অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিম্বাবুয়ের ইতিহাস
Published : Sunday, 4 September, 2022 at 12:00 AM
সাম্প্রতিক সময়ে
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে বদলের হাওয়া লেগেছে। একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে দলটি।
এই তো গত মাসেই ৯ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস
গড়েছে তারা। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট যে বদলে যাচ্ছে তারই আরেকটি বড় নমুনা দেখা
গেলো গতকাল শনিবার। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে উড়িয়ে দিয়ে
ইতিহাস গড়ছে আফ্রিকার দেশটি।
প্রথম দুই ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায়
ছিল সফরকারী জিম্বাবুয়ে। তবে টাউনসভিলে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে নিজেদের
শক্তি দেখালো রেগিস চাকাভার দল। অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে প্রথমবার হারের
তিক্ততা দিলো জিম্বাবুয়ে। ইতিহাস গড়ার ম্যাচ আফ্রিকান দেশটি জিতেছে ৩
উইকেটে। তাদের বোলিংয়ে কোণঠাসা হয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৪১ রানের গুটিয়ে যায়। সহজ
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১ ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে
জিম্বাবুয়ে। যদিও সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ওয়ানডে
হারে স্বাগতিকরা সিরিজ জিতলো ২-১ ব্যবধানে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের এটি তৃতীয় জয়। এর আগের ৩২ ওয়ানডেতে দুটি
জিতেছিল তারা। ১৯৮৩ সালে মুখোমুখি হওয়া প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল
জিম্বাবুয়ে। সেবার বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল দলটি। দ্বিতীয়
জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩১ বছর। ২০১৪ সালে চিগাম্বুরা-টেলররা
হারিয়ে দেন মাইকেল ক্লার্কের দলকে। আর এবার দীর্ঘ ৮ বছর পর পেলো তৃতীয় জয়।
জিম্বাবুয়ের
ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। বিশেষ করে, লেগ স্পিনার রায়ান বার্ল
ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের হয়ে রেকর্ড বোলিং
করা বার্লের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা। ৩ ওভারে মাত্র
১০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। ডেভিড ওয়ার্নার ৯৪ রান করার পরও ৩১ ওভারে
১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নার ছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কেবল
দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। বাকিদের কেউই ৫ রানের সীমানা ছাড়াতে
পারেননি!
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে বার্ল মাত্র ৩ ওভারে ১০ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। এছাড়া ২ উইকেট পেয়েছেন পেসার ব্র্যাড এভান্স।
১৪২
রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা।
তারপরও অজি পেসার জশ হ্যাজেলউডের তোপে পথ হারিয়ে ফেলতে যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে।
অবশ্য দলকে লক্ষ্যে নিয়ে যান অধিনায়ক চাকাভা। তার ৩৭ রানের অপরাজিত
ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১১ ওভার হাতে রেখে ঐতিহাসিক জয় পায় জিম্বাবুয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার হ্যাজেলউড সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন রায়ান
বার্ল। আর সিরিজসেরা অ্যাডাম জাম্পা।