
অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ||
আমরা ১৯৬৯ সনে মুন্সেফ কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করি। আমাদের পাশেই ফাতেমা খালা অর্থাৎ ফরিদ মামার বড় বোনের বাসা। ঐ বাসায়ই ফরিদ মামা এবং তার বড় ভাই আজকের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল মামা থাকতেন। ফরিদ মামা ঐ বাসা থেকে কুমিল্লা হাই স্কুলে পড়তেন এবং জালাল মামা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তেন। মুক্তিযোদ্ধের প্রারম্ভেই জালাল মামা মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ঐ বাসা থেকে ভারতে চলে গেলেন এবং ফরিদ মামা ও আমি একসঙ্গে পালিয়ে যাব ভারতে এপ্লানটা আমার বাবা টের পেয়ে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন তাঁর বড় ছেলে অর্থাৎ আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর ঐ মূহূর্তে পাকিস্তানে আটক ছিল যদিও পরে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ফরিদ মামা আর আমি মুক্তিযোদ্ধকালীন নয়টি মাস একসঙ্গে ছিলাম। মুন্সেফ কোয়ার্টার পুকুরের সানবান্ধা ঘাটে বসে আরও কয়েকজনকে নিয়ে আড্ডা আবার অনেক সময় বিষ্ণুপুরের রাস্তা দিয়ে কালিয়াজুড়ির মাজারে গিয়ে আড্ডা দিতাম। মাঝে মধ্যে আন্ছার আলী দারোগা বাড়ির জাম্বুরা দিয়ে ঐ বাড়ির ফাঁকা জায়গায় বলও খেলেছি। অনেক সময় পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন বোখারীর আগমন বার্তা পেলে সোজা আমাদের মাটির ঘরের ভিতর এসে বসে আড্ডা চলত। ফরিদ মামা বয়সে আমার দুই বছরের ছোট ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষে আমি এসএসসি পাশ করলাম। ফরিদ মামা ক্লাস নাইনে উঠলেন এবং স্কাউটিং এ যোগ দিলেন। আমার বাবাও একসময় স্কাউট টিচার ছিলেন বিধায় অনেক সময় আমার বাবা স্নেহভরে ফরিদ মামাকে শালাবাবু স্কাউটিং এর মাস্টার বলে সম্বোধন করতেন।
আমি যখন এইচএসসি পরীক্ষা পাস করলাম ফরিদ মামা তখন এসএসসি পাশ করল। তারপর চলে যাই মেডিকেল কলেজে। ফরিদ মামা এইচএসসি পড়ল ভিক্টোরিয়া কলেজে। পড়া অবস্থায় রোভার স্কাউটে যোগ দিলেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা স্কাউট নির্বাচিত হলেন। কুমিল্লা শহর ও জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কাউট ক্যাম্প করতে সক্রিয় সহায়তা করেছেন এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়ায় ও বার্ষিক নাট্যানুষ্ঠানে ভলন্টিয়ার হিসাবে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তিতে সহযোগিতা করেছেন। স্কাউটিং ও অনেক স্বেচ্ছাসেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকার কারণে ডিগ্রি ক্লাসগুলো নিয়মিত করতে না পেরে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে ডিগ্রি পাশ করেছেন ফরিদ মামা। কিন্তু ডিগ্রি পড়াকালীন সময় ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা কলেজে ক্যাডেট কোর সংগঠনটিকে মজবুত করে গড়ে তুলেছেন। ইতিমধ্যে আমি ডাক্তার হয়ে কুমিল্লা আসলাম তবে বেশিদিন কুমিল্লায় অবস্থান করতে না পেরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২ বছর চাকরির পর কুমিল্লা এসে কান্দিরপাড় ইস্টার্ণ মেডিকেল হলে বৈকালিক প্রাকটিস শুরু করলাম। কুমিল্লার স্কাউট, ক্যাডেট, রোভার স্কাউট থেকে শুরু করে খেলার মাঠের সদস্যরা যারাই অসুস্থ হয়েছে ফরিদ মামা তাদেরকে আমার চেম্বারে নিয়ে এসেছেন। আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব ও যদি কেউ অসুস্থ হয়েছে তাদেরকে ব্যবস্থাপত্র করিয়ে অনেককে ঔষধ পর্যন্ত যোগাড় করে দিয়েছেন। ফরিদ মামার বাবা ছিলেন নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের অধিবাসী আদর্শ স্কুল শিক্ষক মৌলভী ইসহাক সিদ্দিকী এবং মা অর্থাৎ নানু ছিলেন সুগৃহিনী। নানুর মত পরিচ্ছন্ন কর্মঠ ও মায়াবী মহিলা আমি খুব কমই দেখেছি। একবার ফরিদ মামা খবর দিলেন নানু একটু অসুস্থবোধ করছেন। আমি মামাকে বললাম চলেন বাসন্ডা যাই। তখন খুব কষ্ট করে বাতিসা থেকে কাঁচা রাস্তায় ডাকাতিয়ার শাখার উপর কাঠের পুল পেরিয়ে একটি মোটর সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানু ঘরের বাঁশের সিলিং থেকে কমলা, আঙ্গুর, আপেল নামিয়ে এনে আমার সামনে হাজির করলেন। নানুর ব্যবস্থাপত্র করে দিলাম ফরিদ মামা একটু দুরে বাজারের ফার্মেসি থেকে ঔষধ আনতে গেল এবং আমি নানুর সঙ্গে আলাপচারিতায় লেগে গেলাম। নানুর একটি সহকারী ছিল সেও ইত্যবসরে একটি ব্যবস্থাপত্র করিয়ে নিয়ে আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সকল অবস্থান দেখিয়ে দিল এবং দেখলাম ফরিদ মামাদের অনেক জমি এবং দুটি পানির পাম্প আছে এগুলো সে ম্যানেজার হিসাবে চালায়। ফরিদ মামকে তখনই বলছিলাম শহর ছেড়ে গ্রামে এসে জমিগুলিতে ফসল ফলিয়ে যান এবং একটি জীপ কিনে মাঝে মধ্যে শহরে এসে আপনার সমাজকর্ম ও সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে আড্ডা মেরে যাবেন। কিন্তু ঘটল তার উল্টোটা। ফরিদ মামা নানুকে নিয়ে এসে আমার কাপ্তানবাজার বাসার পাশে বাসা ভাড়া নিলেন। আমার মায়ের সঙ্গে নানুর সখ্যতা অনেক বেড়ে গেল। আমার স্ত্রীর চেম্বার প্রাকটিস সম্ভব নয় বিধায় কান্দিরপাড়ে বাড়ি কাম চেম্বার তৈরি করতে হল। কিন্তু আমার মা কাপ্তানবাজার বাসা ছেড়ে ফরিদ মামার মাকে ছেড়ে কান্দিরপাড় আসতে চাচ্ছিলেন না।
ফরিদ মামা আমার মায়ের খবর তার বোন ফাতেমা খালার খবর এবং সঙ্গে নিজের মায়ের খবর নিয়মিত কান্দিরপাড়ে আমার বাসায় সরবরাহ করেছেন। অবশেষে আমার কাপ্তান বাজার বাসাটি মাদ্রাসায় হস্তান্তরের পর আমার মা কান্দিরপাড়ে আসলেন এবং ফরিদ মামার মা আমার মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। তার কিছুদিন পরই নানু পরপারে চলে গেলেন। তার প্রায় বৎসর দুই পর আমার মা ষ্ট্রোক করে কান্দিরপাড় বাসায় ডান হাত ডান পা প্যারালাইডস হয়ে পড়লেন এবং কয়েকদিন ভোগার পর মৃত্যুবরণ করলেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাসাটা নিস্তব্ধ কোন লোকজন নাই। ভাই বোনদের টেলিফোন করছি। আমার স্ত্রী বলছে মরা বাড়িতে কেউ আসছে না কেন? আমি বললাম দেখবা কেউ না আসলেও ফরিদ মামা এসে পড়বে। বলা শেষ হতে না হতেই ফরিদ মামা এসে হাজির এবং শুধু বললই না করলও মায়ের দাফন, কাফন