ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
প্রান্তজনের ডিজিটাল মোবাইল আর্থিক সেবার দশ বছর
Published : Sunday, 13 March, 2022 at 12:00 AM
প্রান্তজনের ডিজিটাল মোবাইল আর্থিক সেবার দশ বছরড. আতিউর রহমান ||
এ শতাব্দীর প্রথম দশকেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রককেন্দ্রিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের এক নবজাগরণ ঘটেছে। আর্থিক সেবা খাতের প্রথাগত সীমার বাইরে গিয়ে সামাজিক পিরামিডের পাটাতনের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রেখে টেকসই প্রবৃদ্ধি বেগবান করাই উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের মূল কথা।
বাংলাদেশ এই ধারার ব্যাংকিংয়ে ‘পাইওনিয়ার’ বা অগ্রগামী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ওই সময়টায় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলাম বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। সে সময়ে আমাদের মূল চেষ্টা ছিল ‘রিয়েল ইকোনমি’তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সচরাচর আর্থিক সেবার আওতার বাইরে থাকেন যে প্রান্তিক গ্রাহকরা (বিশেষত যারা কৃষি, এমএসএমই এবং নারী উদ্যোক্তা) তাদের দোরগোড়ায় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। এতে একদিকে তাদের জীবনমানের যেমন টেকসই উন্নয়ন হয়, অন্যদিকে ভোগ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাও বাড়ে, বাড়ে কর্মসংস্থান। বলতে দ্বিধা নেই যে, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের যথাযথ নীতি-সহায়তা পাওয়ার ফলে আমাদের সেই প্রচেষ্টা থেকে আশাতীত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রাখা গেছে।
প্রান্তজনের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও দক্ষ উপায় হিসেবে আমরা সে সময় ডিজিটাল প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছিলাম। সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটালাইজেশন খাতে ব্যাপক রূপান্তর ঘটাতে হয়েছে। সে মতেই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস তথা এমএফএস বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে এক দশক আগে। গোটা বিশ্বেই তখন বলা যায় এমএফএস নতুন। এর মধ্যেও আমরা যে ‘ব্যাংক লেড মডেল’-এর ওপর ভিত্তি করে এ দেশে এমএফএস সেবা শুরু করেছিলাম তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। তাই যাত্রা শুরুর অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এর ব্যাপক প্রসারে অবাক হইনি। তবে সার্বিকভাবে আমাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অভিযানের এবং বিশেষভাবে এমএএফএস ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের সুফলগুলো খালি চোখে সবচেয়ে দৃশ্যমান হয়েছে সম্ভবত করোনা মহামারির কালেই।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-এর মার্চ থেকে (অর্থাৎ যখন থেকে করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলো) গেল বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মোট এমএফএস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৮ কোটি ২৬ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ (অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি নতুন অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে)। তার মানে এই সময়ে এই অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ৩৫%।
এটা তো বোঝাই যাচ্ছে যে, করোনাকালের বিপর্যয়ের মধ্যে এমএফএস এ দেশের মানুষের জন্য বড় সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যেহেতু গোড়াতে প্রান্তজনের কাছে সুলভে এবং সহজে আর্থিক সেবা পৌঁছানোর চিন্তা থেকেই আমরা এমএফএস-এর সূচনা করেছিলাম, তাই এ সময়ে চরে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষদের জীবনে এমএফএস কেমন ভূমিকা রেখেছে তা জানার বিশেষ আগ্রহ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এ নিয়ে আরও ব্যাপকভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ এবং বৃহত্তর জরিপের ভিত্তিতে গবেষণা নিশ্চয়ই অচিরেই হবে। তবে সংক্ষিপ্ত কলেবরে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে একটি ধারণা পাওয়ার লক্ষ্য থেকে আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয় থেকে একটি গবেষক দল সম্প্রতি চরাঞ্চল সফর করেছেন এবং সেখানে এমএফএস সেবার ধরন বিষয়ে ধারণা নিয়ে এসেছেন। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এখানে লিখছি।
