাইয়ের কাপ হাতে নিয়ে সেলাই করতে করতে এক একটি সংখ্যা উচ্চারণ করছে এবং সেই সংখ্যার মানুষটিকে গিলোটিনে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষ মাথা দিয়ে রাখছে এবং উপর থেকে ধারালো খড়গ এসে মস্তক দ্বিখণ্ডিত খরছে। এই ভয়ংকর উত্তেজনাকর দৃশ্যটি আমি বার বার পাঠ করেছি। ফরাসী বিপ্লবের পরের ঘটনা হচ্ছে নেপোলিয়নের আবির্ভাব। এ আবির্ভাবের ধারাক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেনি। কিন্তু কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো’ উপন্যাসটি পাঠ করে নেপোলিয়নের জীবনের অসম সাহসিকতা তার জয় এবং পরাজয়ের সঙ্গে আমি পরিচিত হই। নেপোলিয়নের জন্মের সাত বছর পূর্বে রুশো লিখেছিলেন যে “কসিকা দ্বীপটি একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ হলেও একদিন এই দ্বীপটি সমস্ত ইউরোপকে অবাক করবে।” রুশো এই দ্বীপবাসীর স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষদের কথা ভেবেই এটা লিখেছিলেন। পৃথিবীতে মহৎ ব্যক্তিদের শৈশব জীবন উল্লেখযোগ্য হয়। নেপোলিয়নের শৈশব জীবনই উল্লেখযোগ্য ছিল। তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। কিন্তু আমাকে উদ্বেলিত করতো সেন্ট এলবা দ্বীপে নেপোলিয়নের বন্দীদশার কাহিনী। এই বন্দীদশা থেকে কি করে নেপোলিয়ন বেরিয়ে এলেন সে এক বিস্ময়করকাহিনী। কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টো’তে এ কাহিনীর কিছু আভাস আছে।
বর্তমান কালটি পৃথিবীতে সম্ভবত একক ব্যক্তিত্বের বীরত্ব প্রকাশের কাল নয়। পৃথিবীর কোথাও কোনো মহিমাময় পুরুষকে আমরা দেখি না। যে অর্থে নেপোলিয়ন একটি সৌভাগ্যের প্রদীপের মতো ছিলেন। এখনকার দিনের প্রত্যহ সে সৌভাগ্যকে নির্মাণ করে না। তাই আমরা অতীতের কাহিনীর মধ্যে সংবেদন অনুসন্ধান করি এবং স্বস্তিকে খুঁজে পাই। অন্ততপক্ষে আর কিছু হোক না হোক দেশপ্রেমের একটি উদ্বেলিত অনুভূতির পরিচয় তো পাই। অতীতের দরজা খুললে এ সমস্ত কাহিনীগুলো বিপুল পরাক্রমে আমাদের বর্তমানকে গ্রাস করতে চায়। বোধহয় এটাও একটা কারণ যে অতীতের বিপুলতা আমাদের বর্তমানের স্বল্পতাকে আরো স্বল্প করে তোলে এবং আমরা কোনো বিরাটের জন্ম দিতে অপারগ হই।
সে সময় রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতায় পড়েছিলাম যে একজন প্রার্থী রাজপুরুষ পথ দিয়ে যাবে শুনে পথের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল। তার বিশ্বাস ছিল রাজপুরুষের কাছ থেকে সে অতুল ঐশ্বর্য লাভ করবে। রাজপুরুষ যেতে যেতে সে তার রথ থামালো প্রার্থীর সামনে। প্রার্থী ভাবলো এখনই রাজপুরুষের দানে সে ঐশ্বর্যশালী হবে। কিন্তু দেখা গেল যে রাজপুরুষই প্রার্থীর সামনে হাত বাড়িয়ে বলছে আমায় দাওগো কিছু। দরিদ্র প্রার্থী কি দিতে পারে বিশেষ করে রাজপুরুষকে? সে দ্বিধাগ্রস্ত চিত্তে তার ঝুড়ি থেকে একটি তন্ডল কণা রাজপুরুষকে দিল। গৃহে প্রত্যাগমন করে সে দেখলো যে তার ঝুড়ির মধ্যে সেই তণ্ডুল কণার পরিবর্তে একটি স্বর্ণকণা পড়ে রয়েছে। সে তখন হাহাকার করে উঠল। নিজের মনে বলতে লাগলো কেন সে রাজভিখিরিকে তার সমস্ত ঝুড়ি উজাড় করে দেয়নি? এই কবিতা আমার খুব ভালো লেগেছিল। কবিতাটির কথা আমাদের বাংলা শিক্ষক অলীন্দ্র চক্রবর্তীকে বলাতে তিনি ভাগ্য সম্পর্কে একটি বিদেশী কাহিনী আমাকে শুনিয়েছিলেন।
