ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
জীবনবোধ ও জীবনদর্শন
Published : Wednesday, 8 June, 2022 at 12:00 AM
জীবনবোধ ও জীবনদর্শনজুলফিকার নিউটন ||
পূর্বে প্রকাশের পর
২২
সৌন্দর্য শব্দটির যথার্থ তাৎপর্য কি? কলেজ জীবনে আমার যে বয়স তখন এ প্রশ্নটা আমার মনে উত্থাপিত হয়েছে। দার্শনিক তাৎপর্যে উত্থাপিত হয়েছে একথা বলবো না, কিন্তু একটা আনন্দ এবং শোভার বিকাশ হিসাবে অবশ্যই উত্থাপিত হয়েছিল। মানুষের স্বাস্থ্যবান শরীর, রমণীর দেহসৌষ্ঠব, পত্রভারে সমাচ্ছন্ন বৃক্ষরাজি, কল্লোলিত নদী, সবই আমার দৃষ্টিতে সুন্দর লাগতো। বিশেষ করে আকাশে যখন মেঘ জমতো এবং নানা রকম আকৃতি গঠন করে আকাশের এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতো তখন এগুলোর মধ্যে আমি সৌন্দর্যের উৎস সন্ধান করতাম। কালবৈশাখীর বিপুল বেগ এবং সমাচ্ছন্ন অন্ধকারের দ্রুত ধাবমানতা আমাকে বিহ্বল করতো। বাতাসে ধুলো উড়তো, গাছের শুকনো পাতা উড়তো, গাছের ডালে শব্দ হত এবং পাখিগুলি আর্তস্বরে পলায়নপর হত, তখন মুহ্যমান ভূখন্ডের যে চিত্র আমার সামনে উদ্ভাসিত হতো তা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারবো না। এদেশে আমাদের জীবন হচ্ছে বৃষ্টির ঝড় এবং প্রলয়োল্লাসের জীবন। আমার কৈশোরে এ জীবনের মধ্যে জেগে উঠতে চেয়েছি। তাই বিপুল বিপর্যয়কে আমি দৃষ্টির তাৎপর্যে প্রবহমান করতে চাইতাম।
প্রকৃতির প্রতি মানুষের জীবনকে নানাভাবে সমর্থন করে, উদ্ভাসিত করে। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে চিরদিন এ পৃথিবীতে বাস করি। যারা মরুভূমিতে বাস করে তারা আধুনিক বিজ্ঞানের সহায়তায় স্নিগ্ধতা এবং শীতলতা নির্মাণ করে গৃহের অভ্যন্তরে বাস করে এটা ঠিক কিন্তু তবু কখনো কখনো তারা তাবু খাটিয়ে মরুভূমির মধ্যে বাস করতে চায় এবং মরুভূমির উষ্ণতা এবং নির্জনতার স্বাদ না পেলে তারা অস্থির হয়। পাহাড়ী অঞ্চলে এরকম অনেক লোক আছে যারা প্রতিদিন সকাল বিকেল পাহাড় বেয়ে ওঠে। অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কিত রেখে বাঁচতে চায়। আমি দেখেছি আমার জীবনে নদী এবং বৃষ্টি অনেক আবেগ সৃষ্টি করেছে। আমি নদী এবং বৃষ্টির উচ্ছলতার মধ্যে বড় হয়ে উঠেছিলাম।
আমরা পৃথিবীকে আমাদের দৃষ্টির তাৎপর্যে নির্ণয় করি এবং এই দৃষ্টির সাহায্যে পৃথিবী আমাদের অন্তরতম হয়। শৈশব থেকেই দৃষ্টির কুশলতায় আমি আমার গ্রামের বাড়ির চতুর্দিকে পানি দেখেছি। আমাদের বাড়িটি মাটির ওপর একটি দ্বীপের মতো, কিন্তু তার চারদিকে পানি অর্থাৎ পানি এবং মাটি এই দুই বিপরীত শোভার মাঝখানে মানুষ। আমি শৈশব থেকেই পানির বাধা না মেনে পানির মধ্যে ভেসেছিলাম। নদী যে প্রবাহিত হয় সে কিন্তু মাটির মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয় অর্থাৎ নদী মাটিরই একটি অন্তরঙ্গ বন্ধু। বড় হয়ে সমুদ্র দেখেছি এবং সমুদ্রের মধ্যে এক ধরনের অনাশ্রয় লক্ষ্য করলেও সমুদ্রকেও আমি কামনা করেছি। পৃথিবীতে যদিও মনে হয় মৃত্তিকাই স্থির এবং পানি হচ্ছে অস্থির চঞ্চল কিন্তু আসলে কথাটি ঠিক নয়। মৃত্তিকাকে স্থির মনে হয় বটে কিন্তু মৃত্তিকায় পদচারণকারী মানুষ কিন্তু চঞ্চল। আবার যখন বৃষ্টি নামে প্রচন্ড বাত্যাপ্রবাহ পৃথিবীকে আলোড়িত করে তখন নদীর সঙ্গে পৃথিবীর সাজুয্য নির্মিত হতে দেখি। বিশে^র কাছে মানুষ কখনো মাথা নত করে নি তাই সর্ববিধ বিঘ্নকে অতিক্রম করে মানুষ পৃথিবীতে তার সভ্যতা নির্মিত করেছে। অনবরত ভাঙ্গাগড়ার মধ্যে স্থানকে বিপর্যস্ত করে পৃথিবীতে মানুষ। নিজের সম্ভ্রম এবং সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।