প্রত্যাশা যেমন ছিল আমরা তেমনটিই দেখেছি যে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও এমএফএস সেবার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। চরবাসী নিজেরা তা অনুধাবনও করছেন। এমএফএস-কে সাদরে গ্রহণও করছেন। তবে এই সেবার সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার পেছনে যে নিয়ামকগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে সেগুলো হলো- প্রথমত, চরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে যাওয়া; দ্বিতীয়ত, সেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক থাকা; এবং সর্বোপরি চরবাসীর সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ঘটার ফলে মানসম্মত আর্থিক সেবা ও অন্যান্য সেবার চাহিদা বৃদ্ধি। ফলে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, চরে এমএফএস-এর বিস্তারে নিবেদিত আর্থিক সেবাদাতারা ছাড়াও সরকারি ও অসরকারি অংশীজনরাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কাজেই এটাও বোঝা যায় যে, সব প্রান্তিক অঞ্চলে এখনো বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক ইত্যাদি পরিস্থিতি অতটা উন্নত করা যায়নি, সেখানে এমএফএস বিস্তারের বিরাট সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
আমাদের পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে যে, চরের দরিদ্র মানুষরা মূলত অন্য কারও পাঠানো টাকা উত্তোলনের জন্যই এমএফএস ব্যবহার করে থাকেন। এই সেবার অন্য দিকগুলোর ব্যবহারের সুযোগ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই পাঠানো টাকা সহজে উত্তোলনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তাতেই চরবাসীর জীবন অনেক সহজতর হয়ে উঠেছে। মূল ভূখণ্ডে বা আরও দূরে বড় শহরে থাকা আত্মীয়-পরিজনরা চরবাসীদের কাছে চাহিদা মতো যখন খুশি তখন যে টাকা পাঠাতে পারছেন তাতে চরবাসীর আর্থিক নিরাপত্তা বহুলাংশে বেড়েছে তা খোলা চোখেই দেখা যায়। একই সঙ্গে বেড়েছে খাদ্যসহ ভোগের স্থিতিশীলতা। ঋতুভিত্তিক দারিদ্র্য নিরসনে এই আর্থিক প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। করোনাকালে যখন যাতায়াত হঠাৎ সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল তখনো এমএফএস-এর কল্যাণে সহজে টাকা গ্রহণ করা চরবাসীর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার ফলে এমএফএস-এর ওপর চরবাসীর আস্থা আরও বেড়েছে। অনেকে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। কেউ কেউ এমএফএস এজেন্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে স্মার্টফোন কিনে এমএফএস-এর অ্যাপ নিজে নিজেই ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। চরবাসীদের ভাষায় বলা যায়, এমএফএসগুলো ‘করোনার পরীক্ষায় পাস’ করেছে।
এমএফএস এজেন্টের ওপর নির্ভরশীলতার প্রসঙ্গে যে দিকটি আলাদাভাবে উল্লেখ্য তা হলো দরিদ্র চরবাসী এমএফএস সেবার খুঁটিনাটির জন্য প্রধানত এজেন্টদের ডিজিটাল প্রযুক্তিসংক্রান্ত জ্ঞানের ওপরই নির্ভরশীল। নিজে নিজে অ্যাপ চালিয়ে এমএফএস ব্যবহারের মতো চরবাসীর অনুপাত কমই হওয়ার কথা। বাস্তবেই তাই লক্ষ করা গেছে। তা ছাড়া দরিদ্র চরবাসী সবার পক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহারের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এতে অন্য যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো চরাঞ্চলে এমএফএস ইকো-সিস্টেমে সামাজিক পুঁজি একটি বড় ভূমিকা রাখছে বলেই মনে হচ্ছে। এজেন্ট যারা হন তারা চরবাসীদেরই পরিচিত মুখ। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে বোঝাপড়ার কমতি থাকলেও এই এজেন্টদের ওপর ভরসা রেখেই তারা এমএফএস সেবা গ্রহণ করছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, করোনাকালে সরকারের দেওয়া সহায়তা যখন এমএফএস-এর মাধ্যমে দেওয়া হলো তখন এই চরবাসীরা দল বেঁধে এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলেছেন আর পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন এজেন্টরাই। এখনো সরকারি সহায়তার টাকা বা কোনো নির্দেশনা এসএমএস হিসেবে এলে চরবাসীরা সেটা নিয়ে এজেন্টদের কাছেই যান করণীয় জানতে।
চরাঞ্চলে এজেন্টরা একেকজন অ-কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন। বলে রাখা ভালো ২০২০-এর মার্চ থেকে ২০২১-এর শেষ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে এজেন্টের সংখ্যা দশ লাখের কম থেকে বেড়ে এগারো লাখে ঠেকেছে। এমএফএস-এর ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেকেই এখন এজেন্ট হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে বলা যায়, আগামীতে এজেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আরও বেশিসংখ্যক চরবাসীর জন্য আর্থিক সেবা তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আর প্রত্যেক এজেন্টের সঙ্গে এক বা আরও বেশি কর্মী কর্মরত আছেন। তাই এজেন্ট সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রসারও ঘটছে।
