
নিত্যপণ্যের বাজারে
স্বস্তি নেই। নিয়ন্ত্রণ নেই দামে। প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে চাল, তেল,
চিনি, পেঁয়াজ এই চার পণ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। টিসিবির এক তথ্যে বলা
হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবরের এ পর্যন্ত সয়াবিন তেলের
দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ। আর পাম তেল সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ।
আমদানিনির্ভরতার কারণে ভোজ্য তেল, চিনি ও পেঁয়াজের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে
না। টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মোটা চালের
দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি গড়ে সাড়ে পাঁঁচ টাকা বা ১৩ শতাংশ। অথচ দেশে উৎপাদনে
ঘাটতি নেই। দুই কোটি ৫৮ লাখ টন চালের চাহিদার বিপরীতে গত বছর বোরো, আমন ও
আউশ তিন মৌসুমে মোট চাল উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৬ লাখ মেট্রিক টন। সম্প্রতি
পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে সরকার। চিনি আমদানিতে শুল্ক ১০
শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি
পর্যায়ে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।
চলতি
২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৫.৫৯ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যে
পণ্য বা সেবা ১০০ টাকা দিয়ে পাওয়া যেত সেই পণ্য বা সেবা গত সেপ্টেম্বর মাসে
পেতে ১০৫ টাকা ৫৯ পয়সা খরচ হয়েছে।
সারা বিশ্বেই বাজার নিয়ন্ত্রণের মূল
উদ্দেশ্য ভোক্তার কল্যাণ। বাজারে যেন ন্যায্যতা বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজন
প্রতিযোগিতার পরিবেশ। বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলে কেউ একচেটিয়া ব্যবসা করতে
পারবে না। প্রতিযোগিতার পরিবেশটি যেন বজায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বের
অন্য সব বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারের পার্থক্য আছে। এখানে অর্থনীতির
কোনো সূত্র কাজে লাগে না। চাহিদার সঙ্গে দামের যে সম্পর্ক, তা এখানে সব সময়
কাজে লাগে না। বাংলাদেশের বাজারে একবার কোনো জিনিসের দাম বেড়ে গেলে তা আর
কমে না। আবার সরকারের পক্ষ থেকেও বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে
না। বাজারে প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে সরকার নিজেই একটি বিকল্প বাজার গড়ে তুলতে
পারে। এ ব্যাপারে টিসিবিকে নতুন করে সংগঠিত করা যেতে পারে।