আমি সুস্পষ্টভাবে কবিতা লেখায় আত্মনিয়োগ করেছিলাম ১৯৮২ সালের দিকে, যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। কিন্তু তার পূর্বে আমার জীবনে নানা কর্মকান্ডের বৈচিত্র্যে কবিতার পটভূমি নির্মিত হচ্ছিল। বাড়িতে হাফিজের কবিতা বাবার সুললিত কণ্ঠের আবৃত্তির মধ্য দিয়ে আমার মনোজগতে প্রবেশ করতো। স্কুল-কলেজে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাকে নতুন জীবনবোধে সচকিত করতো এবং আমার চতুর্দিকের প্রকৃতিকে আমার বিশ্বাসের প্রকোষ্ঠে টেনে আনত। একজন মানুষের জীবনে কবিতা খুব সহজে নির্মিত হয় না। অনেক প্রস্তুতির পর কবিতার একটি ধারাপ্রবাহ গড়ে ওঠে। আমাদের দেশে আমাদের প্রকৃতি কবিতার এই ধারাপ্রবাহ নির্মাণে বিশেষ সহায়ক হয়ে থাকে। কবি হিসাবে রবীন্দ্রনাথের আত্মপ্রকাশের মূলে প্রকৃতি একটি বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের অন্তর এবং বাহির বলে দুটি জিনিস আছে। অন্তরের রহস্য না বুঝলে বাস্তব কখনো সত্য হয় না। কল্পনা এবং বাস্তব একে অন্যের পরিপূরক।
জীবনের বহিদৃশ্যগুলি সত্যের ভগ্নাংশমাত্র। অন্তরের দৃশ্যগুলি তার সঙ্গে সংযোজিত হলেই পূর্ণ সত্যকে পাওয়া যাবে। আমাদের সকল অভিমত নির্মিত হয় আমাদের অন্তরের কল্পনা ও বাইরের বাস্তবের যোগসূত্রে। আমরা কখনোই অন্তরের উপলব্ধিকে অস্বীকার করে বাইরের পৃথিবীকে সমর্থন করতে পারি না। বাইরের পৃথিবী তখনই সমর্থিত হয় যখন অন্তরের উপলব্ধি বাইরের বাস্তবের সঙ্গে যুক্ত হয়। পৃথিবীতে যত কিছু নির্দিষ্ট ততোধিক অনির্দিষ্ট। নির্দিষ্ট জগতে প্রথা এবং প্রণালী আছে এবং অনির্দিষ্ট জগতে আবেগ এবং কল্পনা আছে। আমাদের সকল প্রকার শিল্প প্রয়াস যেমন আবেগ এবং কল্পনার বশংবদ তেমনি প্রথা ও প্রণালীর বশংবদ। আমরা সাহিত্য যখন নির্মাণ করি তখন বহির্জগতের প্রতিলিপি অংকন করি না, মনোজগতের স্মৃতির আলেখ্যও নির্মাণ করি। এ দুয়ের সংমিশ্রণ না থাকলে শিল্প মিথ্যা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। কবিতা ও চিত্রকলা রচয়িতা বাস্তবের কাছে যতটা ঋতী তার চেয়ে অধিক ঋতী তার স্মৃতি ও কল্পনার কাছে। বাস্তবকে কল্পনা থেকে সরিয়ে আনলে অথবা কল্পনাকে বাস্তব থেকে সরিয়ে আনলে শিল্প হয় না। কলা লালিত হচ্ছে বাস্তব এবং কল্পনার সমন্বয়ে। বসন্তে আমরা সবুজ পাতা দেখি শরতের মেঘের সাদা রং আমাদের অভিভূত করে, বর্ষার মেঘ লঘুহীন হয়ে দৃষ্টিতে জাগে, এবং মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণ চাদের রৌপ্য শোভা দেখি। এগুলো যেমন সত্য তেমনি সত্য মানুষের জীবন, যে জীবন শীতে আহত হয়, রৌদ্রে দগ্ধ হয় এবং বঞ্চনায় উৎপীড়িত হয়। পৃথিবীর এই মানুষ যখন শিল্পী হয় তখন সে তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জীবন সত্যে অপরাজিত প্রতিনিধি হয়।
