
একজন
‘হিরো’ খুঁজছিলেন সাকিব আল হাসান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যেমন ‘হিরো’
হয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক বলেছিলেন-
আমাদের কারো না কারো হিরো হতে হবে। কিন্তু ব্যাটে-বলে সবাই ‘জিরো’ হওয়ার
লড়াইয়ে নেমেছিলেন। ব্যাটে-বলে দলীয় ব্যর্থতায় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১০৪
রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
সিডনিতে টস জিতলে সুবিধা হতো।
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচেই যা দেখা গেছে। কিন্তু টস বিপক্ষে যাওয়ায়
ফিল্ডিংয়ে নামেন সাকিবরা। প্রথম ওভারেই ডানহাতি পেসার তাসকিন প্রোটিয়া
অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে (২) তুলে নেন। তৃতীয় ওভারে এসে ওই তাসকিনই
মোমেন্টাম ছেড়ে দেন। পরপর দুই নো বল দিয়ে ডি কক-রুশোকে হাত খোলার সুযোগ করে
দেন।
ওই জুটি বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপ এলোমেলো করে দেয়। ডি কক ফিরে
যাওয়ার আগে খেলেন ৩৮ বলে ৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তিনি সাতটি চার ও তিনটি
ছক্কা হাঁকান। রুশোর সঙ্গে ১৬৮ রানের অসাধারণ জুটি গড়েন। এক প্রান্ত থেকে
রীতিমতো ঝড় শুরু করা রুশো থামেন ১৯তম ওভারে ৫৬ বলে ১০৯ রানের বিধ্বংসী
ইনিংস খেলে। তার ব্যাট থেকে আটটি ছক্কা ও সাতটি চার দেখা যায়।
বল
হাতে তাসকিন ছিলেন এলোমেলো। তিনটি নো বল দিয়েছেন তিনি। ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে
নিয়েছেন একটি উইকেট। সাকিবও একটি নো বল করেন। ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন
দুটি উইকেট। এছাড়া হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে ৩৬ রান খরচা করেন। স্পিনার মেহেদি
মিরাজ ৩ ওভারে দেন ৩২ রান। ওই তুলনায় উইকেট না পেলেও ভালো বোলিং করেন
মুস্তাফিজুর। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচা করেন।
বাংলাদেশ বড় ধাক্কা
খেয়েছে নো বলে। চারটি নো থেকে প্রোটিয়ারা ২১ রান তুলে নিয়েছে। সঙ্গে
জরিমানা রান পাঁচটি। ব্যাট হাতে জবাব দিতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন সৌম্য
সরকার। প্রথম ওভারেই দুই ছক্কা তোলেন। পরেই ফিরে যান ৬ বলে ১৫ রান করে।
প্রথম ওভারে চার মারা শান্ত আউট হন ৯ বলে ৯ করে। নরকিয়ার একই ওভারে আউট হন
তারা। নরকিয়ার পরের ওভারে সাকিবও (১) ফেরেন।
ব্যর্থ হন আফিফ হোসেনও।
তিনি রাবাদার বলে ১ রান করে আউন হন। এক প্রান্তে লিটন দাস কিছুক্ষণ থাকলেও
একে একে মেহেদি মিরাজ (১১), মোসাদ্দেক হোসেন (০), নুরুল হাসান (২) সাজঘরে
ফিরে আসেন। লিটন দাস ফিরে যান ৩১ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ রান করে।
শেষে তাসকিন একটি চারে ১০ এবং মুস্তাফিজ এক ছক্কায় ৯ রান করলে ১০১ রান তুলে
১৬.৩ ওভারে অলআউট হয়। তাতে বিশাল হারের বোঝা কমেনি।