একদিনে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৭ কুমেকে ৫০ শয্যা ও সদরে ৩০ শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ মনিটরিং করা হচ্ছে
Published : Wednesday, 7 July, 2021 at 12:00 AM, Update: 07.07.2021 12:08:35 AM

জহির শান্ত ||
প্রথমবারের
মতো কুমিল্লায় একদিনে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা তিন শ’ পেরুলো। গত ২৪
ঘন্টায় এ জেলায় মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৩ জন। একই সময়ে
জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪
জন পুরুষ এবং তিনজন নারী। এ নিয়ে কুমিল্লায় করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা
দাঁড়ালো ৫ শ জনে। এর আগের দিন সোমবার কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হন ২৮২ জন,
প্রাণ যায় ৪ জনের। অর্থাৎ গত দুই দিনেই কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন
৫৮৫ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা রোগী
সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ হাজার ৫৬২ জনে। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) জেলা সিভিল সার্জন
কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে,
সংক্রমণ বাড়তে থাকা কুমিল্লায় বাড়ছে শনাক্তের হারও। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায়
৭৩৫টি নমুুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা পজেটিভ হয়েছেন ৩০৩ জন। রোগী শনাক্তের
হাত ৪১ দশমিক ২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিলো ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়াও গত ২৪
ঘন্টায় কুমিল্লায় সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন করোনা রোগী। সব মিলিয়ে কুমিল্লায় এ
পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৩৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কুমিল্লায়
করোনা ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা সিভিল সার্জন
মীর মোবারক হোসাইন। তিনি বলেন, কুমিল্লায় সংক্রমণ চিত্রে দেখা গেছে একটি
পরিবারে কেউ একজন আক্রান্ত হলেও সেই পরিবারের প্রায় সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন।
কিন্তু যে হারে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে-এটা
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপর মারাত্মক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারপরও জেলা
সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
সমন্বিতভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে।
এদিকে করোনা আক্রান্ত
বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে
আরো ৫০ শয্যা এবং সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরো ৩০ শয্যা বৃদ্ধি করা
হয়েছে। নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা যেন সচল থাকে তা কঠোর ভাবে মনিটরিং
করা হচ্ছে। এছাড়া রোগীর চাহিদা অনুসারে বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলে জানান সিভিল
সার্জন।
সিভিল সার্জন জানান, রোগীদের চাহিদার ভিত্তিতে কুমিল্লা
মেডিকেল-সদর হাসাপাতালে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো রোগীদের রাখার
ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন তাদের শহরের
হাসপাতালগুলোতে রাখা হবে। আর যাদের অক্সিজেন সরবরাহ উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে তাদেরকে সেখানেই রাখা হবে। অনেকেই
আছেন যারা ঘরেই চিকিৎসা নিলে সুস্থ হবেন, তাদের হাসপাতালে রাখা হবে না। এতে
করে হাসপাতালের উপর চাপ কমবে।
কুমিল্লা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা
গেছে, কুমিল্লার সরকারি দু’টি করোনা ইউনিটেই ধারণক্ষমতার বেশি করোনা
আক্রান্তকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।