কোনটি সুন্দর এবং কোনটি সুন্দর নয় তা বলা কঠিন। কিন্তু তবু মনে হয় প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব উপলব্ধির কাছে সুন্দর অসুন্দরের একটি হিসাব ঠিক করা আছে। আমার হিসাবে যা সুন্দর অন্যের হিসাবে তা সুন্দর নাও হতে পারে। কিন্তু আমি আমার সুন্দরকে যদি যথার্থরূপে প্রকাশ করতে সমর্থ হই তাহলে অন্যের বিবেচনায়ও তা সমর্থিত হবে। আমি আমার শৈশব কৈশোর এবং যৌবন উন্মেষের সময় প্রকৃতির বিচিত্রতার মধ্যে সুন্দরকে যেভাবে দেখেছি তাকেই আমি আমার বিশ্বাসের প্রক্রিয়ায় জীবন্ত করেছি। আজ বহু দূরে দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের নেপথ্যে অতীতের যে অনবদ্য প্রকাশ ছিল তাকে উদঘাটন করতে গিয়ে দেখি যে আমার জীবন তার বিশ্বাসকে সে সময়ই প্রথম পেয়েছিল। পরবর্তীতে প্রথম জীবনের বিশ্বাসকে ব্যাখ্যা করবার ভাষা পেয়েছিমাত্র। প্রকৃতির সত্য এবং মানুষের প্রেম উভয়ের মিশ্রিত আনন্দে জীবনকে এককালে আমি কলরবমুখর করেছিলাম। সেই জীবনের শাসন এবং অবস্থিতি এখন আর নেই, কিন্তু করতে জানতেন।
আমার পিতামাতা ছিলেন কাব্যরসিক এবং সাহিত্যপ্রেমিক। আমার পিতামাতার প্রশ্রয়ে আমি সাহিত্যের একটা আনন্দলোকে নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলাম। বাবা গানও পছন্দ করতেন তবে সে গান হচ্ছে মরমী গান। কখনো কখনো আমাদের বাড়িতে গান গাইতে লোকেরা আসতো, বাবা তন্ময় হয়ে তাদের গান শুনতেন। এভাবে আমাদের বাড়িতে কীর্তনও শুনেছি। সে যুগের ধর্মপ্রাণতার সঙ্গে আজকের যুগের ধর্মপ্রাণতার অসম্ভব পার্থক্য। তখন ধর্মপ্রাণ মানুষকে উদার করতো, সহনশীল করতো এবং সকলকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবার প্রবণতা সৃষ্টি করতো। আমাদের গৃহে আরবী। ফার্সী চর্চার প্রবল বিকাশ ছিল। কিন্তু তাই বলে সেখানে কীর্তন অস্বীকৃতি পায় নি। বাবা কীর্তন শুনে তন্ময় হতেন এবং কীর্তনের নিবেদনের মধ্যে আল্লাহকেই খুঁজে পেতেন। কখনো কখনো দেখেছি আমাদের গৃহে সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ এসেছেন এবং বাবার সঙ্গে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমাদের স্কুলের পণ্ডিত অভিনাশ চন্দ্র পোদ্দার আমাকে সংস্কৃত শাস্ত্র শিখিয়েছেন। সদাপ্রফুল্ল দীপ্তিমান পুরুষ ছিলেন তিনি। কথায় কথায় সংস্কৃত শ্লোক তৈরি করতেন এবং হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির বিষয় নিয়ে সংস্কৃত কবিতাও রচনা করতেন। ইনি কখনো কখনো আমাদের বাড়িতে আসতেন এবং বাবার সঙ্গে ধর্মবিষয়ক তর্কে লিপ্ত হতেন।
আরবী ভাষা এবং লিপির প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে শিখেছিলাম ছোটবেলা থেকেই। মা এই সূত্রে একটি গল্প প্রায়ই বলতেন। একটি েেলাক খুব মাতাল ছিল, সে কোন প্রকার ধর্মকর্ম করতো না। সকলেই ভাবতো যে লোকটি পাষণ্ড এবং মৃত্যুর পর দোজখে যাবে। একদিন এই লোকটি মাতাল অবস্থায় তার পথের উপর কোরান শরীফের একটি ছেড়া পাতা পড়ে থাকতে দেখে। সে তখন ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই পবিত্র পত্রাংশ কি করে সে সরাবে। সে তখন মাটিতে উপুর হয়ে মুখ দিয়ে কাগজটি তুলে খেয়ে ফেলে। কিছুদিন পর এই লোকটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর অনেকে তাকে স্বপ্নে দেখে। দেখে যে সে বেহেশতের একটি শুদ্ধতম জায়গায় অবস্থান করছে। স্বপ্নের মধ্যেই লোকেরা জিজ্ঞেস করে তার এই সৌভাগ্য কি করে হল? লোকটি উত্তরে বলে যে কোরান শরীফকে মর্যাদা দেওয়ার জন্যই তার এই সৌভাগ্য হয়েছে। এই গল্পটা বলে মা আমাদের বোঝাতেন যে কোরান শরীফ যেহেতু আল্লাহর বাণী সেহেতু কোরানের অক্ষরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা আল্লাহর প্রতিই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা। সর্বাপেক্ষা সত্য হচ্ছে এই আল্লাহর বাণী এবং সর্বাপেক্ষা নিগূঢ়তম কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহকে ভয় করা।
আল্লাহকে স্মরণ রাখা আমাদের পবিত্রতম দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান বর্ণনা হচ্ছে কোরান শরীফের বর্ণনা। এই বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধার আবেশের মধ্যে আমরা আমাদের শৈশব এবং কৈশোর কাটিয়েছি, এবং যৌবন উন্মেষের মুহর্তে বিভিন্ন চাঞ্চল্য থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রয়াসী হয়েছি। আরবী অক্ষর এবং আরবী ভাষা ছিল আমাদের কাছে সর্বাপেক্ষা পবিত্র। কিন্তু তাই বলে মাতৃভাষাকে আমরা অবহেলা করি নি। বরঞ্চ আরবীর সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি আমরা সমভাবে শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। আমার দাদা, চাচা এবং বাবা এঁরা ধর্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতেন বাংলাতে এবং গ্রামে তাঁরা যে স্কুল এবং মাদ্রাসা কায়েম করেছিলেন সেখানেও তারা মাতৃভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব আরোপ করতেন। সে যুগে ভাষা নিয়ে কোনো তর্ক ছিল না।
হিন্দুরাও মুসলমানদের ধর্মসভায় উপস্থিত থাকতেন এবং কোরান শরীফের ব্যাখ্যা উপভোগ করতেন। বর্তমানে আমি লক্ষ্য করি যে যেখানে জ্ঞানের ব্যাপকতা নেই গভীরতা নেই, সেখানেই সংকীর্ণতা এবং স্বার্থবুদ্ধি প্রবল হয়ে ওঠে। রসূলে খোদার জীবনের অনেক কাহিনী বর্ণনা করে বাবা মাঝে মাঝে বলতেন যে তিনি বিধর্মীর কাছ থেকে এবং শত্রুর কাছ থেকেও জ্ঞানের পাঠ নিয়েছেন। তাঁর কাছে জ্ঞানের একটি চর্চা অনিবার্য ছিল। তিনি সকল ক্ষেত্র থেকেই জ্ঞান আহরণ করতেন। পৃথিবীতে জানবার জিনিস প্রচুর। সবকিছুই আমরা জানতে পারি না কিন্তু জানবার প্রবল ইচ্ছায় আমরা আপনাকে উদার করি এবং বলিষ্ঠ করি। শেখ সাদীর গুলিস্তা এবং বোস্তা এ দুটি কাব্যগ্রন্থ আমাদের প্রায় সর্বসময়ের পাঠ্য ছিল। অত্যন্ত সহজ সুললিত ফার্সীতে বহুবিধ উপদেশের কথা এ দুটি কাব্যে আছে। শেখ সাদী বহু দেশ ভ্রমণ করেছিলেন এবং জীবনে বিচিত্রি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন। তিনি সকল শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে সত্যের স্বরূপ জানতে আগ্রহী হয়েছিলেন।
জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষের সীমাবদ্ধতা তখনই আসে যখন সে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কোনো জ্ঞানকে অপ্রয়োজনীয় বলে অস্বীকার করে। আমাদের সময়ে জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই অস্বীকৃতি ছিল না। সকল কিছুর মধ্যে শুভ এবং কল্যাণকর কিছু আছে কিন্তু শুভকে এবং কল্যাণকে আবিষ্কার করতে হয় ধৈর্য ও বিয়ের মাধ্যমে। আমি এই ধৈর্য ও বিনয় শিখেছি আমার মা এবং বাবার কাছ থেকে। স্কুল এবং পরে কলেজের পাঠক্রম শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মুহূর্তে জ্ঞানের বিস্তৃতি সম্পর্কে একটি মোহ এবং উচ্ছলতা আমার মনে গড়ে উঠেছিল। আমি আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে সকল কিছুকেই স্পর্শ করবার জন্য ব্যাকুল ছিলাম।
চলবে.....