
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবার মহাসড়কে
মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য বলছে, যে উদ্দেশ্যে
মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গত রোজার ঈদ ঘিরে
১৪ দিনে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক প্রতিবেদনে
জানিয়েছিল, ওই সময়ে ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, ওই সময়ের মোট দুর্ঘটনার ৪৫.২২ শতাংশ
মোটরসাইকেলের।
আর মোট মৃত্যুর ৪১.৪৮ শতাংশ ঘটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
দুর্ঘটনার রাশ টেনে ধরতে কোরবানির ঈদের আগে-পরে সাত দিন মহাসড়কে মোটরসাইকেল
চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। কিন্তু তাতে কি দুর্ঘটনা কমেছে?
বাংলাদেশ
যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ঈদুল আজহায় সড়কে সাত
বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ৩ জুলাই থেকে ঈদ শেষে
কর্মস্থলে ফেরা ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৮ জনের
মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৭৭৪ জন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে
ছিল মোটরসাইকেল। ঈদুল আজহায় ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩১ জনের মৃত্যু
হয়েছে, আহত ৬৮ জন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫.৪২ শতাংশ এবং নিহতের ৩২.৯১
শতাংশ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেপরোয়া
গতি, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় ঈদে
যাতায়াতকারী ব্যক্তিগত যানের চালকরা রাতে এসব জাতীয় সড়কে ঝুঁকি নিয়ে
যানবাহন চালান। জাতীয়, আঞ্চলিক ও ফিডার রোডে টার্নিং চিহ্ন না থাকায় নতুন
চালকরা এসব সড়কে দুর্ঘটনায় পতিত হন। মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের
ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টো পথে যানবাহন চালানো, সড়কে
চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন এবং মোটরসাইকেল, ইজি বাইক,
অটোরিকশার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।
দুর্ঘটনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক বিভাজক না থাকার কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা
বাড়ছে। এ ছাড়া পথচারীর জন্য নিরাপদ ফুটপাত না থাকায় পথচারীর মৃত্যুর হার
আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই দুটি বিষয়ে মনোযোগী হলে উল্লেখযোগ্য হারে
দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁদের মতে, পরিবহন সেক্টরে
সুশাসন না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে সড়ক পরিবহন খাতের ‘নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার’
কারণে। এ অবস্থার উন্নয়নে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি
‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়ন করতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতাই ভবিষ্যতের বড় দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি দিতে পারে।