ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে
Published : Wednesday, 19 January, 2022 at 12:00 AM
এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবেনারায়ণগঞ্জে মেয়র নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফলই এসেছে। বোঝা গেল প্রতীক নয় এবং সে অর্থে দলও নয়, প্রার্থীই হলো মুখ্য। এ বিজয় একজন সরল, সৎ এবং আন্তরিক মানুষের জয়। নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচন অবশ্য কেবল সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিজয়ের জন্য আলোচিত হচ্ছে না। সাম্প্রতিককালে নির্বাচন মানেই ছিল নানা অনিয়ম এবং অব্যবস্থা। বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়া, একতরফা ভোট হওয়া, প্রচারণায় সংঘাত-সংঘর্ষ, খুনাখুনি এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন ইত্যাদি ছিল সাম্প্রতিককালের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য। এবার ইউপি নির্বাচনের ষষ্ঠ দফা পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। আর সেখানে নারায়ণগঞ্জে ১৮ দিনের প্রচারণা ও নির্বাচনের দিন মিলিয়ে সংঘাতের খবর আসেনি, তাই হতাহতের ঘটনাও নেই। এ যেন অবিশ্বাস্য রূপকথা। এমন একটি নির্বাচনের জন্য প্রথমেই অভিনন্দন জানাতে হয় নারায়ণগঞ্জবাসী ভোটারদের। তার পর অবশ্যই অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাতে হবে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের আইভী ও স্বতন্ত্র তৈমূর আলম খন্দকারকে। তারা পরস্পরের সমালোচনা করেছেন, অভিযোগও তুলেছেন, কিন্তু কখনো আগ্রাসী বক্তব্য দেননি, হুমকি বা ধমকের ভাষায় কথা বলেননি। পাশাপাশি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের বেশি কিছু করতে যাননি।
অতীতে বা অন্যান্য জায়গায় দেখা গেছে প্রার্থী নির্বাচনের সময় পেশিশক্তি, কালোটাকা বা বেপরোয়া ভূমিকা গ্রহণের ক্ষমতা, ক্যাডার বাহিনীর সমর্থন ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে সহিংসতা ও সংঘাতের কার্যকারণ। সেলিনা হায়াৎ এবং তৈমূর আলমও দেখিয়েছেন দল, ক্যাডার বা বাড়তি টাকার ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন ব্যক্তিগত ইমেজ, জনসমর্থন এবং দায়বদ্ধতা। এসবই আইভীর বিজয়ের মূল শক্তি এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণ। এই সূত্রে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিকদের দিন কি আবার ফিরে আসবে দেশে? আমরা আশা করব নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন এবং ফলাফল থেকে ক্ষমতাসীন দল যথার্থ শিক্ষাটি গ্রহণ করবে। ক্ষমতাবান দল যদি নির্বাচনী বিধি যথাযথভাবে মেনে চলে তা হলে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলও ব্যত্যয়ের পথে হাঁটতে যায় না। এবার প্রধান দুই প্রার্থী ঠিক থাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পর্যায়েও সমস্যা হয়নি, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারপত্র ছেঁড়ার চিরাচরিত অভিযোগও ওঠেনি।
একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, বর্তমান কমিশনের আমলে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল সুষ্ঠু এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে সর্বোত্তম। এর পর নতুন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং জনগণ আশা করে তারা এই সর্বোত্তম নির্বাচনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবেন। এটি হোক বাংলাদেশের অনুসরণীয় একটি নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন তথা সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আমাদের দেশে গত পাঁচ বছরে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আমলে এই ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ভোটাররা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়ে পড়েছে জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। আমরা আশা করব নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন একটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম হয়ে থাকবে না, বরং সংশ্লিষ্ট সবাই নারায়ণগঞ্জ থেকে গণতন্ত্রের শিক্ষা নেবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি দৃঢ় করার ব্যাপারে আন্তরিক হবেন।