ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
যে কথা যায় না বলা সে কথা কোথায় নিত্যবাজে?
Published : Monday, 25 July, 2022 at 12:00 AM, Update: 25.07.2022 1:51:55 AM
যে কথা যায় না বলা সে কথা কোথায় নিত্যবাজে?শাহীন শাহ্ ||
সুহৃদ কবি সফিকুল ইসলাম একজন প্রথম শ্রেণির দক্ষ কর্মকর্তা। তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উপ-সচিব পদমর্যাদায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন স্বমহিমায়। বাংলা সাহিত্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বিচরণ খুবই সীমিত পর্যায়ে। গুটি কয়েকজন যেমন  শহীদুল জহির (প্রয়াত), কামাল চৌধুরী সমকালীন লেখকদের সাথে বেশ মনে রাখার মতো সাহিত্যে অবদান রেখেছেন। শুধু বর্তমান সময়ে নয়, অতীতেও কতিপয় স্বনামধন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিচরণ ছিল বাংলা সাহিত্যে।
কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা বইটির নাম, “যে কথা যায় না বলা, সে কথা কোথায় নিত্য বাজে?” এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। বইটিকে কবি সাজিয়েছেন ৪৮টি কবিতা ও একটি মুক্ত কবিতা দিয়ে, যেন ফুলের পাহাড়ে বৃষ্টির ঢেউ আছড়ে পড়ছে হলুদ সন্ধ্যায়। বইটিতে সন্নিবেশিত প্রতিটি কবিতা দৃষ্টি গোচর হয়েছে নিবিড়ভাবে। দেখে বুঝবার কোন জো নেই, এটি ডঃ শফিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। একজন দায়িত্বশীল উচ্চ-পদমর্যাদাবান সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সাহিত্য চর্চায় নিজেকে জড়িয়ে নেওয়া আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার কবিতার শুরু থেকে শেষ কবিতাটি পর্যন্ত এক ধরনের আবহ তৈরী করেছে, যা পাঠক থেকে পাঠকের হৃদয় কেড়ে নিবে বিশ্বাস করি। আমি  আশা করতে সাহস পাইযে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বইটি পাঠকের পাঠের উপজিব্য হবে। আধুনিক সাহিত্যে যাদের বিচরণ গৌরবের শীর্ষে, তাদের প্রায় সকলেই জীবনের শুরুতে কবিতা লেখা দিয়ে সাহিত্য পথের যাত্রা করেন। তাদের কবিতার সমারোহ যথেষ্ট সমৃদ্ধ অবস্থানে পরিপূর্ণ। প্রশ্ন হচ্ছে, কবিতা বোঝে, কবিতা হৃদয়ে ধারণ করে কিংবা কবিতাকে ভালোবেসে জীবন অতিবাহিত করতে পেরেছেন কয়জন? কবিতা হচ্ছে মহা জ্ঞান ও সু-বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিশেষে করে বাংলা সাহিত্যে কবিতা একটা বিশাল জায়গা দখল করে আছে স্বমহিমায়। একজন কবি তার জীবনের সবটুকু সময় কবিতা নির্মাণে ব্যয়িত করেন বেদনা-বিষাদ কিংবা আনন্দ শিহরণ  জাগিয়ে। জল-হাওয়া-নিসর্গ-মেঘ-প্রকৃতি সবকিছুমিলে জীবন্ত হয়ে ওঠে কবির কবিতায়। কবিতা যে পরম যত্নে গড়ে তোলা এক সৌন্দর্য্যরে নিষ্পাপ সসীম অসীমের বন্ধন পাঠক মহলে স্বীকৃত। জীবনের প্রথমে  কখন কবিতা পড়তে শুরু করেছিলাম তা স্মৃতির ঝাঁপিতে জমা নেই বলে মনে করতে পারছি না।
 তবে শৈশবে এতটুকু মনে পড়ে আমাদের পাড়ার ছেলে-মেয়েরা অপেক্ষাকৃত উপরের ক্লাসের যারা পড়ুয়া, তারা যখন সন্ধ্যার অন্ধকারে হারিকেনের আলোয় গড়গড় করে আওয়াজ তুলে পড়তেন “বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক বলার কাজলা দিদি কই”, কিংবা ‘এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে। তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।’ তাদের কবিতা পড়াশুনে ভাবতাম কবিতা হচ্ছে খুবই মজার এবং আনন্দের। সেই থেকে ধীরে ধীরে কবিতার টানে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। অর্থের মোহে নয়, প্রতিপত্তির মোহে নয়, মানুষের মুখে সাধুবাদে নয়, যদি কোন সংস্কৃতির সভায় উপস্থিত হয়ে প্রিয় কবির লেখা কয়েকটি লাইন উপস্থিত স্রোতা-দর্শকদের সামনে দৃঢ়কন্ঠে উচ্চারণ করতে পারি, সেদিন আমার চেয়ে সুখী আর কে বা হতে পারে? আমার চেয়ে স্বার্থক আর কে হতে পারে?
আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের লেখকগণ আত্মপ্রকাশের দায় থেকে লেখেন। আর লিখেন বলেই আমাদের সাহিত্যের জায়গাটা টিকে আছে  কোনোরকমভাবে। কবি সফিকুল ইসলাম তার ভাবনার জায়গাটায় জুড়ে আছে প্রকৃতি, মানুষ, জীবন, ভূগোল এবং মানুষের সকল অনুভূতির আবেগ, কাতরতা-বেদনা-বিষাদ, রোমন্থন, প্রবল বিচ্ছেদের সুর, নরম পলিমাটির সোঁদা গন্ধে ভরা মাঠ-প্রান্তর, কৃষকের বুক, নাও, মাঝি বৈঠা, প্রিয়তমার অস্পর্শনীয় সুগন্ধিযুক্ত স্নিগ্ধেভরা অনুভূতি। আছে হাহাকার, আছে অতীত স্মৃতির ঝাঁপি, আছে বর্তমান, নেই কেবল ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ কবি এড়িয়ে গেছেন, অনুপস্থিত রেখেছেন প্রিয় শব্দমালা দিয়ে সাজানো কবিতায়। কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা বিষয়ে আলোচনার গোড়ায় দাঁড়িয়ে যেসব জিনিষ সবচেয়ে জরুরি, সেটি হচ্ছে তার কবিতার নানা বাঁকে, ভঙ্গিতে ও বৈশিষ্টে মানুষের সাথে, প্রকৃতির সাথে, যে সম্পর্ক তৈরী করেছেন তা নিঃসন্দেহে নান্দনিক উপস্থাপন। তিনি জল-কাঁদা-মাটি-মেঘ-হাওয়া-ধূলি-নদী-প্রেম- হাহাকার প্রকৃতির এসব অনুষঙ্গের সাথে যে বন্ধন তৈরী করেছেন এবং যে সংশ্লেষ তৈরী করেছেন এসবে পরিচয় মেলেছে তার কবি সত্ত্বার ভাবোচ্ছ্বাসের জায়াগাটায় যে কতটা বিশাল। গ্রন্থটিতে তার স্মৃতি, দর্শন ও উপলব্ধি দারুণভাবে  মেলে ধরেছেন। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কবি সফিকুল ইসলামের সাথে আমার পরিচয় এবং সম্পর্ক তেমন নেই বটে। কাব্যগ্রন্থটি পড়ে হৃদয়ে বিশ্বাস জাগল, সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে সরকারী চাকুরি বাঁধা নয়, দরকার সাহিত্য প্রেম। বলা দরকার ডঃ কবি সফিকুল ইসলামের ভেতরে সাহিত্য প্রেম আছে। সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ তাকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে লেখকদের সঙ্গের চেয়ে তাদের লেখা, তাদের সৃষ্ট কর্মের সঙ্গ বেশি উপভোগ করি। ডঃ সফিকের কবিতার সঙ্গ যে উপভোগ করেছি, তার দু-চার লাইন উদ্বৃতি না দিলে, আমার লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে নিশ্চই। তার লেখা ‘জানালা’ কবিতার অংশ বিশেষ,
“বসা নেই, উড়ালে নেই, শিসে নেই, কোথাও নেই
আমার কেমন যেন শূন্য লাগে, বুকে হাহাকার করে
মনে হয় আমি নিশিরাতে অন্ধকার কবরস্থানে
একা বসে আছি।
সূর্য নয়, চাঁদ নয়, পৃথিবী নয়, আমিও নয়,
আমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে কেবল পাখিটি বসে আছে।”
আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় কবি সফিক একটা অভূতপূর্ব মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে। পৃথিবীর সকল মহান কবি-ই তাঁদের নিজস্ব বলয়ের ভিতর থেকে নিজেদের প্রকাশ করেছেন। যখন নেরুদার কবিতার দিকে তাকাই তখন অনুভবে জাগে এটি তখনকার চিলিরই কবিতা। শেক্সপিয়ারের নাটক বা কবিতা তখনকার ইংল্যান্ডেরই আদর্শিক দলিল। কবি ডঃ সফিক একটি পাখিকে কেন্দ্র করে যে শব্দের পসরা সাজিয়ে কবিতা করে  তুলেছেন, কবিতা পাঠকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। ‘গহীনে যার বাস’ কবিতায় লিখেছেন,
