ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
নানা আয়োজনে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন
প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-অর্থমন্ত্রী
Published : Sunday, 20 March, 2022 at 12:00 AM, Update: 20.03.2022 2:32:12 AM
প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-অর্থমন্ত্রীপ্রদীপ মজুমদার : শতবর্ষের গৌরবময় মাইলফলক অতিক্রম করেছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়। “ডাক দিয়েছে আপন প্রান্তর, এসো মিলি প্রাণে প্রাণে"- স্লোগানকে সামনে রেখে আনন্দ র‌্যালি, প্রাক্তন শিক্ষক সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার ১৯ মার্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপি মিলন মেলা রাতে সমাপ্ত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সবাই যেন উৎসবে মেতে ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও ছাত্র বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি।
বাগমারা বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে একত্রিত করে জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শুধু একটি জাতি সত্ত্বাই দেননি, তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন প্রযুক্তি নির্ভর একটি সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে সম্ভাবনাময় একটি দেশে রূপান্তর করেছেন। আগামীর বাংলাদেশে যে শিক্ষা ছাড়া উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়, তা উপলব্ধি করেই বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নানাবিধ যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। এ জনপদকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করার লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই কতিপয় শিক্ষানুরাগী মহৎপ্রাণ তাদের মেধা, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে ১৯২১ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন এই বিদ্যাপীঠ। শতবর্ষ পূর্বেকার এই জ্ঞানবৃক্ষটি যাঁরা বপন করেছেন তাঁদের ভুলবার নয়। মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু মুহুর্ত থাকে, আমারও স্কুল জীবনের মধুময় দিনগুলোর ভাললাগা মুহুর্তগুলো স্মৃতিতে দোলা দিয়ে যায়। ইচ্ছে জাগে আবারও ধুলোমাখা শরীরে ফিরে যাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-অর্থমন্ত্রী
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার এর সভাপতিত্বে ও ৯৩ ব্যাচ বিল্লাল হোসেন এবং শতবর্ষ উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক,সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুনর রশীদ, অর্থমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কে এম সিংহ রতন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরোজ, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভাশিস ঘোষ, লালমাই সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল মমিন মজুমদার, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জামাল নাসের, অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডাঃ রণজিৎ কুমার দেবনাথ, পুলিশ সুপার এসবি হায়াতুন্নবী , বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক আমিন, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অমর কৃষ্ণ বণিক মানিক, ডা. এম এস আলম, লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড শাহজাহান মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, আর ডি রনি,লন্ডন প্রবাসী হাবিবুল হক হাবিব, মনিরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আয়াতউল্যাহ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবদুল মোতালেব, এড জাহাঙ্গীর আলম, সঞ্জয় শর্মা, রফিকুল ইসলাম মোহন, কাউসার মোর্শেদ, কামরুল হাসান ভুট্টো, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান রাব্বি প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা অনেক ছাত্রছাত্রী এখন শিক্ষক, চিকিৎসক, বিসিএস ক্যাডার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশে এবং বিদেশে কাজ করে বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করেছেন বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বাগমারা বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে একত্রিত করে জাতীয়করণ করার দাবি জানান বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রীর কাছে।
জানা গেছে, ১৯২১ সালের ১লা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় গতবছর শতবর্ষে পদার্পণ করে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার, শিল্পপতি হারুন-অর রশিদ, পুলিশের এআইজি মো. শাহজালাল, যুগ্ম জেলা জজ মো. দিদার হোসেন, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুভাষ চন্দ্র, বিশিষ্ট কৃষিবিদ ভাগ্য রানী বণিক, কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অমৃত কুমার দেবনাথ তারা সকলেই এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বক্তব্যে স্মৃতি চারণ করে বলেন কপি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই কপি হাউজ আছে। তেমনি আমরাও কেউ থাকবোনা বিদ্যালয়টি থাকবে। তিনি উপস্থিত সকলকে বিদ্যালয়কে ভালোবেসে কাজ করার কথা বলেন। নবীন ও প্রবীণদের দাবি বাগমারা বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে একত্রিত করে জাতীয়করণের। এ বিষয়ে তিনি জাতীয়করণ করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শতবর্ষ উৎসবের মিলনমেলায় ৩ হাজারের মতো নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। আমাদের দেখানো পথ ধরে নবীনরা উজ্জীবিত হবে।