
আনিসুর রহমান:
কুমিল্লার ধর্মসাগর লাগোয়া ঝাউতলা নিরাময় হসপিটালের পাশে প্রিন্সিপাল মফিজুল ইসলাম ও ডাক্তার শামিমা আক্তার রেখা বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন মনোরম বাগান। নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছের সমারোহে সাজানো এ ছাদ বাগানে রয়েছে ৫০ প্রজাতিরও বেশি গোলাপ ফুল। বাগানের টবে সাজিয়ে রাখা গাছে ফুটে রয়েছে নানা রঙ্গের ফুল, তৈরি হয়েছে নৈসর্গিক সৌন্দর্য। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায়, বিভিন্ন এলাকার নাসারি এবং অনলাইন থেকে এসব ফুল ও ফল গাছের চারা সংগ্রহ করে বাগান সাজিয়েছেন এই শিক্ষক ও চিকিৎসক দম্পতি।
বাড়ির ছাদ বাগানে গিয়ে দেখা যায় চোখ জোড়ানো মনমুগ্ধকর পরিবেশ। টবে সাজানো গাছের যত্ন নিচ্ছেন বাড়ির মালিক বুড়িচং কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুল ইসলাম এবং তার সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক শামিমা আক্তার রেখা। বাগান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি করে সাজানো টবে ফুটে আছে গোলাপ-জবাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। একই গাছে নানা রঙ্গের পাতা নিয়ে সৌন্দর্য বিলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্র জবা। আছে বনসাই আকারে চায়না বট, দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক বিচিত্রিতা, অনেক রঙ্গের বাগান বিলাসসহ অসংখ্য ফুল ও ফলের গাছ।

তবে বাগানের সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে ৫০-এরও অধিক প্রজাতির গোলাপের সমারোহ। বিকেলের নরম-কোমল-স্নিগ্ধ পরিবেশে গোলাপগুলো তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে যাচ্ছে আপন বৈশিষ্ট্যে। আছে একই গাছে দুই প্রজাতির গোলাপ। সাদা গোলাপের ভেতরে বিভিন্ন রঙ্গে শেড। বেগুনি কালারের গোলাপ; যার প্রত্যেকটা পাপড়িতে ভিন্ন ভিন্ন রঙ। একই সাথে অনেকগুলো ফুটে আছে হাজারি গোলাপ, কালো গোলাপ, হলুদ গোলাপের পাশাপাশি আছে সবুজ রঙ্গের গোলাপও। কেউ কেউ এগুলোকে পাতা গোলাপও বলে। এসব গোলাপের ভিড়েই আপন সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রঙ্গের জবা ফুল। রয়েছে ক্যাকটাসের সমারোহও।
এ বিষয়ে কথা হয় প্রিন্সিপাল মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বাগানটা আমাদের মনের খোরাক জোগায়। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অনেক কষ্টে ও যত্নে বাগানটি আমরা গড়ে তুলেছি। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা চারা সংগ্রহ করেছি। অনলাইনের অর্ডার করে চারাগাছ কিনে এনেছি। কেউ কেউ কিছু গাছ উপহার হিসেবেও দিয়েছেন। দিনের কিছুটা সময় আমরা এ বাগানের পরিচর্যা করে ব্যয় করি। আমাদের সময়টা সুন্দর কেটে যায়। মনটাও ভালো থাকে।’
ডাক্তার শামীমা আক্তার রেখা বলেন, ‘আমাদের এ ছাদ বাগানে ফুল গাছ ছাড়াও মাল্টা, বড়ই, সীম, বেগুনসহ নানা প্রজাতির সবজি ও ফলের গাছও আছে। কোভিডকালীন এ সময়টাতে আমরা অনেক যত্ন করে এ বাগানটি গড়ে তুলেছিল। আমাদের পাশাপাশি বাচ্চারও সময় দিচ্ছে। এছাড়াও বাড়ির কাজের লোকজনও আছে।’
তিনি বলেন, ‘শহরের এ পরিবেশে আমাদের যেহেতু খোলা জায়গা কম- তাই বাড়ির ছাদেই পরিকল্পনা মোতাবেক বাগান গড়ে তোলা যায়। আমরা সেই চেষ্টাটাই করেছি। প্রকৃতি ও পরিবেশকে মানুষের বাসযোগ্য করতে এই প্রক্রিয়াটা খুবই সময়োপযোগী। প্রত্যেকেরই উচিৎ, যার যার অবস্থান থেকে গাছ লাগানো কিংবা বাগান করা। পরিশেষে এর ফল ও উপকারটা নিজেরাই পাবো।’
সাম্প্রতিক সময়ে ছাদ বাগান একটি জনপ্রিয় ও শখের বিষয় হয়ে ওঠেছে। ইট-পাথরের এই কুমিল্লা শহরে একটুকরো সবুজের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেই তারা তৈরি করেছেন এ ছাদ বাগান। পাশাপাশি অন্যদেরকেও আহবান জানিয়েছেন গাছ লাগানোর- হউক তা ফুল অথবা ফলের। তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আসুন আমরা গাছ লাগাই, সবুজে বাঁচি- সতেজ থাকি।