
মেহেরুন্নেছা ||
হিজাব-বোরকা
পরিহিত নারী স্কুটি চালালে বাহবা মিলবে। স্কুটি চালানো নারী আল্লাহু আকবার
বললে বাহবা মিলবে। কিন্তু আমাদের দেশে জীবিকার প্রয়োজনে স্বাধীনচেতা নারী
স্কুটি চালালে ব্যাপক সমস্যা। এমন নারীর দিকে এদেশের পুরুষ এমনভাবে তাকায়,
যেন স্কুটিতে চড়ে চিড়িয়াখানার কোনো আজব চিজ যাচ্ছে।
মুসকানের পোশাক
নিয়ে মানুষ উল্লসিত। তার প্রতিবাদী বচনের জয়জয়কার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে,
পৃথিবীর তাবদ পুরুষ, নারীর পোশাক পরিধানের ব্যাপারে, নারীর স্বাধীনতার
ব্যাপারে হঠাৎ খুবই উদার হয়ে পড়েছে। তারা বলছে, মুসকান হিজাব পরেছে, এটা
তার পোশাকের স্বাধীনতা। মুসকান বোরকা পরেছে, এটা তার পোশাকের স্বাধীনতা।
শুনুন,যদি
পোশাকের স্বাধীনতায় আপনারা এতোটাই বিশ্বাসী হন; তাহলে জিন্স, গেঞ্জি,
ফতুয়া পরা নারীদের রাস্তাঘাটে, বাসে কেনো নাজেহাল হতে হয়? কেনো তাদের
অশ্লীতার দোহাই দিয়ে বেশ্যা, মাগী ইত্যাদি খারাপ ভাষায় যত্রতত্র আক্রমণ করা
হয়?
নারীর জিন্স-ফতুয়ায় যদি অশ্লীলতা থাকে, নিঃসন্দেহে বোরকা-হিজাবেও
অশ্লীলতা আছে। কারণ, পুরুষ জিন্স-ফতুয়ায় যেমন ক্রাশ খায়; বোরকা-হিজাবেও
সমানতালে ক্রাশ খায়। জিন্স-ফতুয়ায় যেমন শরীরের বাঁক বুঝা যায়;
হিজাব-বোরকায়ও শরীরের বাঁক যথেষ্ট ফুটে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে হিজাব-বোরকা
পরিহিত নারীর সাজসজ্জার দৌরাত্ম জিন্স-ফতুয়া পরা
নারীকেও ছাড়িয়ে যায়। সুতরাং পোশাকের ক্ষেত্রে উভয় দিকেই অশ্লীলতার পাল্লা সমান।
আসলে
অশ্লীলতা পোশাকে নয়, অশ্লীলতা পুরুষের মননে ও দৃষ্টিভঙ্গীতে। আদতে এই
পুরুষেরা সকল নারীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হিজাব-বোরকা পরিয়ে নিজেদের
আদর্শের কব্জায় রাখতে চায়। এমনকি মিথিলা ও পরিমনির ব্যাপারে এদের ভাবখানা
এমন, এইসব বেপর্দা-বেপরোয়া-বেহায়া নায়িকারা কেনো হিজাব আর বোরকায় মুড়ে
ফটোসেশান করেনা, অভিনয় করে না!
আজকাল অফিস-আদালতে মুসলিম কর্মজীবী নারী
যারা হিজাব-বোরকা পরেনা, তাদেরকে মুসকানপন্থীটাইপ পুরুষেরা নীরব ঘৃণা ও
অমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে। আর যে মুসলিম নারী কপালে টিপ পরে, সে নারীকেও তার
শিক্ষিত মুসকানপন্থী সহকর্মী ঠাট্টাচ্ছলে টিপ্পনি কাটে। মুসকানপন্থীরাই
আমাদের সমাজে এখন সংখ্যাগুরু। তারাই সমাজে দাপিয়ে বেড়ায়। তারাই সমাজের
নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে।
মুসকানের ভিডিও মনোযোগ দিয়ে দেখলাম। এখানে যেমন
গেরুয়া বাহিনীর ধর্মীয় উন্মত্ততা আছে; তেমনি হিজাব-বোরকা পরিহিত মুসকানের
ধর্মীয় উন্মত্ততাও অস্বীকার করার কারণ নেই। আপনারা যাকে বলছেন মুসকানের
প্রতিবাদ, আমি তাকে বলছি আরেকধরণের উন্মত্ততা। কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে
সমান। মুসকানের যে ধর্মীয় তেজ, এই তেজে বলীয়ানরাইতো পৃথিবীতে তাদের নিজস্ব
আদর্শের দোহাই দিয়ে প্রগতিশীলতা, মুক্তচিন্তা ও মানবতাকে হত্যা করে। যেহেতু
আমি ধর্মান্ধতাকে ঘৃণা করি, তাই এই ভিডিওর উভয় পক্ষের আদর্শকে ঘৃণা করি।
এরা উভয়ে করোনার মতো পুরো পৃথিবীকে সংক্রমণে বদ্ধ পরিকর। এদের উভয়
সম্প্রদায়ের কর্মকান্ডে বিভৎসতা পরিলক্ষিত হয়। এদের ধর্মীয় আদর্শের
নেতিবাচক ক্যানভাস কেবল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এদের উভয়ের মা ধর্মীয় অন্ধত্বের
কবলে বন্দী ; আর তারা উভয় পক্ষ সে মায়ের ঘরের যমজ ভাই-বোন।