এক দেশে দুই ভাই ছিল। এক ভাই ছিল খুবই নিষ্ঠাবান এবং পরিশ্রমী। কিন্তু দরিদ্র এবং অসহায়। অন্যজন ছিল অসম্ভব অলস কিন্তু বিপুল বিত্তের অধিকারী। যে নিষ্ঠাবান এবং কর্মতৎপর সে বারবার নিজেকে প্রশ্ন করে কেন তার এই দুর্দশা কিন্তু কোনো উত্তর খুঁজে পায় না। একদিন দুঃখে ম্রিয়মান হয়ে সে পথে বেরিয়ে পড়ল। দূরে একটি গমের ক্ষেতে একটি অপূর্ব সুন্দরী বালিকাকে দেখল। বালিকাটি স্বর্ণতন্তু বয়ন করছিল। তার সমস্ত অবয়ব থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। নিষ্ঠাবান লোকটি জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? মেয়েটি বলল আমি তোমার ভাইয়ের ভাগ্য। লোকটি প্রশ্ন করলো, কিন্তু আমার ভাগ্য কোথায়?' মেয়েটি উত্তরে বলল, তুমি আরো এগিয়ে যাও পথে তোমার ভাগ্যের সঙ্গে দেখা হবে।' লোকটি এগিয়ে যেতে যেতে জীর্ণ বস্ত্র পরিহিতা এক বৃদ্ধাকে দেখল। জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? বৃদ্ধ বলল, আমি তোমার ভাগ্য।' লোকটি হাহাকার করে উঠল, বলল তুমি তো ভাল নও, তুমি তো দুর্ভাগ্য। বৃদ্ধা বলল, আমি তোমারই ভাগ্য কিন্তু ভাগ্যকে যদি খুঁজতে চাও তাহলে তোমার আরো এগিয়ে যেতে হবে। লোকটি বহু পথ এগিয়ে গেল। সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে সে একটি বনখণ্ডের সম্মুখে এল। সেখানে দেখল একটি বিরাট অট্টালিকা। অট্টালিকা বৃহৎ বটে কিন্তু জীর্ণ। দেয়াল ভেঙ্গে পড়ছে। সর্বত্রই মলিনতার ছাপ। অট্টালিকার অভ্যন্তর থেকে একটি সুন্দরী কিন্তু মলিন রমণী বেরিয়ে এল। লোকটি জিজ্ঞেস করল ‘তুমি কে?' মেয়েটি বলল আমি ভাগ্য। আমার দুটি রূপ আছে একটি উজ্জ্বল একটি মলিন। যখন আমার উজ্জ্বল রূপ থাকে তখন পৃথিবীতে যাদের জন্ম হয় তারা সৌভাগ্যশালী হয়, কিন্তু যখন আমার মলিন রূপ আসে তখন যাদের জন্ম হয় তারা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়। আমার যখন মলিন রূপ ছিল তখন তোমার জন্ম হয়েছিল তাই তুমি ভাগ্যাহত। লোকটি বলল ‘এই অবস্থার কি পরিবর্তন করা সম্ভবপর নয়?' মেয়েটি বলল, আমার উজ্জ্বল মুহূর্তে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের কারো সঙ্গে যদি তোমার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারো তাহলে তোমার ভাগ্য ফিরবে। তোমার বোনের এক মেয়ে আছে, তার ভাগ্য শুভ। তার সঙ্গে তুমি তোমার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারো। লোকটি তার বোনের মেয়েকে নিয়ে ঘরে ফিরল এবং ঘোষণা করলো যে তার স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি তার বোনের মেয়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সে ঐশ্বর্যের বরাভয় গেল। তার ভূট্টা এবং গমের ক্ষেত সোনালী ফসলে ভরে গেল। আপেল গাছগুলি ফলভীরে নুয়ে পড়ল জলপাই গাছগুলি সবুজ ফলে টলটল করতে লাগল। একদিন লোকটি আনন্দচিত্তে তার শস্য ক্ষেত্রে উদ্বেল শোভা নিরীক্ষণ করছিল। এমন সময় সেখানে একজন বিদেশী পথিক এল। পথিক জিজ্ঞেস করল, ‘শস্যে সমৃদ্ধ এ ক্ষেতগুলো কার? লোকটি গর্বের সঙ্গে বলল আমার। যেই মাত্র বলা অমনি বাতাস এল। হঠাৎ কোথেকে আগুন এবং সমস্ত ক্ষেত ভস্মীভূত হল। লোকটি তখন চিৎকার করে বলতে লাগল, না না এ ক্ষেতগুলো আমার নয়, আমার বোনের মেয়ের। তখন আগুন নিভে গেল এবং আবার শস্যের উদগম ঘটল।
