পদ পদবী পরিবর্তন ও পদোন্নতির দাবিতে দেবিদ্বারে পূর্ণ কর্মবিরতি
Published : Wednesday, 2 March, 2022 at 12:00 AM
শাহীন আলম, দেবিদ্বার ||
পদবী পরিবর্তন ও গ্রেড উন্নয়নের দাবিতে কুমিল্লার দেবিদ্বারে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় শ্রেনির কর্মচারীরা পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছে। মঙ্গলবার (১মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির ব্যানারে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি শুরু করেন। দেবিদ্বার ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মরত সব তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা পদবি পরিবর্তন এবং বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি সদস্যরা জেলা প্রশাসনসহ সব প্রশাসনিক দপ্তরের কাজ খুবই গুরুত্বসহকারে করে থাকে। অনেক সময়, সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা পদবি পরিবর্তন এবং বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আমাদের দাবির প্রতি সদয় সম্মতি দিয়েছেন। এর পরেও আমাদের পদ-পদবী ও গ্রেড উন্নয়ন করা হচ্ছে না। এই দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেবিদ্বারে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়সহ পাশ্ববর্তী সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার ভূমি দপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির কর্মরতরা কর্মবিরতি পালন করছে। আমরা আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চালিয়ে যাবো।
ইউএনও অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের কালেক্টরেটের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা সারাদেশে একযোগে আন্দোলন করে যাচ্ছি আমাদের পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে। আমরা সচিবালয়ের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে থাকি। সচিবালয়ে যারা কাজ করেন তাদের চেয়ে আমাদের যোগ্যতা কোনও অংশে কম নয়। কিন্তু গত ২০ বছরেও আমাদের কোনও পদোন্নতি হয়নি। তাই আমাদের দাবি আমাদেরকে সচিবালয়ের মতো পদ মর্যাদা ও গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৬ থেকে ১১ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নতীকরণের দাবিতে আমরা দীর্ঘদির আন্দোলন করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে অনুমোদন দেন। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩১ মার্চ জন প্রশাসন অর্থ মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবর পেশ করেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব অজ্ঞাত কারণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন থাকার পরও আমাদের যৌক্তিক দাবি নাকচ করে দেন। অথচ সাবেক তশিলদার ও সহকারী তশিলদারদের পদবী পরিবর্তন করে বেতন গ্রেডে ১৬ এবং ১৭ থেকে ১১ এবং ১২ গ্রেডে উন্নতীকরণ করায় মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অফিস সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, উচ্চমান সহবারী মো. জালাল উদ্দিন, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. কাউছার আলম, হিসাবরক্ষক মো. নুরুল আমিন, সার্টিফিকেট সহকারী মো. শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির চন্দ্রন চক্রবর্তী, সার্টিফিকেট পেশকার মোসা. শাকিলা আক্তার প্রমুখ।