এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন মিরাজের
Published : Friday, 22 July, 2022 at 12:00 AM
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে এখনও পায়ের নিচে মাটি খুঁজে ফেরা বাংলাদেশ ওয়ানডেতে অবশ্য এরই মধ্েয নিজেদের একটি জায়গা করে নিতে পেরেছে। নিজস্ব ঘরানার ছাপ রেখে নতুন উচ্চতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। পরিসংখ্যানেও আছে এর স্পষ্ট ছাপ। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসও এখন তুঙ্গে। এবার এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে বাংলাদেশ দলের ছয় সদস্য বুধবার ঢাকায় ফিরেছেন। এর মধ্েয ক্রিকেটার দুই জন, মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।
ওই সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ভেসে যায় আরেক ম্যাচ। হতাশার সফরের শেষটায় অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করে তামিম ইকবালের দল।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্যের মুকুটে যা নতুন পালক। তামিমের নেতৃত্বে ছয় সিরিজ খেলে পাঁচটিতে জিতেছে দল। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে এগিয়ে গেছে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথে। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে আছে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে।
২০১৪ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা আবার ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার আগে ফল হওয়া ২৮৫ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছিল ৮০টি, হার ২০৫টি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ফল হওয়া ১০৫ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৬৩টি, হার ৪২টি।
দেশের মাটিতে বাংলাদেশ হারাতে পারে যে কোনো দলকে। প্রতিপক্ষের মাঠে কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও জিততে পারে তারা। ২০১৫ বিশ্বকাপ, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দেখিয়েছে এর প্রমাণ। চলতি বছর সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানে এর আগে কখনও কোনো সংস্করণে স্বাগতিকদের হারানো যায়নি কোনো ম্যাচে।
এমন একটি দল নিয়ে বড় স্বপ্ন তো দেখাই যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিভিন্ন সময়ে সে কথা বলেছেনও। তাদের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল মিরাজের কণ্ঠে।
“২০২৩ বিশ্বকাপ তো বেশি দূরে নেই। হয়তো ১৫ মাস বাকি আছে। আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ায় এগোলে সামনের বিশ্বকাপ আমাদের জন্য আরও বেশি ভালো হবে। কারণ, অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও থাকবে। মোটামুটি ভালো একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলতে পারব।”
তামিম, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার পূর্ণ। মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদরা খেলছেন অনেক দিন ধরে। মিরাজও কম খেলেননি। সব মিলিয়ে থিতু একটি ওয়ানডে দলই আছে বাংলাদেশের।
কদিন আগে অধিনায়ক তামিম জানান, ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৩ বিশ্বকাপ দিয়েই চার সিনিয়র ক্রিকেটারের শেষ। তাদের বিদায়টা রাঙিয়ে রাখার ভাবনা খেলছে মিরাজের মনে।
“বিশ্বকাপে ভালো কিছু করলে, আমাদের নিজেদের জন্য ভালো হবে, দেশের জন্যও ভালো হবে। অবশ্যই উনারা থাকতেই বড় একটা অর্জন করার চেষ্টা করব। কিন্তু এটা তো আপনি বলতে পারেন না যে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নই হব। আমরা চেষ্টা করতে পারি, হয়তো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। কীভাবে বিশ্বকাপ জেতা যায়, সেই পথটা আমরা বের করতে পারি। এটা ভাগ্েযর উপর। আমরা তো স্বপ্ন দেখি এশিয়া কাপ জিতব, বিশ্বকাপ জিতব।”