
সিলেটে
শেষ ম্যাচেই রানে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মঈন আলী। এরই ধারাবাহিকতায়
শুক্রবার খেললেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। ১ চার ও ৯ ছক্কায় ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস
উপহার দিয়েছেন। মঈনের ব্যাটে ভর করেই ১৮৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল কুমিল্লা
ভিক্টোরিয়ানস। কঠিন এই চ্যালেঞ্জ উতরাতে গিয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে খুলনা
টাইগার্স। ৩ বল আগে ১২৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে মুশফিকের দল। তাতে ৬৫ রানের
জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে কুমিল্লা।
এখন শনিবার খুলনার
বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ম্যাচটি হারলেও প্রথম কোয়ালিফায়ার হাতছাড়া হচ্ছে
না কুমিল্লার। ব্যাট হাতে তাণ্ডবের পর বোলিংয়ে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা
হয়েছেন মঈন আলী।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্লে-অফ নিশ্চিত করতে
খুলনার জন্য ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণই ছিল। কিন্তু ১৮৯ রানের বড় লক্ষ্যে
খেলতে নেমে খুলনার ক্রিকেটারদের সেই তাড়না দেখা যায়নি। গত কয়েক ম্যাচ ধরে
রান খরায় ভুগছে টপ অর্ডার। যার প্রভাব পড়েছে দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে।
শুরুতে ১৭ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। তিন নম্বরে খেলা সৌম্য ২৫ বল
খেললেও নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন। ২৫ বলে ২২ রান করে আউট হয়েছেন এই ব্যাটার।
অধিনায়ক মুশফিক সাজঘরে ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই। সবমিলিয়ে মুশফিকরা
পুরো ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে জ্বলে উঠতে পারেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান
করেছেন থিসারা পেরেরা, ২৬। শেষ পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখে ১২৩ রানে অলআউট
হয়েছে খুলনা।
কুমিল্লার সেরা বোলার ছিলেন আবু হায়দার। ১৯ রাতে তিনটি
উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। এছাড়া মোস্তাফিজ, নাহিদুল, মঈন আলী দুটি করে উইকেট
নিয়েছেন।
এই হারে খুলনা টাইগার্স প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা কঠিন করে
ফেলেছে। শনিবার একই দলের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ওই ম্যাচে জিতলেই হবে না। শনিবার দিনের প্রথম
ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে চট্টগ্রামের হারও কামনা করতে হবে! তবে খুলনা,
চট্টগ্রাম দুই দল জিতলেও প্লে-অফে খেলার সুযোগ থাকবে খুলনার। সেক্ষেত্রে
নেট রান রেটে এগিয়ে থাকতে হবে।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া
কুমিল্লার ব্যাটাররা ঝড় তুলে খেলেছেন। ওপেনিংয়ে লিটন ঝড়ের পর ইংলিশ ব্যাটার
মঈন আলীর তাণ্ডবই ছিল যথেষ্ট! তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৮
রানের বড় পুঁজি পায় কুমিল্লা। ৪.৩ ওভারে লিটন ও মাহমুদুল হাসান জয় মিলে
যোগ করেন ৪৩ রান। জয় ১৫ বলে ১১ রান করে আউট হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে লিটনও
ফিরে গেছেন। ১৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন লিটন।
ইমরুল
৫ বলে ৮ রান করে ফিরলে ফাফ দু প্লেসিস এবং মঈন আলী মিলে ৪৬ বলে ৮৩ রানের
দুর্দান্ত একটি জুটি গড়েন। এই জুটিতে ২৫ বলে মঈন আলীর অবদান ছিল ৫৯ রান,
বাকি ২৪ রান করেছেন ফাফ। সবমিলিয়ে ফাফ ৩৬ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের
ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন। তবে ঝড় অব্যাহত থাকে মঈন আলীর। ছক্কা বৃষ্টির পর
শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে পেরেরার বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ইংলিশ
অলরাউন্ডার। ৩৫ বলে ১ চার ও ৯ ছক্কায় মঈন নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
খুলনা টাইগার্সের হয়ে থিসারা পেরেরা দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া খালেদ, নাবিল, মেহেদী ও সৌম্য একটি করে উইকেট নিয়েছেন।