
শুরুর
দিকে রহমতগঞ্জ ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। বেশ কয়েকবার আক্রমণে গিয়েছিল ঠিকই,
কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। আবাহনী অবশ্য প্রথমার্ধের শেষ দিকে গুছিয়ে
ওঠে ঝড় বইয়ে দিয়েছে তাদের ওপর। মাত্র ৫ মিনিটের তাণ্ডবে আকাশি-নীল
জার্সিধারিরা পুরনো ঢাকার দলটিকে উড়িয়ে দিয়েছে। রহমতগঞ্জকে ৩-০ গোলে
হারিয়েছে আবাহনী।
বলতে গেলে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন গোমেজ
একাই তাণ্ডব চালিয়েছেন। রবিবার প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে প্রথম হ্যাটট্রিকও
পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী।
এটা আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দোরিয়েন্তনের পায়ে বল
মানে গোলের ফোয়ারা। লিগের দুটি ম্যাচেই গোল পেয়েছেন।পায়ের জাদু দেখালেন
তৃতীয় ম্যাচেও। একের পর এক নিঁখুত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়েছেন।
তাকে যোগ্য সমর্থন করে গেছেন কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিনদ্রেস।
তাদের যুগলবন্দীতেই লিগে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে আবাহনী।
টঙ্গীর শহীদ
আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে আবাহনী একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
রাকিব হোসেনের জায়গায় নামেন তরুণ মিডফিল্ডার আবু সাইদ।
ম্যাচের শুরুতে
গোলও পেতে পারতো তারা! কিন্তু কলিনদ্রেসের নেওয়া শট চলে যায় পোস্টের বাইরে
দিয়ে। এরপর আধিপত্য ধরে খেলার চেষ্টা করেছে রহমতগঞ্জ। একপর্যায়ে তো মনে
হয়েছিল তাদের গোল পাওয়া সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পরে দেখা গেছে কোনও সময়
ক্রসবার কিংবা নিজেদের ব্যর্থতায় গোল পাওয়া হয়নি। যেমনটি হয়েছে ৮ মিনিটে।
মেহবুব হোসেন নয়নের জোরালো শট ক্রস বারের ওপর দিয়ে চলে গেছে। পরের মিনিটে
তাদের একজনের প্রচেষ্টা আবাহনীর গোলকিপার ফেরালেও বল ঘুরে আসে সানোয়ার
হোসেনের পায়ে। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না বলে এই মিডফিল্ডারের জোরালো শট
ক্রস বারে লেগে হতাশ হতে হয় রহমতগঞ্জকে।২১ মিনিটে সিওভুশ আশররোভের
ফ্রি-কিকও আবাহনী গোলকিপার ডান দিক দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে রক্ষা করেছেন।
রহমতগঞ্জের
ব্যর্থতার বিপরীতে আবাহনী নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে শেষ দিকে। তাতে সুযোগও আসে
৩৯ মিনিটে। কিন্তু সুশান্ত ত্রিপুরার থ্রো-ইনে জীবন লক্ষ্যে হেড নিলেও সেটি
ফিরিয়ে দিয়েছেন রহমতগঞ্জ গোলকিপার।
পরের মিনিটে আবাহনীকে আর পেছনে ফিরে
তাকাতে হয়নি।৪০ মিনিটে কলিনদ্রেসের কর্নারে দোরিয়েন্তনের হেড ডিফেন্ডার
ওয়ালি ফয়সালের পায়ের ফাঁক গলে জড়িয়ে যায় জালে।
৪৩ মিনিটে স্কোরলাইন হয়
২-০। কলিনদ্রেসের পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে গোলকিপারের পাশ দিয়ে
জাল কাঁপান দোরিয়েন্তন। যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকও করেন তিনি। ফাঁকায় থেকে
বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারকে কাটিয়ে ডান পায়ের নিঁখুত প্লেসিংয়ে গোলটি
করেন দোরিয়েন্তন।
৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে আবাহনী ব্যবধান আরও বাড়ানোর
চেষ্টা করে পরে। হয়তো গত আসরের ৬-০ গোলে জেতা ম্যাচটি থেকে প্রেরণা নিতে
চেয়েছিল। কিন্তু সফল হতে পারেননি কলিনদ্রেস-জীবনরা। তাদের একের পর এক
প্রচেষ্টা রহমতগঞ্জ গোলকিপার তুষার নস্যাৎ করে দিয়েছেন। বিপরীতে ৭৩ মিনিটে
সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে রহমতগঞ্জ। পেনাল্টি পেয়েও পোস্টের বাইরে দিয়ে বল
মেরে ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট করেছেন সানডে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ স্কোর লাইন
রেখেই আবাহনী মাঠ ছেড়েছে।