ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
অভিভাবকরা পাশে দাঁড়ান একাডেমিক চাপে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা
Published : Wednesday, 12 October, 2022 at 12:00 AM
অভিভাবকরা পাশে দাঁড়ান একাডেমিক চাপে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যাগত রবিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এই দিনটি সামনে রেখে গত শনিবার আঁচল ফাউন্ডেশন ‘মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একাডেমিক চাপের প্রভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা’ শীর্ষক এক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও খুব বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৫৭ জন, স্কুলের ২১৯ জন, মাদরাসার ৪৪ জন এবং কলেজের ৮৪ জন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৭৫.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী একাডেমিক চাপের সম্মুখীন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬.৬৫ শতাংশ জানায়, করোনার আগের তুলনায় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে গেছে। ১০.৩০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ঘন ঘন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে তাঁরা পরিস্থিতি বা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। পরীক্ষার সময়ের চেয়ে সিলেবাসের আধিক্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর। ২০.৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, স্বল্প সময়ে এত বড় কোর্স শেষ করার ফলে তাঁরা পড়া বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ৭৩.৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। অতিরিক্ত পড়াশোনা ও সিলেবাস দ্রুত শেষ করার চাপে ৬৬.৭১ শতাংশের জীবন প্রভাবিত হয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে অন্যান্য কারণের সঙ্গে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, পড়াশোনার চাপ, সেশনজট, অভিমান ইত্যাদি রয়েছে। গুরুতর কোনো মানসিক রোগ না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি আত্মহত্যার চিন্তা ছাড়াই কোনো সংকটে বা মানসিক চাপে হঠাৎ করেই ঝোঁকের বশে অনেকে আত্মহত্যা করে বা চেষ্টা চালায়। মানসিক চাপ, যেকোনো প্রত্যাখ্যান অথবা কোনো দুর্ঘটনায় খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতার অভাবে এমনটি ঘটতে পারে।
আত্মহত্যার বেশির ভাগ ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে হবে। অভিভাবক ও পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে তাঁদেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। আবার সমাজও কিন্তু এখানে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি উন্নত থাকে, তাহলে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। আগে থেকে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে জীবনের এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব। এ জন্য দরকার সচেতনতা। এড়িয়ে যাওয়া নয়, সহমর্মিতা আর সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে পাশে থাকতে হবে। একাকিত্বের বোধটা কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে আসাই আত্মহত্যা প্রতিরোধে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।