ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
দায় এড়ানোর সুযোগ নেই নির্বাচনী সহিংসতা
Published : Thursday, 10 February, 2022 at 12:00 AM
দায় এড়ানোর সুযোগ নেই নির্বাচনী সহিংসতাইউনিয়ন পরিষদ সপ্তম ধাপের নির্বাচনে গত সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নে এক শিশুকে কুপিয়ে এবং বাজালিয়া ইউনিয়নে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নেই কমবেশি সহিংসতা হয়েছে। গুলির ঘটনা ঘটেছে ১০টি ইউনিয়নে। গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম পর্ব পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। এবারের ইউপি নির্বাচন যে অনেক সহিংস হতে পারে—এমন ধারণা আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। গণমাধ্যমে বারবার সাবধান করা হয়েছে। সহিংসতা রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের আগেই তালিকা করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, যথাসময়ে নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হলে মাদকবিরোধী অভিযানের মতো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা দরকার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনেকেই সহিংসতা ও প্রাণহানির জন্য নির্বাচন কমিশনের অবহেলাকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, দলীয় প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণেই সংঘাত বাড়ে। রাজনৈতিক দাপটে আচরণবিধি আর ধোপে টেকে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ক্ষেত্রে আরো বেশি সতর্কতা আশা করেছিল মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের যে ধরনের শক্ত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল, সেটিও খুব একটা দেখা যায়নি। তাই কমিশনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটিতেই সহিংসতার নজির আছে। তাই সহিংসতা রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প ছিল না।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকাশ্য ঝনঝনানি খুবই দুঃখজনক। একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল সহিংসতার ঘটনাগুলো। মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে নির্বাচনী সহিংসতায়। দেশের মানুষ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল। চূড়ান্তভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপরই আস্থাশীল থাকতে চেয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কেউই এর দায় এড়াতে পারে না।