ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
জীবিতের চেতনায় মৃতেরা
Published : Tuesday, 21 December, 2021 at 12:00 AM
জীবিতের চেতনায় মৃতেরাশাহীন শাহ ||
সৃষ্টির শুরু থেকে প্রকৃতির নিয়মে মানুষ মরণশীল। আমরা প্রতিনিয়ত আকাশে সূর্য উদিত হতে দেখি, আবার অস্ত যেতেও দেখি। মানুষের জীবন এমনই এক চক্রে ঘুরপাক খায় যার শেষ কথা হলো মৃত্যকে বরণ করতেই হয়। জন্ম এবং মৃত্যু এক অবিচ্ছেদ্য পরিক্রমা। প্রতিটি মানুষই নিশ্চিত জানে এবং বিশ্বাস করে তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। লড়াই-সংগ্রাম করে যাপিত জীবনে যখন তার সমগ্র কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে নিজেকে সাফল্যের সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার ভাবনার জায়গাটায় মরণ নামক চিরবিদায়ের কথাটি বিশ্বাসে আসেনা এক মুহূর্তের জন্যও। পৃথিবীর পথে পথে জীবন চলছে হাওয়ায় হাওয়ায়। আছে সুখ আছে দুঃখ। মানুষ সুখেও হাসে দুঃখেও হাসে। সমুদ্র সমান দুঃখ নিয়েও মানুষ মরতে চায়না, চায় বাঁচতে। শত দুঃখকে ধারণ করেও স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। কল্পনা করে আয়েশী জীবনের। গোপনে চোখর জল মুছে তারা প্রিয়জনকে বুকে জড়িয়ে নিরব হাসি হাসতে জানে। প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টিশীল মানুষ কখনো মরেনা। মরতে পারেনা। তার আক্ষরিক ও যৌক্তিক কারণ হলো- মানুষ বেঁচে থাকে তাঁর কর্ম ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। রেখে যাওয়া সৃষ্ট কর্ম কখনো ধ্বংস হয়না। প্রকৃতির স্বভাবজাত নিয়মে রেখে যাওয়া সৃষ্টিগুলি যুক্ত হয় নতুন নতুন সৃষ্টির সাথে। যার কারণে সভ্যতার চাকা সবসময় সামনের দিকে অগ্রসর হয়। একজন সৃজনশীল হয়ে ওঠেন বিপ্লবী, হয়ে ওঠেন বিকশিত মানুষ। বিখ্যাত প্রাবন্ধিক সরদার ফজলুল করিম এই প্রসঙ্গে বলেন, “একজন মানুষ সবসময়ই কমিউনিষ্ট এবং বিপ্লবী। কারণ কমিউনিষ্ট বা বিপ্লবী সেই হয় যে মানুষ হয়ে উঠে বা মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকে।” সে মানুষ কখনো কোন অসঙ্গতি, অসাম্য, শোষণ-বৈষম্য মেনে নিতে পারেনা। সে প্রতিঃনিয়ত লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি বাসযোগ্য সমাজ, বাসযোগ্য মানুষের পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য জীবনপণ সংগ্রাম করে যায়। প্রতিটি মৃত্যুর পূর্বাপর একটি পরিচয় থাকে, কেউ শ্রমিক, কেউ শিক্ষক, কেউ বুদ্ধিজীবী, কেউ দার্শনিক, কেউ রাজনৈতিক, কেউ সাংবাদিক, কেউ ধর্মবিদ আবার কেউ বিপ্লবী। এদের রেখে যাওয়া সৃষ্ট কর্ম নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য, তাদেরকে সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আরো গতীশীল করার প্রয়াসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, স্বারকগ্রন্থে কিংবা বিভিন্ন শিরোনামে লেখকের গ্রন্থে লিখে মৃত ব্যক্তিকে আরো বেশি জীবিত করে তুলেন। খৃষ্টীয় পূর্ব (৪৬৯-৩৯৯) খৃষ্টাব্দে সক্রেটিস নামে একজন মহান দার্শনিক ছিলেন। সক্রেটিসের নিজের কোন লেখা কখনো কোথাও প্রকাশ পায়নি। তার দর্শন এবং জীবন কাহিনি থেকে জানা যায় তার প্রিয় শিষ্য প্লেটোর রচনাবলী থেকে। দার্শনিক প্লেটো সক্রেটিসকে নায়ক করে বিপুল সংখ্যক দার্শনিক গ্রন্থ রচনা করেন। এসব গ্রন্থের মধ্যে রিপাবলিক লজ, অ্যাপোলজি, ক্রিটো, ফিডো, পারমিনাইডিস, থিটিটাস প্রভৃতি বইসমূহ বিখ্যাত হয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষের কাছে, দার্শনিক থেকে দার্শনিক হৃদয়ে। প্লেটোর সকল গ্রন্থেরই নায়ক হচ্ছেন সক্রেটিস। সক্রেটিসের জীবন ও কর্মের নানাদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে একটা সত্য বেরিয়ে আসে তিনি ছিলেন জ্ঞানের অন্বেষক। তিনি ছিলেন দিকহারাদের