ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
শিশুর ডেঙ্গু ঝুঁকি উন দায়িত্বশীলতায় দুন উদ্বেগ
Published : Friday, 27 August, 2021 at 12:00 AM
শিশুর ডেঙ্গু ঝুঁকি উন দায়িত্বশীলতায় দুন উদ্বেগমহামারি করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার যখন নি¤œমুখী এবং বিষয়টি স্বস্তির, তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের অর্ধেকই শিশু। শিশুদের বেলায় যে কোনো রোগের প্রকোপ অধিকতর উদ্বেগ ও ঝুঁকির। কারণ তারা রোগের উপসর্গ বুঝতে কিংবা বর্ণনা করতে পারে না। এ ছাড়া শিশুর রোগ পরিবারের অন্যদেরও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অবশ্য প্রশ্নটা সামগ্রিকভাবেই মশক নিয়ন্ত্রণের। শিশু কিংবা বৃদ্ধ সবাইকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রা করতে হবে। এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১১৩টি এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলেছেন, এবার ডেঙ্গুর ধরনও ভিন্ন। অনেকটাই জানা উপসর্গের বাইরে এবার এ েেত্র দেখা যাচ্ছে নতুন উপসর্গ, যা সহজে বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা জানি, মশাবাহিত এ রোগ প্রতিরোধে প্রধান করণীয় মশার প্রজননত্রে ধ্বংস ও এর বংশবিস্তার রোধ করা।
আমরা দেখছি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জীবাণুবাহী এডিস মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা কথাবার্তায় যতটা 'গতিশীল', মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম ততটাই হতাশাজনক। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো ছাড়া তাদের নিয়মিত কোনো কার্যক্রমই তেমন দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় এবং এর কারণও অজানা নয়। এডিস মশার প্রজননত্রে যাতে সৃষ্টি না হয়, এ ব্যাপারে জনসচেতনতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মশক নিধনে সিটি করপোরেশনগুলোর দায় সর্বাধিক। এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতেই বেশি জন্মাচ্ছে এডিস মশা। সে েেত্র ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধান কর্তব্য ছিল এসব প্রজননত্রে ধ্বংসের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা দেখছি, এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলোর মধ্যেও রয়েছে সমন্বয়ের অভাব। দৃশ্যত ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের যে কার্যক্রম দেখা যায়, তা অনেকটাই অনুষ্ঠানসর্বস্ব। এমন অভিযানে হয়তো আত্মতুষ্টি লাভ করা যাবে, কিন্তু ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো যাবে না। জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননত্রে ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নগর কর্তৃপকে চালাতে হবে সাঁড়াশি অভিযান।
আমাদের মনে আছে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কী ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল! মশক নিধনের ব্যাপারে সিটি করপোরেশন কর্তৃপ যত তৎপরতার কথাই বলুক, তা কতটা অকার্যকর বিদ্যমান বাস্তবতাই এর স্যাবহ। দুর্ভাগ্যের বিষয়, পরিস্থিতির যখন ক্রমেই অবনতি ঘটছে, তখনও সিটি করপোরেশনগুলো সমন্বিত কার্যকর পদপে নিতে পারছে না। মশক নিধন কার্যক্রম তাদের কাছে যেন 'মৌসুমি কাজ'। তা ছাড়া এ কাজে কর্তৃপরে বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা-অনিয়মের অভিযোগও নতুন নয়। মশার লার্ভা নির্মূলে ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। জুন থেকে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর মূল সময় হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা সারা বছর এডিস মশা জন্মানোর উপযোগী। ডেঙ্গুর প্রকোপ যে ভঙ্গুর পরিবেশের ভয়াবহ প্রতিশোধ, তাও বলার অপো রাখে না। বাসযোগ্যতার বিচারে ঢাকার অবস্থান কতটা নিচের দিকে, তাও নানা গবেষণায় উঠে এসেছে।
আমরা দেখেছি, মশক নিধনের নামে এ পর্যন্ত বিস্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্ধতিগত হাস্যকর পদপেও নেওয়া হয়েছে। দাগানো হয়েছে কামানও। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। তাতে মশাবিনাশ না হয়ে শুধু অর্থনাশই হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য কার্যত কল্যাণকর কিছু বয়ে আনেনি। সতর্কতা-জনসচেতনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্তৃপকে লোক দেখানো কার্যক্রম বন্ধ করে এডিসের উৎস নির্মূল করতেই হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিসর বাড়ানোসহ সবকিছু করতে হবে সুচারু। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বাড়াতে হবে বিশেষায়িত সেবা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক ও সমন্বিত প্রয়াসের বিকল্প নেই।