Published : Thursday, 10 February, 2022 at 12:00 AM, Update: 10.02.2022 9:14:24 PM

তানভীর
দিপু:
ফুল নেই, তো মধু নেই। আর ফুলে মধু না থাকলে খাবার নেই মৌমাছির।
বিক্রির জন্য মধু জমবে না মধু ব্যবসায়িদের বাক্সে। তাই তাদের বাঁচাতে এক
জেলা থেকে আরেক জেলায় ঘুরছেন মৌমাছি পালকরা। যে এলাকায় ফুল আছে সেখানেই শত
শত বাক্স মৌমাছি নিয়ে ঘাঁটি গড়ছেন তারা। মৌমাছিদের খাওয়াতে সুদূর
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ১৬০ বাক্স
মৌমাছি নিয়ে কুমিল্লা মুরাদনগরে এসেছেন কলেজ পড়ুয়া এনামুল। হলুদ ফুলে ভরা
বিস্তীর্ণ সরিষা খেতের পাশেই তাবু টানিয়ে মৌমাছির সাথে শুরু করেছেন বসবাস।
প্রতিদিন হুল ফোটানোর ব্যাথা সহ্য করেও মধু আহরণের আশায় মৌমাছিদের যত্ন ও
পরিচর্যা করে যাচ্ছেন নিয়মমত। তবে এবছর আবহাওয়ার বৈরীতায় ফুলে মধু জমছে কম,
নিজেরা খাওয়ার পর বিক্রির জন্য বাক্সে জমছে না মধু। মধু আহরণ হোক বা না
হোক কুমিল্লায় সরিষার মৌসুম শেষ হলে বাক্স ভর্তি মৌমাছি নিয়ে এনামুলরা আবার
ছুটবেন অন্য জেলায়। যেখানে ফসলের জমিতে থাকে ফুল, খেয়ে বাঁচবে মৌমাছিরা।
সরেজমিনে
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলি
জমির পাশে বাক্স ভর্তি মৌমাছি নিয়ে আবাস গড়েছেন মধু ব্যবসায়িরা। কাঠের
বাক্সে চট এবং প্লাস্টিকের আবরণ দিয়ে ঘেরা মৌমাছির বাড়ি ঘর। পাশের তাবুতে
থাকেন পালকরা। সারিবদ্ধ কয়েক শ বাক্সে আছে মৌমাছি চলাচলের দরজা। সেগুলো
দিয়ে বের হয়ে আাশে পাশের জমি থেকে সরিষা, ধনিয়া, টমেটোসহ বিভিন্ন ফুল থেকে
মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসে মৌমাছির। নিজের উদরপূর্তি করার জন্য মধু আহরণ শেষে
হলে, পরে জমিয়ে রাখতে মধু নিয়ে ফিরে বাসায়। সেখানেই জমে বিক্রির জন্য মধু।
নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত শুকনো মৌসুমে মধু আহরণ হয় বেশি। এর পর
বৃষ্টিতে মৌমাছি পালকদের মন্দা সময়। সে সময় বেশি বেশি স্থান পরিবর্তন করতে
হয় মৌমাছি পালকদের।
মৌমাছি পালক এনামুল জানান, মৌমাছি বাঁচলে তারা মধু
উৎপাদন করবেই। আগে তাদের বাঁচাতে হবে। তাই ছুটতে হচ্ছে এক জেলা থেকে আরেক
জেলায়। কুমিল্লায় সরিষার মৌসুম শেষ হলে- ফরিদপুর, শরিয়তপুর অঞ্চলে যেতে
হবে। সেখানে বিস্তীর্ন ধনিয়া খেতের পাশে গড়া হবে তাদের অস্থায়ী ভবিষ্যত
আস্তানা। সে জানায়, ফুল না থাকলে অনেক মৌমাছি পালকরা চিনির শিরা খাইয়ে
বাঁচিয়ে রাখে মৌমাছিদের। কিন্তু এই পদ্ধতিতে যে মধু আহরিত হয় তা খাঁটি না
এবং সেটি অনৈতিক। তবে খাদ্য সংকটে পরলে ব্যবসায়িদের অনেক সময় বিকল্প কোন
উপায়ও থাকে না।
এনামুল জানান, বাজারে ভালো চাহিদা আছে সরিষার মধুর। সাড়ে
৫শ থেকে সাড়ে ৬ শ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হয় এই মধু। ভালো দাম পেলে
দেশান্তরি হবার কষ্টও গায়ে লাগে না। কিন্তু এবছর শীতকালে বৃষ্টি এবং ঘন
কুয়াশার প্রভাব পরেছে ফসলে। অতিরিক্ত বাতাস থাকায় সরিষার ফুলে জমছে না মধু।
মৌমাছি আহরনের আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে বলে- পর্যাপ্ত মধু নিয়ে বাক্সে ফিরতে
পারছে না মৌমাছিরা। একটানা পনের দিন কোন বাক্সে মধু জমেনি। কিন্তু আবহাওয়া
ভালো হলে পনের দিনে এক টন মধু সংগ্রহ করার আশা ছিলো।
কুমিল্লার তিতাস
থেকে মৌমাছি নিয়ে ফিরে যাওয়া টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ি হাফিজুর জানান, মধু আহরণ
এবং ব্যসা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। আবহাওয়া ভালো থাকলে গাছে ফুল
থাকে এবং ফুলে মধু জমে বেশি। সেই মধু মৌমাছি আহরণ করে নিয়ে আসলেই
ব্যবসায়িদের জন্য লাভ। এক মৌসুমে কোন কোন ব্যবসায়ি দুই শ বাক্স মৌমাছি থেকে
সর্বোচ্চ ৫ টন পর্যন্ত মধু আহরণ করতে পারে। প্রতি মন কমে ৭ হাজার টাকা
বিক্রি হয় পাইকারদের কাছে। মধু আহরণের মূল মৌসুম নভেম্বর থেকে এপ্রিল। এই
সময়ের মধ্যে আবহাওয়া বৈরী হলেই মৌমাছি পালকদের কপাল খারাপ।
<?php echo 'LOL';?>