পথ প্রদর্শক। তিনি পথে-ঘাটে-বাজারে খোলামেলা দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা করতেন না। তার চরিত্রের সরলতা এবং জ্ঞানের গভীরে বিচরণ এথেন্সের তরুণদের মুগ্ধ করে নিবিড়ভাবে। এথেন্সের তরুণদের নিকট তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। সক্রেটিসের জনপ্রিয়তা, প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস এবং রাষ্ট্রীয় নীতি সম্পর্কে তরুণদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করার প্রবণতায় আতঙ্কিত হয়ে এথেন্সের সরকার তাকে তরুণদের বিপদগামী করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। সক্রেটিসকে ক্ষমা প্রার্থনা করে রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ সম্পর্কে আর প্রশ্ন-তুলবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিলে তাহাকে মুক্তি দেওয়া হবে। অন্যথায় তাকে হেমলক পান করে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এথেন্স নগরের আদালত এই দণ্ড ঘোষণা করেন। তার শিষ্যগণ তাকে গোপনে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। কিন্তু সক্রেটিস ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা গোপনে পলায়ন করে জীবনরক্ষা এর কোনটাই গ্রহণ করলেন না। তিনি একদিকে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাকে বিচার করার কোনো অধিকার তাদের নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের বিচারালয় হিসেবে তাদের দণ্ডাজ্ঞা তিনি গ্রহণ করে, হেমলক পান করে দ্বিধাহীন চিত্ত্বে মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করেন। এই মহান দার্শনিকের মর্মস্পর্শী মৃত্যু আড়াই হাজার বছর পর এসেও ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে তার প্রিয় শিষ্য দার্শনিক প্লেটোর ভালোবাসার দরদ দিয়ে সাদা কাগজের বুকে-পিঠে লেখার কল্যাণে। সক্রেটিসের লেখা কোন রচনা না থাকা সত্ত্বেও, প্লেটোর জন্য কাজটা অতি জটিলতা সত্ত্বেও জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও মহিমা দিয়ে সক্রেটিসের জীবন ও কর্মের নানাদিক সাজিয়েছেন নির্ভুলভাবে। তাইতো মৃত সক্রেটিস আরো বেশি জীবিত আরো বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন মানব থেকে মানবের হৃদয়ে। সক্রেটিসের কিছু কথা কিছু উক্তি না উল্লেখ করলে নয়, তার মতে জ্ঞান হচ্ছে জিজ্ঞাসা এবং অন্বেষা। তিনি বলতেন, আমরা সবাই নিশ্চিন্তে সবসময় বলি, আমরা সবকিছু জানি। আসলে আমরা কতটুকু জানি? সক্রেটিসকে সকলে সবচেয়ে জ্ঞানী বলতেন। এ খ্যাতির বিশ্লেষণে তিনি পরিহাস করে বলেছিলেন:- “আমাকে কেন লোকে জ্ঞানী বলে, আমি কতটুকু জানি? এ প্রশ্নের রহস্যভেদ করার জন্যে আমি কত মানুষকে প্রশ্ন করেছি। নানা সমস্যা সম্পর্কে আমি তাদের প্রশ্ন করেছি। যাকে প্রশ্ন করেছি, সেই-ই অক্লেশে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। দিনের পরিভ্রমণ শেষে ক্লান্তদেহে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি:- এতসব জ্ঞানীর সঙ্গে আমার যদি কিছু পার্থক্য থাকে সে এই যে, আমি জানি যে, আমি কিছু জানি না। কিন্তু এরা জানেনা যে এরা কিছু জানে না।” সক্রেটিসের এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, তিনি মানুষের জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ মনে করতেন। সক্রেটিসের এই ধারণাকে বিশ্লেষণ করলে একটি সত্য বেরিয়ে আসে, গোটা বিশ্বের মূল সত্তা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে না। আর মানুষ কেবল সেই সত্তার সৃষ্টভাবকেই জানতে পারে। আসলে যে কোন ভাব কিংবা কল্পনা মানুষের মনের ব্যাপার। জ্ঞান তাই মনের বাইরের কোন বিষয় নয়। প্রতিটি মানুষের কাছে জ্ঞান ধারণের জায়গা থাকে এবং জ্ঞান থাকে। জ্ঞানের গভীরে