
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত
হওয়ার পর সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এর পর এটি আইন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত
স্থায়ী কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের এ সম্পর্কে মতামত দেওয়ার
জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে সরকার তাড়াহুড়ার মধ্য
দিয়ে আইনটি পাস করতে চাইছে। উদ্দেশ্য হয়তো দুটি- প্রস্তাবিত আইনে কমিশন
গঠনে সরকারের একতরফা সুবিধা থাকবে এবং দ্বিতীয় কারণ হলো যাতে এ নিয়ে বিতর্ক
ও আন্দোলনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই আইন পাস করিয়ে নেওয়া যায়। তাতে
অধ্যায়টি একভাবে সমাপ্ত হয়ে যাবে, বিরোধী পক্ষের জোর ও চাপও কমে যাবে। তবে
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন এভাবে আইনটি পাস হলে তা দীর্ঘদিনের জন্য
বিতর্ক সৃষ্টি করবে এবং তা বহুদিন ধরেই চলতে পারে।
সবার মনে থাকবে যে
সরকার এ প্রসঙ্গে বারবার বলেছে, আইন প্রণয়নের মতো সময় নেই। এমনকি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপের সময় প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হলেও
সরকারের পক্ষ থেকে একই বক্তব্যই দেওয়া হয়েছিল। অথচ ঠিক তার পর পরই সরকার এ
সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে পাস করার ব্যবস্থাও করে ফেলেছে। বিষয়টি কেবল
তাড়াহুড়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে তা নয়, এতে গোপনীয়তাও রক্ষা করেছে
সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এটি সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের
স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। ফলে এ নিয়ে মুক্ত আলোচনা বা গণশুনানি হতে পারত,
চাওয়া যেত বিভিন্ন নাগরিক ও অধিকার সংগঠনের মতামত। এবং অবশ্যই প্রধান
প্রধান রাজনৈতিক দলের অভিমত এখানে জরুরি। এভাবে সবার অংশগ্রহণে কাজটা
সম্পন্ন হলে এ নিয়ে আর বিতর্ক থাকত না, সরকারের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হতো।
এখন বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মতো আরও একটি প্রশ্নবিদ্ধ কাজ করল সরকার। এতে
গণতন্ত্রের পথচলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেই মনে হয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়
নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি মোটামুটি সব মহলে, বিশেষভাবে
গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পেলে সরকারেরও কাজ করতে সুবিধা হয়,
বহির্বিশ্বেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে। বর্তমানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন
ও মানবাধিকার ইস্যুতে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে চাপের মধ্যে
রয়েছে। এসব নিরসন করতে হলে সরকারকে কেবল কূটকৌশল প্রয়োগে ব্যস্ত না থেকে
স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক কাজে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা মনে করি বিগত দুটি সাধারণ
নির্বাচন ও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থামাতে
হলে সরকারকে আইনের পথেই হাঁটতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংবিধানে
সুনির্দিষ্ট যে নির্দেশনা রয়েছে তা যথাযথভাবে মান্য করাই হবে সরকারের কাজ।
আমরা বলব, নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আইনটি তাড়াহুড়া করে প্রণয়ন না করে
সময় নিয়ে সবাইকে সঙ্গে রেখে প্রণয়ন করাই সঠিক হবে। এতে কিছু সময় বেশি
লাগলেও ক্ষতি নেই, কারণ এ পথেই স্থায়ী সমাধান মিলবে। আশা করি সরকার সঠিক
পথেই এগেবে।