সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দাউদকান্দিতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঢেঁকি
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম |

আলমগীর হোসেন, দাউদকান্দি।।
ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া।/ ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া দুলিয়া।/ ধান ভানি রে।’ তরুণী-নববধূ, কৃষাণীদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার দাপটে দাউদকান্দি উপজেলা থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই ঢেঁকি দিয়ে নতুন ধান বানা, সেই ঢেঁকিতে ছাঁটা নতুন চালে পিঠার গুঁড়ি আবার ঢেঁকিতে চিড়া কোটা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের অংশ জুড়েই আছে।
গ্রাম্য নারীদের সেই আনন্দের গান এখন আর শোনা যায়না। ষাট বা সত্তর দশকে গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরেই ঢেঁকি ছিল সংসারের একটি অপরিহার্য উপাদান। ঢেঁকি ছিলনা এমন বাড়ী বা এমন সংসার ছিলনা বললেই চলে। কালের বিবর্তনে দাউদকান্দি উপজেলা  থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। বলা যায় হারিয়ে গেছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি নিয়ে লেখা অনেক গান, ঢেঁকির সাথে গ্রামীণ নারীর মধুর সম্পর্কের চিত্রটাই যেন ফুটে উঠেছিল। এছাড়া ঢেঁকি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে রয়েছে নানা গান ও কবিতা। ঢেঁকি ধান ভানা বা ফসল কোটার একটি যন্ত্র।
জানা যায়, আগের দিনে দাউদকান্দি উপজেলার ঘরে ঘরে ধান ভানাসহ গম, চিড়া, হলুদ, মরিচ প্রভৃতি শস্য কোটার জন্য এটি ব্যবহৃত হতো। এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল ঢেঁকি। ঢেঁকি রাখার জন্য ছিল ঢেঁকি ঘর। ভোর রাত থেকেই বাড়ির মেয়েরা শুরু করতো ধান ভানার কাজ। ঢেঁকির ঢাকুর-ঢেকুর শব্দে বাড়ির সবার ঘুম ভাঙতো। ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে ধান ভানতো আর মনের সুখে গান গাইতো তারা। ঢেঁকিতে কে কতটা পাড় দিতে পারে- তাদের মধ্যে চলতো সে প্রতিযোগিতা। গ্রামীণ বধূদের আলতা রাঙা পায়ের স্পর্শে ঢেঁকিও যেন নেচে-গেয়ে উঠতো!
প্রতিবছর নবান্ন উৎসবে গ্রামাঞ্চলে ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে চাল গুঁড়ো করার উৎসব পড়ে যেতো। চালের সে গুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা হতো নানা রকমের পিঠা-পায়েশ। তাছাড়া ঢেঁকিতে ছাঁটাই করা চালের ভাত খেতে খুব সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। এখন ঢেঁকি আর চোখে পড়ে না। আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি এখন বিলুপ্তির পথে।
দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঢেঁকির শব্দ আর নেই। ফলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ জনপদের কাঠের তৈরি ঢেঁকি।
রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত  কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন সংগঠক মতিন সৈকত বলেন" ঢেঁকি আবহমান বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের পাশাপাশি গৃহস্ত পরিবারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ।    ভাত থেকে পিঠা পায়েস সবকিছুই ঢেঁকির উপর নির্ভরশীল ছিল। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে সময়-শ্রম-অর্থ বাঁচাত ঢেঁকির বিকল্প হিসাবে কলের মেশিন ব্যাবহৃত হচ্ছে। ঢেঁকি ছাটা চাল ওষধি গুণ সমৃদ্ধ। ঢেঁকির মাধ্যমে ভাঙানো চাল থেকে গুড়ি করে পিঠা সুস্বাদু এবং আকর্ষণীণ।"












Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২