গল্পটা বলে অলীন্দ্র চক্রবর্তী হাসলেন, বললেন, ‘গল্পটির তাৎপর্য হচ্ছে যে মানুষের ভাগ্য কখন কিভাবে কোন রূপে প্রকাশিত হয় তা মানুষ জানে না। ভাগ্যের একটি আকস্মিকতা আছে। মানুষের ইচ্ছা অনুসারে তার ভাগ্য গড়ে ওঠে না। সুতরাং পৃথিবীতে মানুষের কর্তব্য হচ্ছে সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য কিছুই আশা না করা। কিন্তু ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য কর্তব্যে নিযুক্ত থাকা। বাড়িতে এসে বাবাকে এ কথাগুলো বলাতে তিনি বলেছিলেন, মানুষের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মান্য করা এবং সততায় আপন কর্মে লিপ্ত থেকে স্বস্তিতে বসবাস করা। দুঃখ এবং সুখ কোনটাই জীবনের নিয়ামক নয়। জীবনের নিয়ামক হচ্ছে মানুষের কর্মপ্রবৃত্তির বিশুদ্ধতা। দুনিয়ার যাবতীয় কিছু এই সাক্ষ্যই প্রদান করে যে তাদের স্রষ্টা এবং নির্দেশ দানকারী একমাত্র আল্লাহ যিনি সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান। মানুষের কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর করুণা লাভ করা এবং তার কৃপার মধ্যে বসবাস করা। পৃথিবীতে কোনো কিছুই নিজের চেষ্টায় কর্মময় কিংবা গতিমান নয়। সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য এই দুটি একই পদকের এদিক ওদিক। মানুষ পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে যখন আত্মসমর্পণ করে তখন তার কোনো অভিযোগ থাকে না। সবকিছু থেকে নিজেকে পৃথক করতে হবে-সৌভাগ্য থেকেও এবং দুর্ভাগ্য থেকেও। তা হলেই আত্মসমর্পণ সম্ভবপর হবে।
বাবার কথাগুলো আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম। তিনি সর্বদাই নিশ্চিন্তায় একটি নির্ভাবনাময় অবস্থায় বাস করতেন। কোনো দিন কোনো বিপদে তাকে হতাশ হতে দেখিনি অথবা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখিনি। তিনি অসুস্থ হলেও বাড়ির কাউকে বিব্রত করতেন না।একটি বিনম্ন অভিযোগহীন জীবন তিনি যাপন করে গেছেন। আমাকে কোনো দিন বলেননি কি করতে হবে কি না করতে হবে। প্রয়োজনবোধে গল্প বলেছেন আগেকার দিনের মানুষের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এবং তাদের জীবন-যাপন প্রণালীর কথা বলেছেন। একদিন তিনি বলেছিলেন কেয়ামতের দিন পথভ্রষ্ট মানুষ তপ্ত অগ্নি দেখে শয়তানকে দায়ী করবে তখন শয়তানজবাব দেবে ‘তোমার উপর আমার তো কোনো জোর ছিল না। আমার পথে চলার জন্য তোমাকে আমি ডেকেছিলাম এর বেশী আমি কিছু করিনি। তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। সুতরাং দোষ তো তোমার। নিজের কাজের জন্য নিজেকেই তোমার দোষারোপ করতে হবে। বাবা আরো বলতেন মানুষের সামনে সর্বদাই দুটি পথ থাকে- একটি ন্যায় পথ অন্যটি অন্যায় পথ। ন্যায় পথে চলতে মানুষকে কেউ তো বাধা দেয় না। মানুষ নিজেই পাপের পথ বেছে নেয়। বাবা এই সমস্ত কথা বলে আমাকে শুধু বলতেন আল্লাহ হচ্ছেন রহমান অর্থাৎ করুণাময়। আমরা তো তারই চিরদাস। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হচ্ছে বিনয় এবং বিনীত ভাবে পৃথিবীর পথে চলা। সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যের কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। জীবনে কর্তব্যনিষ্ঠাই আমাদের পথপ্রদর্শক হবে।
(চলবে...)