আমাদের পর্যবেক্ষণে যে বিষয়টি আসলেই অবাক করার মতো তা হলো- এই করোনাকালে সচরাচর বড় শহর থেকে প্রান্তে টাকা পাঠানোর যে ধারা আমরা দেখে থাকি, তার একটি বিপরীত স্রোত স্বল্পকালের জন্য হলেও কোথাও কোথাও দেখা গেছে। আমরা দেখেছি শহরে বস্তিবাসী যে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষরা নিয়মিত গ্রামাঞ্চলে এমএফএস-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছিলেন লকডাউনে কাজ হারিয়ে তারা বিপাকে পড়ে যান। এদের মধ্যে বেশিরভাগই হয়তো গ্রামে ফিরে গেছেন কিছুকালের জন্য। কিন্তু অল্প হলেও এমন ঘটনা আছে যেখানে শহরবাসী অনানুষ্ঠানিক শ্রমিককে গ্রামের পরিজনরা এমএফএস-এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন যাতে তিনি বিপদের সময়টা পাড়ি দিতে পারেন। অর্থাৎ নিয়মিত গ্রামে টাকা পাঠিয়ে শহরবাসী মানুষটি পরিবারে যে সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে পেরেছেন, করোনাকালে তার সুফল তিনি শহরে বসেই পেয়েছেন। আমার মতে, এ বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আকারে গবেষণা করা দরকার।
এমএফএস সেবার উদ্ভাবনী উদ্যোগ কিন্তু থেমে নেই। একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে মিলে একটি এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ‘ডিজিটাল ন্যানো লোন’ কার্যক্রম শুরু করে সাফল্য পাচ্ছে। এনবিএফআই আর এমএফএস সেবাদাতা একত্রে এমএফএস ব্যবহারকারীদের জন্য সঞ্চয়ের স্কিম নিয়েও এগিয়ে এসেছেন। ছোট দোকান থেকে যারা কেনাকাটা করেন তারাও যেন এমএফএস-এর মাধ্যমে দাম পরিশোধ করতে পারেন সে জন্যও একটি স্কিম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ চরেও গ্রাহকপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি। করোনাকালে সরকারি সহায়তা এমএফএস-এর মাধ্যমে দেওয়ায় প্রান্তিক মানুষদের অনেকে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তবে তাদের এমএফএস ব্যবহার ওই সাহায্য উত্তোলনেই সীমাবদ্ধ আছে।
তাই ২০২১ সালের শেষ নাগাদ হিসাব বলছে, মোট নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ১১ কোটি হলেও চালু অ্যাকাউন্ট মাত্র ৪ কোটির মতো। তবে আমি এটিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখি। যারা কেবল সরকারি সাহায্যের জন্য এখানে নিবন্ধন করেছেন তাদের যদি অন্যান্য কাজেও এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারে উদ্যোগী করা যায় তাতে এমএফএস-এর বিকাশ আরও বেগবান নিশ্চয়ই করা যাবে। আমার মনে হয়, যথাযথ নীতি-মনোযোগ দিয়ে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা করা গেলে এমএফএস-এ আমাদের সাফল্য মাইক্রোফাইন্যান্সে আমাদের অর্জনের মতোই বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

তা ছাড়া মাইক্রোফাইন্যান্সে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোও এমএফএস ব্যবহার করে তাদের কিস্তি সংগ্রহ এবং ঋণ প্রদানের কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে ডিজিটালি করতে পারবে বলে আশা করি। প্রান্তের মানুষ এই আর্থিক সেবাটি পেয়ে দারুণ খুশি। তারা মনে করে এটি না থাকলে শহরে গিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হতো। সময়ের অপচয় ও আসা-যাওয়ার খরচ মিলিয়ে তারা ঠিকই হিসাব করে দেখেন যে, এমএফএস বাবদ দেয় খরচ ঢের সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যে অভিযানটি শুরু করেছিল এক যুগের মতো সময় আগে তা ধীরে ধীরে যেভাবে বিকশিত হচ্ছে তা সত্যি দেখার মতো। উপযুক্ত উদ্ভাবনে সমর্থন দিয়ে এই সেবাকে আরও গ্রাহকবান্ধব এবং জবাবদিহিমূলক করার যে প্রচেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংক শুরু থেকে করে যাচ্ছে তার প্রশংসা করতেই হয়। এই সেবা কতিপয়ের জন্য নয়। এই সেবা সবার জন্য। মানবিক অর্থায়নের এই কর্মধারা আরও বেগবান হোক সেই প্রত্যাশাই করছি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সব অংশীজনকে এই সেবার দশ বছর পূর্তিতে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

ড. আতিউর রহমান : চেয়ারপারসন, উন্নয়ন সমন্বয় ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক