Published : Saturday, 30 April, 2022 at 12:00 AM, Update: 30.04.2022 12:14:13 AM

আগাম
বন্যায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে হাজার হাজার কৃষক চোখে অন্ধকার দেখছেন। তাঁদের
জীবন থেকে ঈদের আনন্দ মুছে গেছে। পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি নিয়ে তাঁরা
চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তাঁদের এই উদ্বেগ-আতঙ্ক দূর করার কি
কোনোই উপায় নেই? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুততম সময়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে
এগিয়ে না গেলে হাওরাঞ্চলের অবস্থা দিন দিন আরো খারাপের দিকেই যাবে।
গতকাল
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, অন্যান্য বছর উজানের ঢল এলেও
কয়েক দিনের মধ্যে পানি নেমে যেত। এবার এপ্রিলের শুরুতে আসা ঢলের পানি ২৬
দিন অতিবাহিত হলেও ঠিকমতো নামছে না। বিশেষজ্ঞরা এর জন্য হাওরে থাকা নদীগুলো
ভরাট হয়ে যাওয়া, হাওরের বুকের ওপর দিয়ে উঁচু সড়ক নির্মাণ এবং অসংখ্য ফসল
রক্ষা বাঁধকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, এসব পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে
বাধাগ্রস্ত করছে। বাঁধের কারণে উজান থেকে আসা পলিমাটি, বালু ছড়াতে না পেরে
নদীর তলদেশেই জমা হচ্ছে। ফলে অনেক স্থানেই নদীর তলদেশ ও হাওরের জমি একই
সমতলে চলে এসেছে। নদী দিয়ে পানি দ্রুত নামতে না পারায় বাঁধ ভেঙে তা ফসলি
জমি ভাসিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নিকট-ভবিষ্যতে হাওরের ফসল রক্ষা করা
প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শুধু হাওরাঞ্চলের নদীগুলোই নয়, মেঘনা নদীসহ
হাওরের পানি যেসব নদী দিয়ে বঙ্গোপসাগরে যায় সেসব নদীরও নাব্যতা কমে গেছে।
ফলে হাওরের পানি দ্রুত নামতে পারে না। অন্যদিকে পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে ক্রমেই
বেশি করে পলি নেমে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেল্টা পরিকল্পনার সঙ্গে
সংগতি রক্ষা করে হাওরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন সুগম করার জন্য দ্রুত একটি
মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। সড়ক যেখানে পানিপ্রবাহ বেশি
বাধাগ্রস্ত করছে সেসব স্থানে পর্যাপ্ত ও সুপরিসর সেতুর ব্যবস্থা করতে হবে।
নদী খনন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ এবং পানি নিষ্কাশনকে
বাধাগ্রস্ত করে এমন ফসল রক্ষা বাঁধ ক্রমে অপসারণ করতে হবে।
সুনামগঞ্জ,
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এই
সাতটি জেলার কয়েক লাখ কৃষকের জীবন হাওরের বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। দেশের
খাদ্য চাহিদার একটি বড় অংশও আসে এখান থেকে। এ কারণে হাওরের ফসল নষ্ট হলে
কৃষকের পাশাপাশি দেশও খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হয়। তাই হাওরের ফসল ও
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। তার আগে দুর্গত
মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।