
বাংলাদেশের
বাজার ব্যবস্থাপনা মোটেই সংগঠিত নয়। এর সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। কোনো
কোনো সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশের বাজারে একটি অদৃশ্য অথচ সক্রিয় সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়।
এই
সিন্ডিকেট বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন কথাও চালু আছে। বাজারে পণ্যের মূল্য
কখন বাড়বে বা কমবে, তা নির্ভর করে মূলত ব্যবসায়ীদের ওপর। পণ্যমূল্য
নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে।
এপ্রিল
মাসে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। চাহিদার সঙ্গে সরবরাহ শিকলে কোনো
বিঘ্ন না ঘটলেও শবেবরাত ও রোজা এলে বাজারে ভোগ্য পণ্যের বাজারে জিনিসপত্রের
দাম বেড়ে যায়। রোজার মাসে বেশি প্রয়োজন পড়ে এমন ভোগ্য পণ্য আমদানি করা হয়।
জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, এবারও রোজা সামনে রেখে
ব্যবসায়ীদের গুদামে পৌঁছতে শুরু করেছে আমদানি করা ভোগ্য পণ্য। ব্যবসায়ীদের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ছোলা, ভোজ্য তেল, চিনি ও
মসুর ডালের প্রচুর সরবরাহ আছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কোনো ঘাটতি থাকার
কথা নয়। কিন্তু তার পরও কি রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে?
এই
নিশ্চয়তা ব্যবসায়ীরাও দিতে পারেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার
অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছেন। অনেক আমদানিকারকের ছোলা এখন
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে নামছে। আগের বছরেরও অবিক্রীত
প্রচুর ছোলা রয়ে গেছে। কিন্তু তার পরও রমজানে ছোলার দাম বাড়বে না—এমন
নিশ্চয়তা নেই। গত ছয় মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে চিনির দাম বেড়েছে প্রতি মণে
৪০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন চিনির দাম কমলেও তার সুফল পড়েনি দেশের
বাজারে।
বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থাপনা মোটেই সংগঠিত নয়। আর সে কারণেই
বাজার নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে
সমান্তরাল একটি বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা কি খুব কঠিন? অন্তত টিসিবির বর্তমান
বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরো বিস্তৃত করা যেতে পারে। সেটা রোজা শুরুর এক মাস
আগে থেকেই করা দরকার। গত বুধবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, এবার রমজানে
আরো সক্রিয় হবে টিসিবি। ঈদে প্রধানমন্ত্রীর নগদ শুভেচ্ছা উপহার পাওয়া ৩৮
লাখের বেশি তৃণমূলের মানুষের তালিকা কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে টিসিবির
সেবা পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।
বাজারের নিয়ন্ত্রণ সরকার নিতে না পারলে কোনোভাবেই পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হবে না। কাজেই সরকারকে মূল ভূমিকা নিতে হবে।