
ক্রীড়া প্রতিবেদক ||
এশিয়ান
কাপ বাছাইয়ে দুই দলেরই শুরুটা হার দিয়ে। স্বাভাবিকভাবে তাই ঘুরে দাঁড়াতে
মরিয়া উভয় পক্ষ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যদিও বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে
তুর্কমেনিস্তান, তবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ভালো
কিছুর প্রত্যাশা নিয়েই কষছেন ছক।
মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুরের বুকিত
জলিল জাতীয় স্টেডিয়ামে শনিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল
দুটি। বাহরাইনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে বাছাই শুরু করেছে বাংলাদেশ। আর
স্বাগতিক মালয়েশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তুর্কমেনিস্তান।
হারে
শুরু-এই দিকটি বাদ দিলে তুর্কমেনিস্তানই এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের
অবস্থান ১৩৪তম, বাংলাদেশ ১৮৮তম। আগের একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলও
তুর্কমেনিস্তানের পক্ষে; ২০০২ সালে এশিয়ান গেমসে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা।
আরেকটি
পরিসংখ্যানের পাতায় অবশ্য কিছুটা স্বস্তি আছে বাংলাদেশের। এ বছর খেলা তিন
ম্যাচের মধ্যে দুটি ড্রয়ের বিপরীতে একটি হার কাবরেরার দলের। অন্যদিকে,
তুর্কমেনিস্তান হেরেছে এ বছর দুই ম্যাচ খেলেই। মালয়েশিয়া ম্যাচের আগে
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হেরেছিল তারা।
পরিসংখ্যানের
চেয়ে অবশ্য কাবরেরার বড় স্বস্তির জায়গা বাহরাইন ম্যাচের পারফরম্যান্স।
প্রথমার্ধের শুরুর দিক দারুণ খেলা দল বিরতির আগে খেই হারিয়ে হজম করেছিল দুই
গোল। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলে বাহরাইনকে আটকে রাখে
জিকো-ফাহাদরা।
হারের হতাশা থাকলেও প্রথম ম্যাচে ভালো খেলার
তৃপ্তিটুকু নিয়ে দুই দিন প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ। কাজ করেছে নিজেদের
শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের উচ্চতার দিকে খেয়াল
রেখে সেট-পিসে বাড়তি দৃষ্টি দিয়েছেন কোচ। মালয়েশিয়া-তুর্কমেনিস্তান ম্যাচ
পর্যালোচনা করে কৌশল নির্ধারণের কথাও বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায়
জানিয়েছেন তিনি।
“বাহরাইনের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের
পর গতকাল রিকভারি ও বিশ্রামের জন্য কিছুটা সময় খেলোয়াড়দের দিয়েছিলাম।
টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে নিজেদের শক্তি নিয়ে এবং কোন জায়গায় উন্নতি করা
দরকার, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি।”
“মালয়েশিয়ার বিপক্ষে
তুর্কমেনিস্তানের পারফরম্যান্সও পর্যালোচনা করেছি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দিক
থেকে তারা খুবই শক্তিশালী, আমাদের চেয়ে ৫৪ ধাপ এগিয়ে। কিন্তু আমি মনে করি,
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে তাদের কিছু সমস্যা হয়েছিল এবং সেটা
মালয়েশিয়ার শুরুটা দারুণ ছিল বলে।”
লক্ষ্য নিয়ে বরাবরের মতোই
আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন কাবরেরা। তুর্কমেনিস্তানকে শক্তিশালী মানলেও তাদের
বিপক্ষে ‘সুযোগ আছে’ বলে মনে করেন এই স্প্যানিশ কোচ।
“আগামীকালের
ম্যাচের জন্য রিচার্জ হয়েছি, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য, কিছু পাওয়ার জন্য
প্রস্তুতি নিয়েছি। সবসময় আমাদের লক্ষ্য জেতা, কিন্তু আবারও বলছি, আমাদের
মূল চাওয়াটা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ খেলাটা খেলা। সবশেষ ম্যাচে আমরা
খুবই লড়াকু ফুটবল খেলেছিলাম, তুর্কমেনিস্তান ম্যাচেও চাওয়া থাকবে সেই লাইন,
পরিকল্পনা ধরে রাখা। আগামীকাল আমাদের সুযোগ আছে এবং এ ব্যাপারে আমি
আশাবাদী।”
কাবরেরার প্রস্তুতির ধরণ, আন্তরিকতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে
সবসময় যোগাযোগ রাখার মানসিকতার আকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন জামাল ভূইয়া। বাংলাদেশ
অধিনায়কও জানালেন প্রস্তুত তার দল।
“আমাদের প্রস্তুতি ভালো। গতকাল দলের সবাইকে খুশি দেখেছি, তুর্কমেনিস্তান ম্যাচের জন্য প্রস্তুত সবাই। সবাই খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।”