“শামুক আমি খোলস থেকে মুখ বের করে হাসি
তুমি ঠিকই ধরেছ আমি সব ভুলে গেছি।
চাঁদের আলোয় যে অপ্সরী হাঁটে
সেকি কেবলই ছায়া
তোমারে চিনতে গিয়ে, আমি আমারে চিনিনা।”
মুক্ত মনে প্রকাশ  প্রেয়সির অধরা প্রাণ ছোঁয়া প্রাণবন্তই মনে হয়েছে। কবির হৃদয় জুড়ে কল্পনার মায়াবী প্রেম দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। ব্যাকুলিত মনে প্রিয়তমাকে চিনতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন ভালোবাসার গহীন ভিতরে।
শূন্যতা কবিতায় লিখেছেন,
‘‘অপ্সরীর সুন্দরে না দিলে ঝাপ
কেউ দেখে না তার কুৎসিত বাঁক।
দেখি শূন্যতাই পূর্ণতা, আবার পূর্ণতাই শূন্যতা,
শূন্যকেই করি সদা, জেনেশুনে জীবনের পূর্ণতা।’’
কবি সফিক যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার অনুলিপি হিসেবে প্রকাশ করেছেন। বাহিরের সৌন্দর্য্যরে প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে ভেতরের রুপের আবিষ্কার, অভিজ্ঞতা ও সৌন্দর্য্যরে বেদিতে রমনীর ভেতর বাহির নিরুপণ করে জীবনকে মিলনের মোহনায় উপভোগের দারুণ উপলব্ধি সমবেত করেছেন। সময়ের অবুঝ কবিতার শেষ দুটি লাইন,
‘‘শিশু সুলভ বোকামিটাই আসল সুন্দর ও শ্বাসত
বাকীসব কাজ কেবলি নকল যা করেছি অবিরত ॥’’
শিশুদের অবুঝ কচি মনে যে ভাবের উদয় হয়, যে প্রেরণা তৈরি হয়, সঠিক হউক আর ভুল হউক, শিশুদের ভাব এবং উচ্ছ্বলতা মন্দিরের শিখড়ের মতো পবিত্র। পরিপূর্ণ বয়সে যত কামনা-বাসনা, ভালোবাসা শিশুকালীন সময়ের যে কোন উদাহরণের সাথে তুলনা হয় না। কবি যথার্থ লিখেছেন এবং স্বীকার করে নেওয়া ভালো, শৈশবের কামনা বাসনা, আশাকরা কিংবা পাওয়া না পাওয়ার যোগ বিয়োগ একেবারেই শাশ্বত। কবিতার বিষয়, শরীর, আত্মার চেতনা পারষ্পরিক সম্পর্কের জায়গাটাকে গভীরভাবে যিনি চিনতে ও বুঝতে পারেন আসলে তিনিই কবি, তিনিই সংস্কৃতির বিবেক। কবি সফিক নীরবতা কবিতায় লিখেন,
‘‘ক্ষান্ত আমি ক্লান্ত নহি ভ্রান্ত হবো নাকো
ঝড়ের পরের স্তব্দ সেজে হারব না কোথাও
মৌন শোকের নিষ্ফল বিলাপ অস্ত যাবে যবে
নীরব নির্বাক গ্রহণ কেটে সূর্য উঠবে তবে ॥’’
কবি আশাবাদি এবং সকল কবিরাই আশাবাদী। কবির সুন্দর উপস্থাপনাÑ “নীরব নির্বাক গ্রহণ কেটে সূর্য উঠবে তবে।” আঁধার শেষে আলো আসবে, সেই আলোয় কেঁটে যাবে যতসব হতাশা যতসব অন্ধকার, যতসব সংকট।
কবি মুক্ত ছন্দে লিখেন,
“আমি আসলে দশ দিকেই যাই, দশদিকে নিজেকে দশভাগ করে দিকের শেষে নিয়ে যাই। গিয়ে ব্যর্থরথে ঢাকায় আসি।
তোমাকে পাব বলে। দেখি তুমি গোলাপশাহর মাজারে বসে আছো ঘোমটা দিয়ে। কী যেন চাইছো খুব মনোযোগ দিয়ে। আমি তোমাকে অবাক করে দেব বলে হঠাৎ তোমার ঘোমটা খুলে দেই। লোকেরা আমারে ছিনতাইকারী বলে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে অজ্ঞান হয়ে গেলে আমি ভুল করে বেহেশতে চলে যাই। জান্নাতুল ফেরদাউসে বসে দেখি, তুমি পুষ্পশয্যায় আমার পাশে বসা। অপ্সরীরা এমনই হয়। ভুল করে ভুল পথে না গেলে এদের পাওয়া যায় না”।
কবির প্রেম, না পাওয়ার বেদনা তাকে আরো পবিত্র করেছে। আকাক্সক্ষা শুন্য বুকে হাহাকার, না পাওয়ার আকুতি পাঠক হৃদয়ে ঠাঁই করে নিবে একজন মহান শিল্পি হিসেবে। কবির ভাবনার জায়গাটা কতটা উদার হলে, কতটা প্রশস্ত হলে, নিজেকে একজন উদাস প্রেমিক হিসেবে মেলে ধরতে পারেন, যা ভাবতে গেলে বিষ্ময়ে বুক ভরে যায়। মাথায় তার চাকরির যন্ত্রনা কিন্তু ভেতরে সাহিত্য লালন করা। অন্তরের গহীনে থরে থরে সাজানো ভাবনাগুলো সাদা কাগজের বুকে-পিঠে প্রিয় প্রিয় বর্ণের সংশ্লেষ ঘটিয়ে যে কাব্যের প্রকাশ করলেন, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পাঠক মহলে সমাদৃত হবে নিশ্চই।
কবি সফিকের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার বাদুইর গ্রামের এক রত্নগর্ভা পরিবারে। কবির উৎসাহের কিংবা প্রেরণার আসল জায়গাটা হচ্ছে তার অগ্রজ প্রতিবেশি কবি আল মাহমুদ, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, আফতাব উদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, দানবীর মহেশ ভট্টাচার্য ও প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ। এরা প্রত্যেকের জন্মভিটে কবি শফিকের মাতুলালয়ের অতি নিকটে। কবি ড: শফিক ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে মার্কেটিং এ বি.বি.এ ও এম.বি.এ করেন। জাপানের কোবে বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে এমফিল ও অষ্ট্রিলিয়া থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তার কাব্যগ্রন্থটি বিশ্লেষণে প্রশংসা কুড়ালেও কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। সেটি হচ্ছে কবিতায় অতিরিক্ত শব্দের প্রয়োগ তিনি করেছেন। ফলে কবিতার শরীরে মেদ বেড়েছে। শব্দ প্রয়োগে সাবধানতা অবলম্বন করলে কবিতা আরো ঝরঝরে হবে নিশ্চই। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কবিতার ভেতর নিজের সমস্ত বর্তমান, তার আত্মা, তার শরীর, বাসনা সবকিছুকে খুঁজে বুঝে এবং যুঝে মোহাম্মদ শফীকুল ইসলাম আধুনিক সভ্যতায় এই অভূতপূর্ব কাব্য গ্রন্থটি রচনা করলেন। আমাদের সকল পাঠকের মর্মোদ্ধারের লেখার সৃজনের ভাঁজে-খাঁজে প্রেম আর অমর প্রত্যাশার স্নিগ্ধ গোলাপ সাহিত্যের দরজায় নরম আলো ফেলেছে, যা উপলব্ধির গভীরে মেতে উঠেছে, এক উৎসবের নিবিড় আমেজ। যা এই বাংলার উদার কাব্য জমিনে যোগ হয়েছে একটি শিরোনাম-
“যে কথা যায়না বলা
সে কথা কোথায় নিত্যবাজে?”
লেখক: অধ্যাপক, কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক