
১৬
বলের ইনিংস, তাতে স্রেফ একটি রান এসেছে দৌড়ে। ওই বলটিতে বাউন্ডারি হলেই
ছোঁয়া হয়ে যেত বিশ্বরেকর্ড। অল্পের জন্য তা পারলেন না সুনিল নারাইন। তবে যা
করলেন, রেকর্ড বইয়ে ঝড় উঠে গেল তাতেও। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের
ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার বিপিএলকে উপহার দিলেন দ্রুততম ফিফটি।
এবারের
বিপিএলে নারাইন প্রথমবার ইনিংস উদ্বোধন করলেন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। মিরপুরে
বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বোলিং গুঁড়িয়ে
ফিফটি করলেন মাত্র ১৩ বলে।
বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে সবচেয়ে কম বলে ফিফটির কীর্তি এটিই।
আগের
রেকর্ড ছিল আহমেদ শেহজাদের। ২০১২ বিপিএলে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে ১৬ বলে
ফিফটি করেছিলেন পাকিস্তানি এই ওপেনার। দুরন্ত রাজশাহীর বিপক্ষে সেদিন ৪০
বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন শেহজাদ, বিপিএলে যা দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনও।
নারাইন
একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি ২০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির বিশ্বরেকর্ড।
১২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে বিশ্বরেকর্ডটি যৌথবাবে যুবরাজ সিং, ক্রিস গেইল ও
হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের। যুবরাজ করেছিলেন ২০০৭ বিশ্বকাপে, যেদিন স্টুয়ার্ট
ব্রডের ওভারে মেরেছিলেন ছয় ছক্কা। গেইলের কীর্তি ২০১৬ বিগ ব্যাশে, জাজাইয়ের
ইনিংসটি ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে।
নারাইনের মতো ১৩
বলে ফিফটি আছে মার্কাস ট্রেসকোথিকের। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি
ব্লাস্টে ইনিংসটি খেলেছিলেন সাবেক ইংলিশ ওপেনার। নারাইনের নিজের আগের
দ্রুততম ফিফটি ছিল ১৫ বলে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ২০১৭ আইপিএলে।
চট্টগ্রামের
বিপক্ষে এ দিন ১৪৯ রান তাড়ায় প্রথম বলে লিটন দাস আউট হলেও নারাইনের তাণ্ডব
শুরু ওই ওভার থেকেই। শরিফুল ইসলামের ওভারের শেষ তিন বলে মারেন এক ছক্কা,
দুই চার। পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে মারেন তিন ছক্কা ও এক চার। এরপর
আফিফ হোসেনকেও যখন মারলেন ছক্কা ও চার, তার রান তখন ১১ বলে ৪৬। দ্রুততম
ফিফটির বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়া তখন স্রেফ একটি বাউন্ডারির দূরত্ব। নারাইন
চেষ্টাও করেন। তবে টাইমিং ঠিকমতো হয়নি। লং অফে পাঠিয়ে নিতে পারেন কেবল এক
রান। পরের ওভারেই মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির বল ছক্কায় উড়িয়ে পা রাখেন পঞ্চাশে। ওই
ওভারে আরেকটি চার মেরে শেষ পর্যন্ত আউট হয়ে যান ১৬ বলে ৫৭ রান করে।
নারাইনের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ৬ ওভারে ৮৪ রান তোলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স,
বিপিএলে রেকর্ড এটিও। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে খুলনা টাইগার্সের ৮৩।