
ডেসটিনি
মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের
মামলার রায়ে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগে ডেসটিনির যত সম্পত্তি ক্রোক ও
ফ্রিজ করা হয়েছিল, তার সবই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেসব
বিনিয়োগকারী এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে
বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ ও জরিমানার অর্থ বণ্টন করে দিতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি
গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০১২ সালে ডেসটিনির বিরুদ্ধে দুর্নীতি
দমন কমিশনের (দুদক) করা এই মামলাটির রায় হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। রায়ের পর
দুদকের আইনজীবী একে একটি মাইলফলক রায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে
আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে
যাবেন।
কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের অর্থ
আত্মসাতের ঘটনা এ দেশে নতুন নয়। অতীতে এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে। গ্রাহকদের
বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে অনেক প্রতারকচক্র।
গতকালের কালের কণ্ঠেও এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর খিলগাঁও
তালতলা মার্কেটে গ্রিন বার্ড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের
প্রায় পাঁচ হাজার গ্রাহকের অন্তত ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
টাকা ফিরে পেতে গত বৃহস্পতিবার থানার সামনে অবস্থান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো
বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু সমবায় সমিতি নয়, কম্পানি কিংবা অন্যান্য
নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অতীতে বহু প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো বড় ধরনের সুবিধা বা আর্থিক প্রলোভন দিয়ে
প্রতারণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের
বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারও
রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালতে দুটি মামলা করেছেন একজন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক।
একটি মামলা করা হয়েছে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির
চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এবং অন্য মামলাটি করা হয়েছে কিউকম
লিমিটেডের সিইও মো. রিপন মিয়া ও ডেলিভারি কর্মকর্তা তানোয়ার চৌধুরীর
বিরুদ্ধে। সারা দেশেই এমন সব প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার লাখ লাখ গ্রাহক
রয়েছেন। তাঁরা কি তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে পাবেন?
সমবায় সমিতি
পরিচালনার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। সমিতি সঠিকভাবে চলছে কি না, তা
দেখার জন্য অধিদপ্তর রয়েছে। প্রতিবছর প্রতিটি সমিতির হিসাব নিরীক্ষার জন্য
বিশাল জনবল রয়েছে। ডেসটিনিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লগ্নি তো এক দিনে
হয়নি। তখন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট লোকজন কী করেছেন? ডেসটিনির
ঘটনায় কিংবা অতীতে যেসব সমিতিতে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, সেসব ঘটনায়
সমবায় অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট লোকজনের কি কোনো দায় নেই? আমরা চাই, সমবায় হোক
বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই হোক, প্রতারণার ঘটনাগুলো শুরুতেই প্রতিরোধ করার
ব্যবস্থা গড়ে উঠুক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হোক।