ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আবদুল মতিন খসরু ও বাসেত মজুমদারের স্মৃতিতে স্মরণসভা
Published : Wednesday, 17 November, 2021 at 12:00 AM
সাবেক আইনমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত আবদুল মতিন খসরু এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আবদুল বাসেত মজুমদারকে স্মরণ করেছে ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ল্যাব)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সভার আয়োজন করে ল্যাব। স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, এই দুজন, আইনজীবীদের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে ছিলেন। তাঁদের আদর্শ ও ব্যক্তিত্বকে নতুন প্রজন্মকে ধারণ করতে হবে।
আবদুল মতিন খসরুকে স্মরণ করে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী কাজী মো. নজিবুল্লাহ্ হিরু বলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর ১০-১২ দিন আমি শুধু কেঁদেছি। তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার জন্য সংসদে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, যার জন্য আজ পর্যন্ত তাঁকে সশ্রদ্ধ স্মরণ করি।
নজিবুল্লাহ্ হিরু বলেন, ‘একবার ভূমিকম্পের পর আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাই। চলে আসার সময় বাসেত মজুমদার এগিয়ে গিয়ে একদম রাষ্ট্রপতির কাছে গেলেন। পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে দেন রাষ্ট্রপতির কাছে।
রাষ্ট্রপতি সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেন। আমার কষ্ট লাগে এই কাজ করলেন বাসেত মজুমদার, অথচ সেখান থেকে ফিরে আসতে না আসতেই অনেকের ফেসবুকে পোস্ট চলে গেছে, তারা বার কাউন্সিলের ভবন করছেন। হায় আল্লাহ! বাসেত মজুমদারের এই কৃতিত্বও ছিনতাই করে নেওয়ার প্রক্রিয়া হয়েছে।’ বার কাউন্সিল ভবনে বাসেত মজুমদারের স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানান তিনি।
স্মরণ সভায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর বলেন, আইনজীবীরা যেন চিকিৎসা করাতে পারেন, সন্তানদের বিয়ে দিতে পারেন-সেদিকে খেয়াল রাখতেন বাসেত মজুমদার। আর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার হত্যার ওপর জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলে মতিন খসরু যে ভূমিকা রেখেছেন, তা মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু সাইদ সাগর বলেন, বাসেত মজুমদার মামলা নিয়ে কখনো দরদাম করতেন না। আর মতিন খসরু মামলা নিয়ে প্রচুর গবেষণা করতেন।
বাসেত মজুমদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা অধ্যাপক খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এখানে অনেকেই বাবার সফলতার কথা বলে গেলেন। কিন্তু বাবার যে কষ্টের জীবন, সেটা আমরা বাসায় দেখেছি। বাবার বাসার জীবন ও কোর্টের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বাসায় বাবা ১৭-১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।’
বাসেত মজুমদারের ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সাইদ আহমেদ বলেন, ‘এটা স্মরণ সভা নয়, দুঃখের সভা। এ রকম মানুষ কেমনে চলে যায়। বাবাকে প্রতি সেকেন্ড মিস করি। তাঁর চেয়ার ধরে বসে থাকি।’
মতিন খসরু ছোট ভাই কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আইনজীবী আবদুল মমিন ফেরদৌস বলেন, ভাইয়া নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রচুর বই পড়তেন। তাঁর বড় রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন সৃষ্টিকর্তা পূরণ করেছিলেন। ভাইয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রচুর খেটেছিলেন। মতিন খসরু কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মোমতাজউদ্দিন আহমদ, ল্যাবের আজীবন সদস্য ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসাইন দোলন, ল্যাবের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সরদার, ল্যাবের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি মো. আবদুন নূর দুলাল, আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হোসেন প্রমুখ।