বাবর-শফিকের ব্যাটে অবিশ্বাস্য স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান
Published : Wednesday, 16 March, 2022 at 12:00 AM
করাচি
টেস্ট জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। চতুর্থ দিনে এই প্রায়
অসম্ভব কাজের ভিতটা গড়লেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম।
বিশেষ করে
বাবর—তাঁর কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অপরাজিত শতকে
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের লড়াইয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছেন বাবর।
ম্যাচের
পরিস্থিতি বুঝে পাকিস্তান অধিনায়কের সময়োচিত ব্যাটিংয়ে ২ উইকেটে ১৯২ রানে
চতুর্থ দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেওয়া ৫০৬ রানের
‘অসম্ভব’ লক্ষ্য ছুঁতে এখনো ৩১৪ রান দরকার পাকিস্তানের।
হাতে আছে আর
একদিন। পাকিস্তান করাচি টেস্ট বাঁচাতে পারবে কী, পারবে না তা কাল শেষ দিনেই
বোঝা যাবে। কিন্তু বাবর ও আবদুল্লাহ শফিক মিলে আজ পাল্টা লড়াইয়ে যে ভিত
গড়েছেন সেখান থেকে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখতেই পারে
পাকিস্তান।
টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে
জয়ের নজির আছে—২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব রেকর্ড
গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অ্যান্টিগায় সেই টেস্টে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে
পাল্টাই লড়াই করেছিলেন শিবনারায়ণ চন্দরপল ও রামনরেশ সারওয়ান। আজ যেন অভিজ্ঞ
চন্দরপলের ভূমিকায় ছিলেন বাবর এবং সারওয়ানের চরিত্রে শফিক।
তৃতীয়
উইকেটে ৩৬২ বলে ১৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। ১৯৮ বলে ১০২ রানে
অপরাজিত বাবর। ২২৬ বলে ৭১ রানে অন্য প্রান্ত ধরে রেখেছেন শফিক।
আজ
সকালের সেশনে অস্ট্রেলিয়া ৫.৩ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ৯৭ রানে দ্বিতীয়
ইনিংস ঘোষণার পর ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। রানের
দিকে না তাকিয়ে লক্ষ্য ছিল একটাই। টেস্ট বাঁচাতে দুই দিন মিলিয়ে কমপক্ষে
১৭২ ওভার উইকেটে পড়ে থাকতে হবে।
সে লক্ষ্যে পাকিস্তান গতকাল ৮২ ওভার
ব্যাট করে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। তবে তাতে বাবর-শফিকের অবদান সিংহভাগ।
ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ৫৪ বলে ৬ রানে ব্যাটর করা আজহার আলীকে ক্যামেরন
গ্রিন ২২.২ ওভারে তুলে নেওয়ার পর শফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বাবর। দিনের
বাকি ৫৮.৪ ওভার ধৈর্যের প্রতীক হয়ে কাটিয়ে দেন দুজন।
বাবর ও শফিক জুটি
বাঁধার আগে খানিকটা বিপদে পড়েছিল পাকিস্তান। ষষ্ঠ ওভারে ওপেনার
ইমাম-উল-হককে তুলে নেন লায়ন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৯ বলে
১৯ রানের জুটি গড়েন শফিক ও আজহার। দুজন কেমন ব্যাট করেছেন তা বুঝিয়ে দেবে
স্কোরকার্ড—২৩ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ২৩। কচ্ছপ-কামড়
ব্যাটিং আর কী!
অধিনায়ক বাবর এসে অবশ্য সহজাত ব্যাট করেছেন। কিন্তু অন্য
প্রান্তে শফিক হয়ে ওঠেন ‘চীনের প্রাচীর’-১৫৩ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ৮৩ বলে
অর্ধশতক তুলে নেন বাবর। শেষ সেশনে ৭৬তম ওভারে প্যাট কামিন্সের রিভার্স
সুইং ব্যাটে খেলার চেষ্টা করেন বাবর। বল ব্যাটের কানায় লাগলেও ১ রান নিয়ে
টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক তুলে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক। প্রথম পাকিস্তানি
এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণে
শতক তুলে নিলেন বাবর। পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ১০ম ম্যাচে এসে এটা
তাঁর প্রথম শতক। পাকিস্তান অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে এর আগে ম্যাচের চতুর্থ
ইনিংসে শতক পেয়েছেন ইউনিস খান, ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে
১টি করে উইকেট নেন লায়ন ও গ্রিন।