
তানভীর দিপু:
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষকদের হাত ধরেই সারা পৃথিবীতে সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। একটি সুন্দর সমাজ ও জাতি গঠনে তাই শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। সারা জীবনের জন্য যিনি আমাদের গঠন করে দেন তিনিই হলেন শিক্ষক। তিনি আমাদের মানুষ হতে শেখান, দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দেন, আমাদের পুরো মননটাকে তৈরি করে দেন, আমাদের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে দেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যান। আমাদের পুরো জীবনে শিক্ষকের অনন্য ভূমিকা রয়েছে।
জাতীয় ভাবে প্রথমবার শিক্ষক দিবস পালন করতে গিয়ে প্রথমে শিক্ষরাই শিক্ষকদের সম্মাননা জানালেন। বৃহষ্পতিবার সকালে প্রথমবারের মত সরকারি ভাবে উদযাপিত শিক্ষক দিবসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের অতিথি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানান। তিনি জানান, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা সঞ্চালনায় অবদান রাখছেন না, বরং তাদের হাত ধরেই পুরো পৃথিবীর সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হচ্ছে। তাই স্বমহিমায় তারা যেন থাকেন সে সম্মান জানাতে হবে।
জাতীয় ভাবে প্রথমবার পালিত শিক্ষক দিবসে এক বর্ণাঢ্য র্যালিও আয়োজন করেন শিক্ষকরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে বের হয়ে র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে নগর উদ্যানের পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষকদের সম্মাননা জানালেন তাঁদের সহকর্মীরা:
শিক্ষক দিবসে কুমিল্লার ১০ শিক্ষককে সম্মাননা জানালেন তাঁদেরই সহকর্মীরা। বৃহষ্পতিবার সাকলে প্রথমবারের মত সরকারি ভাবে উদযাপিত শিক্ষক দিবসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা জানানো হয়। ‘শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু’ এই শ্লোগানে এবার জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়েছে। বর্নিল এই আয়োজনে অংশ নেন কুমিল্লার বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসার সহস্রাধিক শিক্ষক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাছের, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল মান্নানসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু জাফর খান।
শিক্ষায় বিশেষ অবদান এবং কৃতিত্ব রাখায় যে দশ জন শিক্ষককে ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয় তাঁরা হলেন- ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরী, প্রফেসর ড. এ কে এম আছাদুজ্জামান, ভাষা সৈনিক অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ হাসান ইমান মজুমদার ফটিক, গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাফেজ ভূঁঞা, সদর দক্ষিণের চাঁদপুর জনতা স্কুল এন্ড কলেজের ইন্সট্রাক্টর পলাশ কান্তি মজুমদার, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রেখা দত্ত, ফরিদা বিদ্যায়তনের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক অনিমা মজুমদার, কুমিল্লা ইসলামিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস কাজী মু. আবদুর রাজ্জাক, নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সল, ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলি চৌধুরী।
অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর কান্দিরপাড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে নগর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রুদ্ধাঞ্জলি জানান শিক্ষকরা।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়।
পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে শুরু হয়ে নগর উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে র্যালিটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার কলেজ মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।