এমনকি কুলখানি। আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর ভাই, দ্বিতীয় ভাই মহিউদ্দিনকে কবরে পশ্চিমমুখী করে শুয়াইয়াছেন ফরিদ মামা। শুধু আমার নয় এ নগরীর শত শত মৃত মানুষের দাফন, কাফন, কুলখানী ও এজাতীয় অনুষ্ঠানগুলোই ফরিদ মামা খুব মনযোগের সঙ্গে করতেন। ধর্ম বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মৃত্যুর খবর তিনি রাখতেন অন্যদেরকে সরবরাহ করতেন এবং যত আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনসমুহ থাকে সবগুলো নিজ হাতে সম্পন্ন করতেন। কোন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে এধরনের কাজসমূহ থেকে দূরে রাখতে পারে নাই।
ফরিদ মামা ইন্টারমেডিয়েট পড়া অবস্থায় কুমিল্লার সাংস্কৃতিক জগতের দিকপাল মরহুম মকসুদ আলী মজুমদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং কুমিল্লার নাট্যাঙ্গনে তিনি প্রচুর নাট্যকর্মী সৃষ্টি করতে পেরেছেন। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার অঙ্গশোভা থেকে শৃঙ্খলা পর্যন্ত কিভাবে রক্ষা করতে হবে তা অনুষ্ঠানে আয়োজকদের চেয়ে বেশি শ্রম ও মেধা দিয়ে ফরিদ মামা সে অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করেছেন। গেল ২০১৮ এর ডিসেম্বরে কচিকাঁচামেলার প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পরিচালক, সাথী ও কর্মী ভাইবোনরা মাঠের শৃঙ্খলা বসবাস ও খাদ্যের আয়োজন নিয়ে দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলো। ফরিদ মামা সামগ্রিকভাবে গায়ে খেটে এর সব সমাধান করে দিলেন। প্রায় পঞ্চাশটি জেলার প্রশিক্ষণার্থীরা প্রাণভরে নেচে গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে আমার মনে হয় গত কয়েকযুগের মধ্যে সর্ববৃহৎ এ অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সমাপ্ত করতে পেরে ফরিদ মামা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরুপ কুমিল্লা বিনয় সাহিত্য সংসদের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মীর পুরস্কার লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মী হিসেবে নাটাব কুমিল্লা শাখা তাঁকে পুরস্কৃত করেন। কুমিল্লা কালচারাল কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন আমৃত্যু। আজীবন জনান্তিক নাট্যগোষ্ঠীকে কর্মচঞ্চল রেখেছেন। নাট্যগুরু শাহজাহান চৌধুরীকে হার্টের বাইপাস করার সময় নয় ডোনারসহ মাইক্রোবাসে করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে হাজির হয়েছেন। শত সহস্র রোগীর সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন ফরিদ মামা। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ এর মহাপ্লাবনে আমাদের বিএমএ সেবাকর্মে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। আমি নিজে যখন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি করিয়েছি এবং একই সঙ্গে ডা: ঢালী স্টেইনটিং করিয়েছেন সেখানে ফরিদ মামা কতক্ষণ আমার পাশে কতক্ষণ ঢালীর পাশে কাটিয়েছেন কয়েক দিন এবং আমাদের নানাহ কর্মসম্পাদন করে কৃতার্থ হয়েছেন। সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া