ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
বজ্রাঘাতে মেঘনায় পড়ে ৩ জেলে নিখোঁজ
Published : Friday, 16 September, 2022 at 12:00 AM
বরিশালে মেঘনা নদীতে জাল টানার সময় বজ্রাঘাতে নদীতে পড়ে তিন জেলে নিখোঁজ এবং দুই জেলে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই জন বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিখোঁজ তিন জেলের মধ্যে রয়েছেন হিজলার মেমানিয়া ইউনিয়নের মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিকিম আলী সরদারের ছেলে মোক্তার সরদার, একই গ্রামের খলিল রাঢ়ীর ছেলে আমির রাঢ়ী এবং বারেক সরদারের ছেলে ফরহাদ সরদার। আহত দুই জন রবিউল সরদার ও ওসমান বেপারী।
নিখোঁজ মোক্তারের ভাই আলতাফ সরদার বলেন, সকালে এক জেলে ফোনে কল দিয়ে জানান বজ্রাঘাতের পর নদীতে পড়ে আমার ভাইসহ তিন জেলে নিখোঁজ হয়েছে। এরপর মোক্তারের মোবাইলফোনে কল দিয়ে তা বন্ধ পাই। অপর নিখোঁজ জেলেদের মোবাইলফোনেও কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর একটি ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বজ্রাঘাতের বিষয়টি জানতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত ওই তিন জনের সন্ধান মেলেনি। থানা থেকেও ?আমাকে ফোন দেওয়া হয়েছে।
আলতাফ আরও বলেন, আহত রবিউল সরদার আমার ভাতিজা। সে ও তার সঙ্গে থাকা আহত অপর জেলে ওসমানের অবস্থা এখন ভালো। তারা জানিয়েছেন বিজলি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই তিন জন নদীতে পড়ে যান। তারাও নৌকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর অন্য জেলে নৌকা এসে সন্ধান চালায়। তবে নদীতে পড়ে যাওয়াদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
হিজলা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ চন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের টিম রওয়ানা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল বেশ দূরে হওয়ায় তাদের পৌঁছাতে সময় লাগছে।


৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ
প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে যারা মাছ ধরতে নামে, তারা সবাই মৎস্যজীবী নয়। তাদের নেপথ্যে অনেক ধনী ব্যক্তি থাকে, ক্ষমতাবান ব্যক্তি থাকে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় অতীতের মতো এবারও এসব অসাধু ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইলিশ সম্পদ ধ্বংসকারী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনে অভিযানের পাশাপাশি এবার রাতেও অভিযান জোরদার করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলায় বরফ কল বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। গত বছরের মতো এবারও অবৈধ জাল উৎপাদনস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ পথে ইলিশ পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইলিশ সম্পৃক্ত জেলা উপজেলায় নদীতে ড্রেজিং বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের মাধ্যমে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে যা যা করা দরকার তা করতে হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, মাছ ধরা বন্ধকালে যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধিত জেলেদের নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। জেলদের জন্য নানাভাবে রাষ্ট্র সহায়তা করছে।
অতীতে এত ইলিশ উৎপাদন হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে গ্রাম-গঞ্জে এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারছে। ইলিশ রপ্তানিও করা যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, প্রজননস্থলে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ইলিশের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে ধরনের পরিবেশ ইলিশ ডিম দেওয়ার জন্য উপযুক্ত অনেক সময় ভারী যানবাহন চলাচল, যানবাহনের পোড়া মবিল নির্গত হওয়া, ময়লা-আবর্জনা নির্গত হওয়ায় কারণে ইলিশের প্রজনন পরিবেশ নষ্ট হয়। ফলে ইলিশ ওই অঞ্চলে থাকে না। অন্যত্র চলে যায়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মো. তৌফিকুল আরিফ, এ টি এম মোস্তফা কামাল ও আব্দূল কাইয়ূম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক মো. মনজুর হাসান ভুঁইয়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব, নৌ পুলিশ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, মৎস্য বিজ্ঞানী, ইলিশ সম্পৃক্ত জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা, ওয়ার্ল্ড ফিশের প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।