বিচরণের জায়াগাটা সুগম করতে মসৃণ করতে তিনটি বিষয় থাকে। একটি হলো প্রশ্ন, আরেকটি জবাব সবশেষে আবার প্রশ্ন। এই নিয়মে ব্যক্তির জ্ঞানের মধ্যে যে অসঙ্গতি আছে তা স্পষ্ট হবে। অসঙ্গতি এবং মিথ্যাকে বাদ দিয়ে যা সত্য তা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। প্রশ্নোত্তরের এ পদ্ধতি ছিল সক্রেটিসের জ্ঞান আলোচনার প্রধান ও অন্যতম পদ্ধতি। সক্রেটিসের মৃত্যুর পরে যখন উত্তর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মতো সক্রেটিসের সৃষ্ট কর্ম কোন কিছুই ছিলনা দলিল হিসেবে বা পুস্তিকা আকারে, আর তখনই তার যোগ্য শিষ্য দার্শনিক প্লেটো তাঁর গুরু সক্রেটিসকে তার কলমের ফুঁড়নে ফুঁড়নে নিপুণভাবে তুলে আনলেন সক্রেটিসকে। যেন জীবন্ত সক্রেটিস। আলোয় আলোয় আলোকিত এক মহানায়ক। মৃত সক্রেটিস আরো বেশি জীবিত হয়ে গেলেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের আদর্শ হয়ে গেলেন সক্রেটিস। পাশাপাশি দার্শনিক প্লেটো হয়ে গেলেন আরো বেশি উজ্জ্বল। আরো বেশি আলোকিত। সক্রেটিসের আলোয় প্লেটো আরোও বেশি মহিমান্নিত মানবে পরিণত হলেন। ইতিহাসের ফ্রেমে আটকা পড়লেন যুগলবন্দি এক আদর্শিক ভাববাদী গুরু-শিষ্য। সভ্যতার আলোয় জীবনতো অর্নিবার, জীবনতো মশাল থেকে মশালের রেস। ইতিহাসের চূড়ান্ত সত্য কথা হলো পূর্ব প্রজন্ম এসে তার হাতের মশাল পরবর্তী উত্তর প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চায়। সে মশাল নিয়ে সামনের দিকে ছুটে চলার দায়িত্ব উত্তর প্রজন্মের অর্থাৎ বর্তমান প্রজন্মের। আমরা যদি আমাদের অখণ্ড ভারতবর্ষের কথা ভাবি। ভারতবর্ষের বিশাল আকাশ, মাটি , পানি, বায়ূ ও সমুদ্রকে যারা তাদের লেখনি দিয়ে রাঙিয়েছেন, সুরভিত করেছেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার জায়গাটা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের এক বিশাল অংশই পরপারে চলে গেছেন। যাদের অসামান্য ত্যাগ এর বিনিময়ে আমাদের ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতির বিদ্যাপাঠ সমৃদ্ধ হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দীর্ঘজীবী ও সার্বক্ষনিক লেখক। রবীন্দ্রনাথের রচনা এত বিচিত্র এত বহুমূখী এবং বিপুল কলেবর সমৃদ্ধ, যে কোন একজনের পক্ষে ধৈর্য ধরে তার রচনাবলী পড়ে শেষ করাও দুঃসাধ্য, মনে রাখাও কঠিন এবং অসাধ্য। এমনকি কোন নির্দিষ্ট অংশ খুঁজে নেয়াও কষ্টসাধ্য। আর তার সমগ্র রচনাবলী ঘরে রাখার সামর্থ কয়জনের আছে? প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানুষদের রবীন্দ্রচর্চাই রবীন্দ্রনাথকে আরো বেশি জীবিত করে। রবীন্দ্রনাথ এমনই একজন শিল্পী ছিলেন, যিনি আমাদের অন্তরের সেই অনুভূতিকে মধুময় ভাষা দিয়ে আমাদের জীবনকে সার্থক করে তোলেছেন। শত দুঃখে-বিপর্যয়ে ও শোকের মধ্যে জীবনের তথা বাঁচার এবং সংগ্রামের সার্থকতাবোধ আমরা তাতে লাভ করি। রবীন্দ্র ভাবনা রবীন্দ্রনাথের সকল সৃষ্টকর্মগুলি যত বিস্তারিত হবে, আমাদের ভাবনার আকাশটা তত বড় হবে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনের সংস্কৃতির বর্ণমালা। তাকে আত্মস্থ না করে সংস্কৃতি আর অনুভূতির কোন বাক্য রচনাই তো আমাদের পক্ষে অকল্পনীয়। বাংলা ভাষায় আমাদের গর্ব ও গৌরবের পাত্র যেমন আছেন, অন্য ভাষায়ও তাদের গর্ব ও গৌরবের পাত্র আছেন। তাদের প্রতি আমাদের মমতা আমাদের সান্ত¦না রবীন্দ্রনাথকে তারা আমাদের মতো একান্ত করে পেলেন কই? এই ব্যবধান বাংলাভাষী হিসেবে আমরা পরম সৌভাগ্যবান। রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হলে কোন অনুবাদের প্রয়োজন হয়না। কোন অভিধানের উপর ভরসা করতে হয়না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই একটি অভিধান। তাঁর লেখা অমর সৃষ্টকর্মগুলির মধ্যে বিশেষ কয়েকটি হৃদয় কেড়ে নেওয়া লাইন................
