শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪
৪ শ্রাবণ ১৪৩১
ফিরে দেখা সমকাল
শান্তিরঞ্জন ভৌমিক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪, ১২:০১ এএম |

 ফিরে দেখা সমকাল
বার বার ঘুরে ফিরে একটি বলয়ের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা আবর্তিত হচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা রাজনৈতিক, কিন্তু যাপনে আপন ভুবনের কথা, আত্মপরিক্রমায় রহস্যের মায়াজাল। দ্বন্দ্বটা নিজের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমার স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী, শাসিত হচ্ছে এ মহাসড়কের পথ ধরেই। ২৩ বছর পাকিস্তান আমলের দু:শাসনের কবল থেকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বহু রক্ত-ত্যাগের বিনিময়ে আমার স্বাধীন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি ৭২ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ১২ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ এবং সে বছরই জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের সংবিধান উত্থাপন ও পাশ এবং বিশ্বের রাষ্টসমূহের সংবিধানের তুলনায় আমাদের সংবিধান ছিল আধুনিক ও যুগোপযোগী এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ। কারিশমা ছিল- চারটি স্তম্ভের উপর বিধানসমূহকে সাজানো হয়েছে। স্তম্ভগুলো হলো-গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা-জাতীয়তাবাদ। সংক্ষেপে বর্ণনা হলো- দেশের মালিক জনগণ, তাদের মতামত বা রায়ের ভিত্তিতে দেশ শাসিত হবে। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে আপামর জনগণকে অংশী করে তোলা হবে। জনগণের ধর্মীয় আচরণ বা পালন ব্যক্তিগত চর্চায় সীমাবদ্ধ থাকবে। রাষ্ট্র তাতে খবরদারি করবে না। ধর্মচর্চাও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারবে না। যার যার ধর্ম তার নিজের এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদই জাতিসত্তার মৌলিক পরিচয়।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সংবিধানকে প্রথমে স্থগিত, পরে সংশোধিত আকারে খ-িতভাবে চালু করার ব্যবস্থা হয়। তখন থেকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ইত্যাদি শুরু হয়। এ পরিক্রমায় সংবিধানের অনেক শুভ-বিধানকে স্থগিত বা বাদ দিয়ে নতুনধারার সংবিধান কাঠামো প্রবর্তন করা হয়, যা মূল সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ কাজটি ব্যাপকভাবে অসংবিধানিক সরকার তথা জিয়া ও এরশাদ সরকারের আমলেই রদবদল করা হয়েছে। পরবর্তী সরকারসমূহ কিছুটা পূর্বধারায় ফিরতে চেষ্টা করেও, সংসদে দু’তৃতীয়ংশ গরিষ্ঠ সদস্য থাকার ফলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করতে পারছে না, পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই বলা হয় যে, যেসকল ক্ষেত্রে ধর্মকে কেন্দ্র করে সংশোধন বা সংযোজন করা হয়েছে, সেখানে উদার দৃষ্টিভঙ্গীযাপিত সরকারও নাজুক ভূমিকায় নিজেদেরকে অসহায় করে রেখেছে। একটি মনোজগতকেন্দ্রিক দ্বিধা বাধা প্রদান করে চলেছে। প্রশ্ন- কেন ?