বলছিলেন তার ছেলের মৃত্যুর পর যাবতীয় কার্যাদিও ফরিদ মামা সম্পন্ন করেছিলেন। ডা: যোবায়দা হান্নানকে কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও অন্ধকল্যাণ সমিতির হাসপাতাল তৈরিতে সক্রিয় সহায়তা করেছেন। শতসহস্র অন্ধকে চোখের আলো ফেরত দিতে সহায়তা করেছেন ফরিদ মামা। আমার সঙ্গে তিনি জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) কুমিল্লা শাখা ও ফজলে রাব্বি সংসদের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসাবেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
বছর ছয়েক আগে হঠাৎ মামা অসুস্থ হয়ে মাথার সমস্যার কথা জানালেন। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: নাজমুল হাসান চৌধুরী নাসিমকে দিয়ে চিকিৎসা করানোর পর তিনি তাকে ঢাকায় স্নায়ুসার্জারী বিশেষজ্ঞ মাঈনুল হক সরকারের নিকট রেফার করেন। মাঈনুল হক সাহেব তার ব্রেইন টিউমার হয়েছে বলে জানিয়ে সফল সার্জারী করেন। সার্জারীর পর ফরিদ মামা বিগত ছয় বৎসরকাল সকল সমাজসেবা ও অন্ধ কল্যাণ হাসপাতালের একটি পদে সুনিপুনভাবে কাজ করলেন। গত মাস তিনেক পূর্বে হঠাৎ করে আবার সমস্যা দেখা দেয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের স্নায়ু সার্জন ডা: মশিউর রহমানকে দেখানো হল এবং তারপর আবার মাঈনুল হক সরকারকে দেখানো হলে তিনি বললেন টিউমারটি আবার জেগে উঠেছে এবং তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন এতদিন ফরিদ মামা ভাল থাকলেন কিভাবে? আমি বলেছিলাম তিনি ভাল ছিলেন মানুষের দোয়ায় এবং পরোপকারী সমাজকর্মের গুণে। মাঈনুল হক সরকার আবার মাথার খুলি খুলে অপারেশন করলেন ফরিদ মামা ভাল হয়ে বাসায় আসলেন। চিকিৎসার নিয়ম অনুযায়ী কোরবানীর ঈদের পূর্বে কেমোথেরাপি দেয়া হল যা দিতে ফরিদ মামার স্ত্রী দোহাই ছেড়ে মানা করছিলেন। কেমো দেয়ার পর পরই ফরিদ মামা আরও অসুস্থ হয়ে গেলেন এবং এক পর্যায়ে শ্বাস কষ্টও আরম্ভ হল। শ্বাসকষ্ট কমাতে শহীদুল হক স্বপন অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করল যখন করোনার জন্য অক্সিজেন ক্রাইসিসে সারাদেশ ভুগছিল। শত চেষ্টায়ও শেষ রক্ষা হল না।
ফরিদ মামা ইহকালের সকল মায়া ত্যাগ করে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রাতে পরপারে চলে গেলেন। কুমিল্লা টাউন হলে নগরীর সকল মহলের উপস্থিতিতে এবং বাসন্ডায় আরেকটি জানাজা শেষে বাসন্ডার মাটিতেই ফরিদ মামার শেষ ঠিকানা স্থির করা হল। আর কোনদিন মামা বলে ডাকবেন না। নগরবাসীকেও জানিয়ে রাখি বাবলুদা যে স্থানে চলে গেছে ফরিদ মামাও সে স্থানেই চলে গেছেন মানুষের সেবা করতে করতে। ত্রিরত্মের আরেকজন হেলাল মামাসহ আমরা সবাই সে পথযাত্রী। আসুন তাঁদের সেবার আদর্শকে বুকে ধারন করে স্মৃতিতে শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ স্থানে তাদেরকে রেখে দিয়ে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি সৃষ্টিকর্তা যেন বেহেশতের সর্বোত্তম স্থান জান্নাতুল ফেরদাউসে ফরিদ মামাকে স্থায়ী ঠিকানা বানিয়ে দেন।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা অঞ্চল