ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
ঋণের দায় থেকে বাঁচতে ‘অপহরণের নাটক’
Published : Sunday, 17 October, 2021 at 12:00 AM
শাহীন আলম, দেবিদ্বার।
আবু ইউসুফ মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারে কাঁচামাল বিক্রি করেন। কয়েকটি এনজিও’র কিস্তি ও ব্যবসায়ী ঋণের কারণে গত ৮ অক্টোবর পালিয়ে যান তিনি। পালানোর একদিন পর তার পরিবারকে সে ফোনে জানায়, কে বা কারা চোখ বন্ধ করে তাকে একটি অন্ধকার রুমে আটকিয়ে রেখেছে, খাবার ও পানি দিচ্ছে না এবং কোথায় আছে তাও বলতে পারছে না, আমাকে বাঁচাও। এর পর আবু ইউসুফকে উদ্ধারের জন্য তাঁর মামা আলী আকবর দেবিদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন। যার নং-৩৯৪।
আবু ইউসুফ দেবিদ্বার উপজেলা ভিংলাবাড়ী এলাকার রিক্সাচালক আবদুল জলিলের ছেলে।  নিখোঁজ ডায়রি ও ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে অভিযানে নামেন পুলিশ। পরিবারের কাছে আবু ইউসুফের শেষ কলের সূত্রের লোকেশান ট্র্যাকিং করে সিলেটে অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। পরে ১২ অক্টোবর রাতে সিলেটের শাহ জালাল মাজারে বাহিরে ঘুরাফেরা করা অবস্থায় তাকে খুঁজে পান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবু ইউসুফ জানায়, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে দেনাদাররা একে একে আমাকে চাপ দিচ্ছিলো। তাই আমি দেনাদার ও কিস্তির ভয়ে পালিয়ে ছিলাম। আমি পরিবারকে অপহরণ হয়েছি বলে জানালে তারা থানায় ডায়রি করে। আমি সবার নিকট ক্ষমা প্রার্থী চাই। আবু ইউসুফের মামা আলী আকবর জানায়, নিমসার কাঁচামাল পাইকারি বাজার থেকে সবজি কেনার জন্য একলক্ষ টাকা নিয়ে দেবিদ্বার নিউ মার্কেট বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের বাসে করে সিলেট চলে যায় আবু ইউসফু। পরে সে তার পরিবারের সদস্যদের ফোনে  জানায় ‘অপহরণ হয়েছে’ তাকে যেন আমরা বাঁচাই। এরপর পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাগিনার অপহরণের খবর পেয়ে আমিও ছুটে আসি। দেবিদ্বার থানায় নিখোঁজ ডায়রি করি। তাকে উদ্ধারের পর জানতে পারি ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলো আবু ইউসুফ। সে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আবু ইউসুফের অবস্থান শনাক্ত করে সিলেটের শাহ জালাল মাজারে প্রাঙ্গণে ঘুরাঘুরি অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। সে ব্যবসা ও কিস্তির কারণ ঋণগ্রস্ত ছিল, তাই ভয়ে পলাতক থেকে নিজেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলো। তাকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আরিফুর রহমান জানান, আবু ইউসুফ  নিজে পলাতক থেকে তাঁর পরিবারের নিজেকে অপহরণের  তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল। ইউসুফকে সিলেট থেকে উদ্ধার করে  তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।