আগে বুঝতে হবে- আমরা সম্প্রদায় ও জাতি বলতে কী বুঝি। সম্প্রদায় হচ্ছে গোষ্ঠী বা দল। কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী গোষ্ঠী। সেখান থেকেই ‘সাম্প্রদায়িক’ কথাটির উৎপত্তি। আর সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতযুক্ত মনোভাব।
‘জাতি’ হচ্ছে প্রকার বা শ্রেণি। সমলক্ষণ বিচারে শ্রেণিবিন্যাস এবং জন্মভূমি-রাষ্ট্র-ধর্ম-বর্ণ প্রভৃতি অনুসারে জনগোষ্ঠীর শ্রেণিভেদ। যেমন বাঙালি জাতি।
এক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্রটি যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে আমরা কী দেখতে পাই। আমরা নিজেদের এখন ধর্মসম্প্রদায়ভুক্ত শ্রেণি-বিবেচনায় জাতিসত্তাকে প্রধান্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদকে বিভাজন করে ফেলছি। আমরা অবলীলাক্রমে পরিচয় দিচ্ছি- মুসলিমজাতি-হিন্দুজাতি-বৌদ্ধজাতি-খ্রিস্টান জাতি। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তা অনুমোদন করে না। সম্প্রদায় হিসেবেই চিহ্নিত করে। সম্প্রদায় যখন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করে, তখন একটি দেশে জাতিসত্তা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দ্বান্দ্বিক হতে বাধ্য। কারণ, সম্প্রদায়সমূহ পাশাপাশি একই দেশে বাস করলেও তাদের চিন্তাচেতনা থাকে স্ব স্ব ধর্মাচরণাভিত্তিক। সুতরাং বৈষম্যের প্রতিছবিটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কেউ কাউকে মানতে বা প্রাধান্য দিতে চায় না, তাতে রক্ত ঝরলেও নয়।
বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। তাই এরশাদ সরকার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। ফলে পরবর্তী সরকার এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না, প্রতিশ্রুতি দিয়েও পেছনে পড়ে আছে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে একটা অঘোষিত দ্বন্দ্ব চলমান। এখান থেকেই বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রহস্যময় হয়ে ওঠেছে। একটু সাহস নিয়ে লিখছি। আমাদের জাতীয়তাবাদ কি বা জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় কি ? সংবিধানে প্রথম থেকেই লিখিত আছে- আমরা ‘বাঙালি’। এখন ‘বাংলাদেশি’ কেউ জিজ্ঞাসা করলে ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে কেউ যদি বলি মুসলমান অথবা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান। তাহলে সংবিধান এবং জনগণের মনোগত বিষয়টির মধ্যে যে অনেকটা ফারাক বিরাজ করছে। এভাবে যদি বাংলাদেশের জনগণ জাতিসত্তার বিষয়টি নিজেদের অন্তর্গত বিশ্বাসে যাপন করতে থাকেন তখন বিষয়টি দাঁড়াল- আমরা স্ব স্ব ধর্মের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বিষয়টি আর সর্বজনীন বিশ্বাসচেতনায় গ্রহণযোগ্য থাকছে না। আর ধর্মবিশ্বাসীরা মনে করে সমাজতন্ত্র বা সমাজতান্ত্রিক চিন্তাচেতনায় সৃষ্টিকর্তা বিষয়টি অনুপস্থিত। ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রীরা নাস্তিক। বাংলাদেশের বর্তমান জনগণ যেহেতু ধর্মচর্চায় ব্যাপকভাবে নিবেদিত, সংখ্যাগুরু মুসলমানসম্প্রদায় কোনো অবস্থায়ই সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে অনুমোদন করে না। কাজেই সংবিধানের ‘সমাজতন্ত্র’ এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অন্য আদলে ব্যাখ্যাত হলেও তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। যেখানে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রাধান্য বিস্তার ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়, সেখানে ‘গণতন্ত্র’ কোণঠাসা হয়ে পড়তে বাধ্য। ‘ক্ষমতা’ নামক অলৌকিক শক্তির দাপটে সাধারণ নাগরিক দিশেহারা।
আমি যে কথা বলতে চাইছি তা স্পষ্ট কীনা জানি না। তবে সরাসরিভাবে বলতে চাই- সংবিধানে যা-ই থাকুক না কেন- এখন বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা-জাতীয়তাবাদ বলে কোনো স্তম্ভের অস্তিত্ব আছে কীনা সন্দেহ।
আমরা সভাসমিতিতে এখন সমাজতন্ত্রের কথা বলি না, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা না বলে মুখরোচক অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলি, চর্চা করি না। বাঙালিজাতি হিসেবে এখন তেমনভাবে পরিচয়ও দেই না। গণতন্ত্র তো একনায়কতন্ত্রে পর্যবসিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হলো- জোর যার গণতন্ত্র তার। ইত্যাদি।
এখন বলি- বঙ্গবন্ধু কি এজন্যই ২৩ বছর সংগ্রাম-আন্দোলন করেছিলেন ? প্রায় ১৪ বছর জেল জুলুম ভোগ করেছিলেন ? এজন্যই কি বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন ? তিনি তো মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অর্থাৎ কোনো সম্প্রদায়ের জন্য দেশ স্বাধীন করেননি ? তিনি যদি মুসলমানদের জন্য দেশ স্বাধীন করতে চাইতেন, তবে পাকিস্তান ছেড়ে আসতেন না। হিন্দুদের জন্য হলে ১৯৭১ সালে তো ইন্দিরা গান্ধীকে সঙ্গে রাখতেন। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন বাঙালি জাতির জন্য। তিনি পাকিস্তান-আন্দোলনে ছিলেন মুসলমান-বাঙালি, পাকিস্তান হওয়ার পর জাতিসত্তা প্রশ্নে এবং পশ্চিমাদের শোষণের প্রেক্ষিতে বোধোদয় হলো এবং নিজেকে ১৯৫২ সালের পর মনোজগতে বিবর্তন ঘটার পর হলেন বাঙালি-মুসলমান এবং ১৯৬৬ সালে ৬-দফা পেশ করে নিজের পরিচয় দিলেন বাঙালি- শুধু বাঙালি হিসেবে। তিনি বাঙালিদের জন্য স্বাধীনদেশ স্থাপন করলেন, হলেন জাতির পিতা অর্থাৎ বাঙালি জাতি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি সংবিধান রচনা করলেন বাঙালি জাতির জন্য। আর এই সংবিধান দাঁড়া করলেন চারটি স্তম্ভের উপর।
প্রশ্ন-২০২৪-এ কি আমরা অর্থাৎ বাঙালি জাতি চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছি ?
