
আবুল কাশেম হৃদয় ||
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পাকিস্তানের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার ফ্রাঙ্ক মেসার্ভির অনুমতি নিয়ে মেজর আবদুল গনি (১৯১৫-১৯৫৭) পূর্ব বাংলার যুবকদের নিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন করেন। ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মা ফ্রন্টে যুদ্ধ করে বার্মা স্টার ও ওয়ায় মেডেল পাওয়া মেজর আবদুল গনি এর সবকিছু থাকলেও কমাণ্ডিং অফিসার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ভি জে ই প্যাটারসন এবং মেজর গনি (তৎকালে ক্যাপ্টেন) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের রিক্রুটিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রাখা মেজর এম এ গনি পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা থেকে বাঙালি যুবকদের বাছাই করে আনা শুরু করেন। প্রথমেই তিনি নজর দেন পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর (পিএনজি) দিকে। তিনি বিভিন্ন জেলার সালার-ই-জিলা ও তার সদস্যদের মধ্য থেকে বাঙালি যুবক বাছাই করেন। এর মধ্যে তাঁর বাড়ি যেহেতু কুমিল্লায় সেই জন্য তিনি কুমিল্লা থেকে যুবকদের রিক্রুট করতে চান। ১৯৪৯ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫০ সালের ২০ অক্টোবর দৈনিক আজাদ পত্রিকা প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, অক্টোবরের প্রথম সাপ্তাহে আবদুল গনি কুমিল্লায় আসলে প্রায় পাঁচ হাজার যুবক সমবেত হয়।

সেখান থেকে অন্তত ১৬০ জনকে মনোনীত করা হয়। ৪ অক্টোবর ক্যাপ্টেন আবদুল গনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান সেখান থেকে পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ডে লোক নেওয়ার জন। সেখানে নিয়মিত এবং উপযুক্ত পরীক্ষার পর ৩৩ জনকে বাছাই করেন পিএনজিতে ভর্তি করতে। পরে তিনি যান কসবায়। তখন পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি ছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান। তিনি কুমিল্লা সার্কিট হাউসে এসে মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের ১২ জন সদস্যের ইন্টারভিউ নিয়ে ফজলে রাব্বী, মনির আহাম্মদ ভূইয়াসহ ৪ জনকে নির্বাচন করেছিলেন। তাদেরকে ঢাকায় ৬ষ্ঠ ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর নির্দিষ্ট কোন সময় জানা যায় নি। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৮টি ব্যাটালিয়ান গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘বেবী টাইগার্স’ এর একটি কোম্পানী নিউক্লিয়াস হিসেবে নবম ইস্ট বেঙ্গল গঠন করে। এই বেবী টাইগার্সের কর্মকর্তা মেজর আইন উদ্দিন নেতৃত্বে নবম ইস্ট বেঙ্গল কুমিল্লা শহরকে পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে মুক্ত করে কুমিল্লা সেনানিবাস দখলে নেয়। চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলের শহীদ সেনা সদস্যদের এবং বীর যোদ্ধাদের স্মরণে কুমিল্লা সেনা নিবাসে ‘বেবী টাইগারস সরণি’ রয়েছে। ১৯৫৭ সালের ১১ নভেম্বর জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুটে বিশ্ব প্রাক্তন সৈনিক সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা কালীন সময়ে মারা যান। তাঁকে কুমিল্লা সেনানিবাসে সমাধিস্থ করা হয়। মেজর গনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক আইন সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।