
দেশে
প্রতিনিয়ত বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা, যাদের একটি বড় অংশই ডায়ালিসিসের ওপর
নির্ভরশীল। বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা থাকলেও দরিদ্র রোগীদের
পক্ষে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা ভিড় করে
সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালেও ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা যথেষ্ট
পরিমাণে গড়ে ওঠেনি।
তা ছাড়া রয়েছে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা। এ অবস্থায়
প্রায়ই রোগীর স্বজনদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। গত সপ্তাহে
রাজধানীর জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে ডায়ালিসিস সেবা ব্যাহত হলে
রোগীর স্বজনরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা দীর্ঘ সময় ইনস্টিটিউটের সামনে
মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিক্ষোভ দেখানো হয় চট্টগ্রামেও। এ নিয়ে জাতীয়
দৈনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেনারেল
হাসপাতালে পাঁচটি যন্ত্র নিয়ে ডায়ালিসিস ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে গত ১৫
জানুয়ারি। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেখানে ডায়ালিসিস সেবা চালু হয়নি। জানা
যায়, সার্বক্ষণিক নেফ্রোলজিস্ট, প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনিশিয়ান না থাকায় এ
পর্যন্ত একজন রোগীকেও ডায়ালিসিস দেওয়া সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ কিডনি রোগীরা
এখানে ডায়ালিসিস সেবা পাবে, সেটাও অনিশ্চিত।
জানা যায়, বর্তমানে অনেক
বেসরকারি হাসপাতালে একবার ডায়ালিসিস সেবা নিতে খরচ হয় তিন হাজার টাকার মতো।
নামিদামি অনেক হাসপাতালে এই খরচ আরো বেশি। সরকারি হাসপাতালে একবার
ডায়ালিসিসের জন্য রোগীকে দিতে হয় ৪৮৬ টাকা। এমন অনেক রোগী আছে যাকে সপ্তাহে
দু-তিনবারও ডায়ালিসিস করাতে হয়। ডায়ালিসিস নিয়মিত না হলে রোগীর
মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দরিদ্র রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই ভিড় জমায়।
কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোর সামর্থ্য সীমিত থাকায় অনেক রোগীকেই ‘সিরিয়াল’
দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে যদি সেবা ব্যাহত হয়, তাহলে তো কথাই নেই। গত
সপ্তাহে এমনটাই হয়েছিল জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে এবং
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানে ডায়ালিসিস
সেবা দেয় স্যান্ডোর্স নামে একটি কম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি রোগীপ্রতি দুই
হাজার টাকার মতো ভর্তুকি পায় সরকারের কাছ থেকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ভর্তুকির
অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তখনই
শুরু হয় সংকট।
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঁচটি যন্ত্র নিয়ে
ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করাটা অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ এলাকার
অনেক দরিদ্র রোগীর পক্ষে প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিকবার ঢাকায় এসে সিরিয়াল
দিয়ে ডায়ালিসিস সেবা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাদের পক্ষে মানিকগঞ্জে চিকিৎসা
নিতে পারাটা একটি বড় সুযোগ। কিন্তু লোকবলের অভাবে তিন সপ্তাহে একটিও
ডায়ালিসিস সেবা দিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অব্যবহৃত পড়ে থাকায়
যন্ত্রপাতিও নষ্ট হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুত
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করা হবে-এটাই আমাদের
প্রত্যাশা।