কেউ বলবেন-প্রশ্নটি অবান্তর, সংবিধান পরপন্থী। স্বাধীনদেশের নাগরিক হিসেবে এ কথা বলা যায় না। আমার মাথার উপরে চড়ে বসে আছেন, আপনাকে মাথার উপর রেখে দিব? নামতে বলতে পারবা না, নামাতে পারব না, নর্দমায় ফেলে দিতে পারব না ? আমিও একজন স্বাধীন নাগরিক। দেশ সম্বন্ধে ভাববার অধিকার কি আমার নেই ? সংবিধান জনগণের রক্ষাকবচ। একটি দেশের দলিল। প্রতিটি জনগণের অধিকারকে সংরক্ষণ করে সংবিধান। আমি বঙ্গবন্ধু প্রণীত সংবিধানকে পবিত্র আমানত হিসেবে জানি-মানি-বুঝি। পরবর্তী পরিবর্তন আমার কাছে গ্রহণযোগ্য কীনা তাও বুঝি না। কারণ, পরবর্তী সংশোধিত, পরিবর্তিত সংবিধান আমাকে রক্ষা করতে কখনও কখনও ব্যর্থ হচ্ছে, ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ? ধর্মচর্চায় বা পালনে আমাকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, পারছে না, গণতন্ত্রচর্চায় স্বাধীনভাবে ভোটের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করতে পারছি না, অর্থনৈতিক নিশ্চিয়তায় চলছে লুকোচুরি। জাতিসত্তা হয়ে পড়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। সংস্কৃতিচর্চায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না, এখনও কাম্য নয়।
মাঝে মাঝে হিসেব মিলাতে পারি না। আমার বা আমাদের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যখন প্রভু সেজে আমাদেরকে শাসন করতে থাকেন, তিনি আমাদের দিকে তাকাতে আগ্রহী হন না। বরং পাঁচবার সালাম করলে একটি প্রতি-উত্তর হয়ত বা মিলে। অথচ তিনিই দৌড়ে আমাদের কাছে আসার কথা, খবর নেয়ার কথা, দেখভাল করার কথা। ক্ষমতার বলয়ে ‘আমিত্ব’ বড় রহস্যময়। শামসুর রাহমান এজন্যই একসময় কবিতায় লিখেছিলেন- ‘ উদ্ভট এক উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’।
রক্ষা কবচ সংবিধানই যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি স্তম্ভই যদি হারিয়ে যায়- তাহলে জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ ইত্যাগি যেন বিবর্ণ হতে থাকে। সবার উপরে যে বাণীটি আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে, তাহলো-
‘আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি’।













সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোডে ৫ ঘন্টার রণক্ষেত্র, অন্তত ১শ জন হাসপাতালে ভর্তি
কুমিল্লার কোটবাড়ির রণক্ষেত্র দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
তারা যখনই বসবে আমরা রাজি আছি : আইনমন্ত্রী
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে কথা বলবেন আইনমন্ত্রী
উত্তরায় গুলিতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী নিহত
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সব স্কুল–কলেজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ
নিজের লাশ কী করতে হবে, আগেই জানিয়েছিলেন আবু সাঈদ!
এইচএসসির বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা স্থগিত
এইচএসসির বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা স্থগিত
কোটা আন্দোলনে নিহত সাঈদের পোস্ট ভাইরাল
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft