ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
জীবনবোধ ও জীবনদর্শন
পূর্ব প্রকাশের পর
জুলফিকার নিউটন ।।
Published : Thursday, 6 October, 2022 at 12:00 AM, Update: 06.10.2022 12:45:49 AM
জীবনবোধ ও জীবনদর্শনসাহিত্য হচ্ছে জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ বোধ। আমরা কবিতায়, উপন্যাসে, নাটকে এবং বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে জীবনের যে পরিচয়লিপি উদঘাটন করি, সে পরিচয়লিপির মধ্যে আমরা আশা করি যে জীবনের স্বাক্ষর থাকবে। মানুষের যে জীবন, অর্থাৎ জীবিত জীবন, সেটা জন্ম থেকে আরম্ভ করে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত প্রধাবিত। এই সময়কালের মধ্যে মানুষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, আনন্দের মধ্যে থাকে, সংকটের সম্মুখীন হয় এবং বিপর্যয়ে কখনো বিধ্বস্ত হয় অথবা বিপর্যয়কে অতিক্রম করে একটি সুস্মিত আনন্দলোক নির্মাণ করে। এই যে জীবনের পরিচয়লিপি, তার একটি ছায়াপাত আমরা সাহিত্যের মধ্যে আশা করি। যদি ভালোভাবে পর্যালোচনা করি তাহলে দেখব, এই যে জীবন, এ জীবন কিন্তু নানাভাবে গড়ে ওঠে। আমরা আমাদের চতুর্দিকে যে প্রকৃতি থাকে, সে প্রকৃতি থেকে রস গ্রহণ করি, প্রকৃতি থেকে জীবনের অনেক উপকরণ সংগ্রহ করি। প্রাণীজগতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকে এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ মিলেই আমাদের জীবনের সান্ত্বনা ও সমৃদ্ধি ঘটে। আমরা প্রাণীবিহীন হয়ে বসবাস করতে পারি না, আমরা উদ্ভিদবিহীন হয়েও বসবাস করতে পারি না এবং এর পরে আমাদের চতুর্দিকে যে মানবগোষ্ঠী রয়েছে তাদের সঙ্গে আমরা নানাবিধ সম্পর্কে সম্পর্কিত হই। কেউ আমাদের মাতা, কেউ আমাদের পিতা, কেউ আমাদের স্ত্রী, কেউ, আমাদের সন্তান এবং অন্যবিধ নানাভাবে কোনো না কোনোভাবে আমাদের সাথে সম্পর্কিত। এক মানবগোষ্ঠীর হয়ত নানাবিধ ব্যবধান থাকে, পার্থক্য থাকে, কিন্তু সাধারণভাবে জীবনে একটি সংসারের মধ্যে এবং একটি সমাজের বৃত্তের মধ্যে এক মানবগোষ্ঠীর মানবদের মধ্যে যে সম্পর্ক, অন্য মানবগোষ্ঠীর মানবদের মাঝেও সেই সম্পর্ক।
যেমন ধরা যাক, মাতৃস্নেহ। একটি ইউরোপীয় দেশে একজন মা তার সন্তানের প্রতি স্নেহ যেভাবে প্রদর্শন করছেন, বাংলাদেশের মাতাও সেভাবেই প্রদর্শন করছেন। আফ্রিকার বন্য এলাকার মধ্যে যে মাতা বাস করেন তিনিও সেভাবেই মমতা জ্ঞাপন করেন। এটা একটা ওহংঃরহপঃবা সহজাত বোধের মতো। একটা প্রাণীর মধ্যেও যেমন মাতা এবং তার সন্তানের মধ্যে বন্ধন দেখা যায়, ঠিক মানুষের মধ্যেও তাই। এই সম্পর্কগুলো হচ্ছে চিরকালীন এবং সর্বদেশে সর্বকালে এটা একই। এগুলো সাহিত্যের উপজীব্য হয়। আমরা অনেক বড় বড় কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে সাহিত্যের এ উপকরণগুলো লক্ষ্য করেছি। অবশ্য মনে রাখতে হবে যে, আমরা এক দেশে যেভাবে এ স্নেহকে প্রকাশ করি, যে উপকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করি, অন্য দেশে সেভাবে হয়ত প্রকাশ করে না। তার কারণ, উপকরণগুলো সব দেশে এক নয়। একজন মানুষ যে খাদ্যদ্রব্য তার সন্তানকে দিচ্ছে, অন্য দেশের মানুষ অবিকল সেই খাদ্যদ্রব্য তার সন্তানকে দিচ্ছে না। অথবা যে খেলনার উপকরণ সন্তানের হাতে দিচ্ছে অন্য দেশে ঠিক একই ধরনের উপকরণ দিচ্ছে না। অথবা একটি সন্তানকে জড়িয়ে ধরে যেভাবে একটি মা আদর করছে এক দেশে, অন্য দেশে হয়ত ঠিক অবিকল সেভাবে করে না। কিন্তু মূলত আদরটি একই। সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই বাইরের যে উপকরণগুলো,সেই উপকরণের অন্তরালে এবং অন্তর্গত যে চিরন্তন মাতৃসত্তা আছে, তাকে উদ্ঘাটন করা। তেমনি চিরন্তন পিতৃসত্তাকে উদ্ঘাটন করা, তেমনি চিরন্তন ভ্রাতৃসত্তাকে উদ্ঘাটন করা, তেমনি চিরন্তন মানব সত্তাকে উদ্ঘাটন করা।
আমাদের জীবনের মধ্যে আমরা এই মানবসত্তাকে উদ্ঘাটন করতে গিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পতিত হই। বিভ্রান্তিগুলো আসে নানা কারণে। একটি কারণ হলো, মানুষের জীবনের মধ্যে নানাবিধ বিকারও আছে। সংসারের মধ্যে এবং পার্থিব কর্মকাণ্ডের মধ্যে নানাবিধ বিকৃতি-আচরণগত বিকৃতি, অনুষ্ঠানগত বিকৃতি আমরা লক্ষ্য করি। সেগুলো কি সাহিত্যিকরা তাদের সাহিত্যকর্মের মধ্যে স্থান দেবেন? এই প্রশ্নটি বহুবার বহুক্ষেত্রে উত্থাপিত হয়েছে। এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে আমি একটি তত্ত্বকথা এখানে বলব। সেটা হচ্ছে এই, মানুষের জীবনে ধর্ম একটি প্রবল স্থান অধিকার করে। করে এই কারণে যে, ধর্ম একটা নীতিবোধ, একটা শৃংখলা মানুষের জীবনে নির্মাণ করে, যেই শৃংখলা না হলে মানুষ জীবনে অস্বস্তিকর পরিবেশে বাস করত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আমাদের দেশেরই কবি, তিনি ধর্মত্যাগী কবি বলে অনেকে বলে। তিনি ধর্মত্যাগী নন। তিনি নিজের জীবনের জন্য একটি ধর্মকে, একটি বিশ্বাসকে আবিষ্কার করার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলেন। সেই জন্য লৌকিকভাবে দেখা যায়, তিনি একটি ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন, বিদেশী রমণী বিয়ে করবার কারণেই তিনি এটি করেছিলেন। কিন্তু তার সমগ্র কাব্যধারা যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাই, তিনি নিজের জীবনে একটি বিশ্বাসকে আবিষ্কার করবার চেষ্টা করেছিলেন। সাহিত্যিকদের কর্তব্য হচ্ছে নিজের জীবনের এই বিশ্বাসকে আবিষ্কার করা।
কবিতার পরে যেক্ষেত্রে আমাদের পদার্পণ করা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে উপন্যাস ও ছোটগল্প। আমাদের কবিতা যেভাবে সম্মুখের দিকে অগ্রসর হয়েছে, ভাষার দিক থেকে, শৈলীর দিক থেকে, আমাদের গল্প উপন্যাস ততটা উন্নত নয়। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বাংলা ভাষায়, বাংলা সাহিত্যে, উপন্যাসে যে ব্যাপ্তি ঘটেছে, যে প্রসারতা ঘটেছে, আমাদের তা ঘটেনি। তবে, পশ্চিমবংগের উপন্যাসগুলো আমরা খুব বেশি পাঠ করি। কারণ গল্প হিসেবে, চরিত্র নির্মাণের দিক থেকে, ভাষাগত দিক থেকে সেগুলো অপূর্ব, অনবদ্য। কিন্তু তার মধ্যে তাদের, কলকাতা শহরের, জীবনের অনেকগুলো চিত্র উপস্থিত হয়েছে। যে চিত্রের মধ্যে বিকৃতি অনেক আছে। মানব জীবনের যৌন বিকৃতি, বিভিন্ন ধরনের আবেগের বিকৃতি, কর্মকাণ্ডের বিকৃতি, সেগুলো তারা চিত্রায়িত করেছেন তাদের উপন্যাসে। অর্থাৎ বাস্তববাদী হয়ে তারা সেই জীবনের যে অসফলতা, তার চিত্রও উদ্ঘাটন করেছেন। আমরা এই চিত্র দেখে অভিভূত হয়ে আমাদের কিছু কিছু উপন্যাসের মধ্যে এই ধরনের চিত্র নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। যেমন দেখা যায়, স্বামীকে পরিত্যাগ করে স্ত্রী চলে যাচ্ছে অন্য পুরুষের কাছে। অন্য পুরুষের সন্তান গর্ভে ধারণ করে আবার সে স্বামীর কাছে প্রত্যাবর্তন করছে। স্বামী তাকে গ্রহণ করছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা কি পেলাম? এরা বলবেন, জীবনের একটা পরিচয় পেলাম। ঠিকই, এই ধরনের বিকৃত জীবন আছে। এই ধরনের স্থলন জীবনের মধ্যে আছে। এর চিত্র সাহিত্যে থাকতে পারে, আমি অস্বীকার করি না, কিন্তু সাহিত্যিকের কর্তব্য হচ্ছে এই চিত্রকে সমর্থন করা নয়, বরং এই চিত্রের বিপরীত যে চিত্র ঘটতে পারে সেই চিত্রকে সমর্থন করা। কিন্তু সাহিত্যিক যদি এই চিত্রকে সমর্থন করেন, তাহলে বিকারকেই তিনি সমর্থন করলেন। আমাদের উপন্যাসের মধ্যে, আমাদের গল্পের মধ্যে এই বিকৃতির একটা ইতিহাস নির্মিত হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার কারণ আমরা যে জিনিসের দ্বারা অভিভূত, সেটা হচ্ছে মানবতাবাদ।
আমরা বলি যে, আমরা মানবতাবাদী, আমরা মানুষের কথা বলতে চাচ্ছি। ভালো করে চিন্তা করে দেখলে বোঝা যায়, ইতিহাসের দিকে যদি দৃষ্টিপাত করি তাহলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মানুষের কল্যাণের কথা যিনি সর্বপ্রথমে বলেছিলেন তিনি তো রাসুলে করিম (স.) তিনি তো সাধারণ মানুষের কথা বলেছিলেন। মানুষের কল্যাণের জন্য তৎপর হতে বলেছিলেন। তাঁর নিজের জীবনই সে কল্যাণের আদর্শ। তিনি নিজে নিরন্ন থেকেছেন, তাঁর গৃহের সবকিছু অন্যকে বিলিয়ে দিয়েছেন। হযরত ওমর (রা.) সম্পর্কে একটি কথা আছে, যেটা জালালুদ্দীন রুমী তার মসনবী শরীফের এক জায়গায় কবিতাচ্ছলে বলেছেন। রোমের রাজার দূত খলিফা ওমরের সঙ্গে দেখা করতে এল রোমের রাজার বাণী নিয়ে পথে পথে তিনি উট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পথচারী একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের এখানে রাজপ্রাসাদ কোথায়? উত্তরে সে বলল, আমাদের রাজা নেই, রাজপ্রাসাদ থাকবে কেন? তিনি বললেন, কিন্তু তোমাদের যিনি খলিফা তিনি থাকেন কোথায়? সে বলল, ঐ যে খেজুর পাতার যে ঝুপড়ি রয়েছে, সেখানে থাকেন। তিনি বললেন, এ কি রকম কথা? খলিফা এ রকম জায়গায় থাকবেন? সে বলল, হ্যা, ওটা তো তাঁর নিজের পয়সায় গড়া, নিজের জমি, নিজের আবাসস্থল। বায়তুল মাল ব্যয় করে তিনি বাড়ি বানাননি। তিনি বললেন, তাকে এখন কোথায় পাব? সে বলল, বহুদূরে ঐ যে খেজুর গাছটা দেখছ, তার ছায়ায়, তার নিজের গাছের ছায়ায় তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। সেখানে তুমি যাও। দূত সেখানে এসে উপনীত হলো এবং ভয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হযরত ওমরের ঘুম ভাঙল। চোখ মেলে লোকটাকে তিনি দেখলেন। লোকটি ভয়ে ভয়ে বলল যে, খলিফা, আপনি তো এ অঞ্চলের খলীফা, আপনি এ রকম অসহায় অবস্থায় শুয়ে আছেন। কেন? আপনার কোনো ভয় নেই? যে কোনো মানুষ আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। হযরত ওমর (রা.) উত্তরে বললেন, দেখ, তুমি যে গ্রন্থ পাঠ কর, সেখানে কিছু শব্দ কি পাঠ কর? দূত বলল যে, না শব্দ পাঠ করব কেন? আমি অর্থ পাঠ করি। হযরত ওমর (রা.) বললেন, তাহলে গ্রন্থের মধ্যে তো শব্দ আছে, কিন্তু তুমি তার মধ্য থেকে অর্থ বের করলে। সেটা তো ভিন্ন জিনিস, তাই না? লোকটি বলল, হ্যা। তিনি বললেন, তেমনি একজন মানুষের মধ্যে আত্মা আছে। আত্মার বোধ যদি কোনও মানুষের থাকে, তাহলে শরীরের প্রতি তার মমতা থাকতে পারে না। শরীর আহত হবার ভয়ও থাকে না। কেননা আত্মার সমৃদ্ধিতেই সে সমৃদ্ধ। আমার সেজন্য কোনো ভয় নেই। এটা মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী অসাধারণ কবিত্ব ব্যঞ্জনা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মসনবীতে। অর্থ হলো, আমরা যখন উপলব্ধি করতে পারব যে, আত্মা বলে একটা জিনিস আছে, উপলব্ধি বলে একটা জিনিস আছে, যেটা দেহনির্ভর নয়, অথবা বলা যায় যেটা দেহনির্ভর হয়েও দেহনির্ভর নয়, যার একটা অস্তিত্ব আছে, আমাদের জীবিতকালের পূর্বেও এবং জীবিতকালের পরেও, যার অস্তিত্বেও একটা ধারাক্রম আছে। সেই আত্মার জাগৃতি আমাদের প্রয়োজন। সাহিত্যে আমরা আত্মার এই জাগৃতি কামনা করি।
এটা সত্য যে, বিশ্বাসটা মানুষ বর্তমান পৃথিবীতে হারিয়ে ফেলেছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য। এই যে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে এর কতগুলো কারণ আমি বলব। প্রথম কারণ, আমাদের পাঠক্রমের মধ্যে আমাদের ধর্মগ্রন্থ নেই এবং ধর্মগ্রন্থের যে ভাষা সে ভাষার সঙ্গে আমাদের যোগাযযাগ নেই। সুতরাং এ ক্রটি আমাদের নয়। এ যোগাযোগ থাকার কারণে আমরা বিচ্যুত হয়ে পড়েছি। দ্বিতীয় হচ্ছে, নিজের জীবনের জন্য আমরা নিজেরা কোনো শাসন উপস্থিত করছি না। আমাদের জীবনে রাজনৈতিক শাসন আছে, সামাজিক শাসন আছে, কিন্তু নিজের দিক থেকে যে শাসন আমি আমার উপর অর্পণ করব, সেই শাসন আমাদের জীবনে তৈরি হচ্ছে না। বিশ্বাসের থেকেই সে শাসনটা আসে। সেই বিশ্বাসের থেকে যে শাসনের জন্ম তা আমাদের জীবনের মধ্যে আনতে হবে। স্থিতিশীলতা কামনা করা অর্থাৎ জীবনের সমস্ত বিপর্যয় থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ একটা সমৃদ্ধির অংগনে পৌঁছাবে। এ স্থিতিশীল সমৃদ্ধির অংগন নির্মাণের জন্য আমাদের নিজেদের জীবনকে সংহত করতে হবে। বিশৃংখল অবস্থা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে হবে। বিশৃংখল অবস্থা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে হবে। সেই কারণে আমি বলব যে, যে বিকারগুলো জীবনে থাকে তার প্রদর্শন সাহিত্যের লক্ষণ নয়। সে বিকার সাহিত্যিকের উদ্দেশ্য নয়। বিকার সাহিত্যের মধ্যে আসতে পারে, সাহিত্যের প্রয়োজনে। কখনো কখনো আসতে পারে, কিন্তু তা সাহিত্যের মূল উপজীব্য নয়। একটি হাদীসে আছে, অনেকে বলেন যে, এটা সহীহ্ হাদীস নয়, প্রবচন, যাই হােক সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘আল খায়রু মীরাসুল মোমিন। অর্থাৎ যা কিছু কল্যাণপ্রদ তা হচ্ছে বিশ্বাসীর উত্তরাধিকার। সুতরাং যা কিছু কল্যাণপ্রদ, তা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, সেই কল্যাণপ্রদ বস্তুকে আমাদের জীবনের উত্তরাধিকার করে যদি সাহিত্যকর্মে অগ্রসর হই, তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের সফলতা আসবে।
চলবে...