লাকসামে টিকা না পেয়ে হতাশ অনেকে
Published : Sunday, 8 August, 2021 at 12:00 AM
লাকসাম প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ শনিবার গণটিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায়ও এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ সময় লাকসামে মোট ৭ হাজার ২০০ জনকে গণটিকা প্রদান করা হয়।
এদিকে কেন্দ্রগুলোতে ছিল গণটিকা গ্রহণইচ্ছু মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ভিড় সামাল দিতে স্বেচ্ছাসেবী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত হয়েছে। আবার ভ্যাকসিন নিতে না পেরে গণটিকা গ্রহণইচ্ছু অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের (নবগঠিত লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নসহ) প্রতিটিতে ৬০০ জন করে ৫ হাজার ৪০০ জনকে এবং পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৬০০ জনকে মোট ১ হাজার ৮০০ জনকে সর্বমোট ৭ হাজার ২০০ জনকে এ গণটিকা প্রদান করা হবে।
আরো জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৭টি এবং পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের ৯টি মোট ৩৬টি বুথে গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। গণটিকাদান কর্মসূচি কার্যক্রমে পঞ্চাশোর্ধ বয়স্ক, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ২৫ বছর ও তদূর্ধ্বরা সকাল থেকেই ভিড় করছেন। করোনার ভ্যাকসিন নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেও তারা ভ্যাকসিন নিতে পারেনি।
উপজেলার গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন শামীম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার পরিষদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীগণ নিয়ে গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তরিক ভাবে কাজ করেছি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিন স্বল্পতার কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছে।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী একদিনের গণটিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা এবং ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদান অব্যাহত থাকবে।