
করোনা মহামারির অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্তের হার এখনো ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জনের। এমন পরিস্থিতিতেও এগোচ্ছে না টিকাদান কার্যক্রম। এ েেত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রমাগত সিদ্ধান্ত বদলের কারণে টিকাপ্রত্যাশী মানুষের মধ্যে ােভ বাড়ছে। মাঠ পর্যায়ে টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা ুব্ধ মানুষের হাতে নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন। কারণ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা মাঠ পর্যায়ে মানুষকে আশ্বাস দেন, তালিকা করেন, টিকা প্রদানের তারিখ দেন। এখন সেগুলো রা করা না গেলে অনেক মানুষই ুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
কিছুদিন আগে টিকার সংকট তৈরি হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে টিকার সংকট কেটে গেছে। তার পরও টিকার পরিকল্পনায় এত গোঁজামিল কেন? প্রকাশিত খবরাখবর অনুযায়ী প্রথমে বলা হয়েছিল গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকা অভিযানে এক সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। পরে তা সংশোধন করে বলা হয়, শুধু শনিবারেই ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। তারপর আবার ১৪ তারিখ থেকে বিশেষ অভিযান চলবে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ছয় দিনে মোট ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ মাঠকর্মীরা মানুষকে যেভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেভাবে দেওয়া হবে না। একইভাবে বলা হয়েছিল, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকেই টিকা দেওয়া হবে। সর্বশেষ বলা হয়েছে, ১৮ বছর নয়, ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পঞ্চাশোর্ধ্ব বহু মানুষ এখনো টিকা পাননি। তাঁদের অগ্রাধিকার দিলে ৩২ লাখ টিকার মধ্যে ৩০ বছরের নিচের মানুষকে টিকা দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে যাঁরা বিভিন্ন টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাঁদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখে টিকা দিতে গেলে বর্তমান মজুদে খুব বেশি মানুষকে টিকা দেওয়াও সম্ভব নয়। তাহলে এত ধরনের সিদ্ধান্ত বা কথাবার্তা কেন?
শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই নতুন করে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। বিশ্বে এক দিনে মোট মৃত্যু কমে চার হাজারে নেমে এসেছিল, তা আবার ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখের কাছাকাছি নেমে এসেছিল, তা আবার সাত লাখ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধ সত্ত্বেও অনেক উন্নত দেশ টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আবারও টিকার সংকট দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশকে শুধু কথা না বলে টিকা সংগ্রহের প্রতি জোর দিতে হবে। বলা হয়েছিল, শিগগিরই রাশিয়ার টিকা এসে যাবে। কিন্তু এখনো আসেনি। আগস্ট মাসে টিকা আসার যে তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানেও রাশিয়ার টিকার নাম নেই। টিকা তৈরির বিষয়টিও অনিশ্চিত। আমরা আশা করি, করোনা মোকাবেলায় সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দৃঢ় পদেেপ এগিয়ে যাবে।