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি........
ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু.........
পথে যদি পিছিয়ে পরি কভু...........
এই বেদনা ক্ষমা করো.......
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু........
পিছন পানে তাকাই যদি কভু........
চোখের সম্মুখ হতে যিনি চিরায়ত নিয়মে পরলোকগত, যিনি কালকে অতিক্রমকারী, সময়কে অতিক্রমকারী, সীমানাকে অতিক্রমকারী সেই অগ্রপথিক আমাদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত। আমরা যারা বাঙালি যারা তাকে শতবর্ষ পূর্বের চাইতেও গভীরভাবে উপলব্ধি করি, গভীরতরভাবে ভালোবাসি। যেমনি আমরা ভালোবাসি রবীন্দ্রনাথকে, তেমনি রবীন্দ্রনাথ ভালোবেসেছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে। সোনারতরী কাব্যগ্রন্থের মুখবন্দে কবি লিখেছিলেন “বাংলাদেশের নদীতে নদীতে গ্রামে গ্রামে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছি। এর নতুনত্ব, চলত্ব বৈচিত্রের নতুনত্ব, শুধু তাই নয়, পরিচয়ে অপরিচয়ে মেলামেশা করেছিল মনের মধ্যে। বাংলাদেশকে তো বলতে পারিনে বেগানা দেশ, তার ভাষা চিনি, তার সুর চিনি। ক্ষণে ক্ষণে যতটুকু গোচরে এসেছিল তার চেয়ে অনেকখানি প্রবেশ করেছিল মনের অন্দরমহলে আপন বিচিত্র রূপ নিয়ে।” সুতরাং আমাদের দূরের অতীত নিকটের অতীত আমাদের অগ্রজদের বিচরণের কর্মক্ষেত্র। শুধুমাত্র বর্তমানটা আমাদের। বর্তমানটা নানাদিক দিয়ে পুষ্ট করতে হলে, সার্বিক করতে হলে, আলোর সমান করতে হলে দরকার সুন্দর একটা অতীত। অতীত সৃজনদের যত চর্চা হবে, তারা আরো বেশি স্বরণে আসবে, আরো বেশি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে। সংক্ষেপে জীবিতদের চেতনায় মৃতেরা আরো বেশি জীবিত হয়ে আরো বেশি কাছে আসে। আমরা যাদেরকে হারিয়েছি, যারা চিরঘুমের দেশে চলেগেছেন, তারা স্মৃতির ভাণ্ডারে আলোকসম মহান মানুষ। যাদের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়েছে মানবিক সভ্যতা, সমৃদ্ধ হয়েছে মানবের হৃদয়, উজ্জ্বল হয়ে আছে সীমাহীন আকাশ, তাদের মধ্যে অন্যতম যারা তারা হলেন:- বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসগর, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র, আরজ আলী মাতুব্বর, মধূসুধনদত্ত, আহমদ ছফা, হুমায়ূন আজাদ, রৌদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ হক, শহীদ কাদরী, সুনীলগঙ্গোপাধ্যায়, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, মানিক বন্দোপাধ্যায়, ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শামসুর রাহমান।
 শাহীন শাহ্
অধ্যাপক, কলাম লেখক ও প্রাবন্ধীক
           ০১৭২০-১৮৩০৩৯