ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
বাগান বাড়িটি নজর কাড়ে পথচারীদের
Published : Sunday, 13 March, 2022 at 12:00 AM, Update: 13.03.2022 1:14:51 AM
বাগান বাড়িটি নজর কাড়ে পথচারীদেরমো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর ||
গত দু’বছরের লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে লাগানো হয়েছে নানান প্রজাতির গাছ। নিজ প্রচেষ্টায় বাড়ির আশ-পাশের এক একর জমিতে গড়ে তুলেছেন নজরকাড়া এক কৃষি খামার। এতে রয়েছে ৪০ রকমের সবজি, ফুল, ফল ও ঔষুধী গাছের সমারোহ। বাড়িতে ঢুকতেই নজড়ে পড়ে পুকুর। যার এক পাশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘাটলা। পুকরের উত্তর পূর্ব কনারে সবুজের মেলায় সাজানো বাড়িটি। খুব কাছে না গেলে বাড়িটি নজড়ে পড়ে না। পুকুর ও বাড়ির চার পাশে রয়েছে, আম, জাম, কাঁঠাল, নারিকেল, লিচু, মাল্টা, লেবু, কামরাঙ্গা, আমড়া, পেঁপে, বড়ই, পেয়ারা, বিলম্বি, আঙুর, অলবরি, চালতা, জাম্বুরা, বেল, হরতকি, তেতুল, বিলাতি গাব। সব্জির মধ্যে রয়েছে, মরিচ, লাউ, করলা, সজিনা, কুমড়া, ভেন্ডি, বেগুন, অ্যালোভেরা। রয়েছে গোলাপ, গাঁধা, বেলী, জবা, হাসনাহেনা ফুলসহ নানা জাতের গাছ। সব মিলিয়ে বাগান বাড়িটি নজর কাড়ে পথচারীদের।  
খামারটি করেছেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বলিঘর গ্রামের কৃতিসন্তান গোলাম কিবরিয়া সরকার। তিনি একজন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। শত ব্যস্ততার মাঝেও নারীর টানে মাঝে মাঝে বাড়িতে আসেন তিনি। বাড়িতে আসলেই নিজেকে মনোনিবেশ করেন গাছ লাগানোতে। গত দু’বছরের লকডাউনের লম্বা সময়টাই কাটান বাড়িতে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে গড়ে তোলেন দৃষ্টিনন্দন এ কৃষি খামার।
সবকিছু সামলিয়ে এত সুন্দর কৃষি খামার কিভাবে গড়ে তুলেছেন জানতে চাইলে গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। আমি যখনই বাড়িতে আসি, তখনই কিছু না কিছু গাছ লাগানোর চেষ্টা করি। গত লকডাউনের পুরোটা সময়ই আমি কৃষি খামারের পিছনে ব্যয় করি। যার সুফল আমি ধীরে ধীরে পেতে শুরু করেছি। উৎপাদিত ফল ও সবজি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদেরও বিতরণ করি। আমি গত এক বছরে কোন সবজির জন্য বাজারে যাইনি। ২২ বিঘা, ১৫ বিঘা ও ১০ বিঘা জমি কেটে তিনটি মাছ চাষের পুকুর করেছি। মাছগুলো স্বাভাবিক পদ্ধতিতে বেড়ে ওঠে। এখানেও কিছু লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, আমরা দেখেছি গোলাম কিবরিয়া সরকার পরিবেশের প্রতি যত্নশীল। নীজ বাড়ি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ঈদগাহ এবং রাস্তার পাশে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগিয়েছেন। শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের প্রতিও তিনি অনেক উদার। করোনাকালীন সময়ে পাঁচশত পরিবারকে দিয়েছেন এক মাসের খাবার। এছাড়াও যে কোন বিপদ আপদে মানুষ তাকে কাছে পায়।  
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষায় রয়েছে গোলাম কিবরিয়া সরকারের বিশাল অবদান। যার স্বাক্ষর রেখে প্রতিষ্ঠা করেছেন, বলিঘর হুজুরি শাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়, পাক বলিঘর দাখিল মাদরাসা, মেটংঘর ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্রগ্রাম ফলোয়ার ফলো স্কুল এন্ড কলেজ। দাতা সদস্য বাঁশকাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ডিগ্রি কলেজ, সাতমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফতেহপুর কেজি উচ্চ বিদ্যালয়, টনকী হানিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়, শাহেদাগোপ ফোরকানিয়া মাদরাসা, বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়, ফরমার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কুড়ের পাড় আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। তিনি বলিঘর কমিউনিটি ক্লিনিক এর নিঃস্বার্থ জমিদাতা। আজীবন সদস্য চট্রগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, ঔষুধী ও সবজির গাছ দিয়ে অসাধারণ এক বাড়ি সাজিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া সরকার। কেউ যদি ওনার মতো করে পরিত্যাক্ত জমিতে এমন বাগান সাজাতে চায়, তাহলে আমাদের লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবে।