যৌন নির্যাতন রোধে ‘আমরাই পারি’ ও ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ’র নীতিমালা
Published : Wednesday, 7 July, 2021 at 12:00 AM
যৌন সহিংসতামুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ এবং ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) এক ভার্চুয়াল সভায় এই ঘোষণা দেয়া হয়।
ইউএন উইমেন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সভায় যুক্ত ছিলেন আমরাই পারি জোটের চেয়ারপারসন এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান, ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট জুলিয়া পেলোসি, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার ফারজানা সুলতানা, কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমেনা বেগম, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটির ফোকাল জুবাইদা নুর খান, শিক্ষক কাউন্সিলের সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং কুমিল্লার মানবাধিকার সংস্থা দৃষ্টির নির্বাহী পরিচালক পাপড়ি বসু। সভা সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি’র নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।
বিধিনিষেধের মধ্যে থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট জুলিয়া। বাংলাদেশে যৌন সহিংসতামুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এই উদ্যোগকে একটি ‘ল্যান্ডমার্ক’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটির ফোকাল এবং ভিক্টোরিয়া কলেজের ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক জুবাইদা নুর খান কীভাবে এই নীতিমালা কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে সভায় তা বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
এসময় আমরাই পারি’র চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘এই নীতিমালার পেছনে একটি গৃঢ় দার্শনিক জায়গা রয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে নারীর সঙ্গে যৌন সহিংসতা আচরণসমূহ অপরাধ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা সমাজ ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন অপরাধ বলে স্বীকৃত ছিল না। বরং নারীর সঙ্গে এই আচরণগুলোকে সহজাত এবং স্বাভাবিক ভাবা হতো। ‘আমার দিকে দীর্ঘদিন তাকিয়ে থাকা যদি আমার অস্বস্তি উৎপাদন করে’ তবে সেইটি যে এক ধরনের অপরাধপ্রবণ আচরণ তা এই নীতিমালার মাধ্যমে স্বীকৃতি পায়।’
তিনি মনে করেন, কেবল নীতিমালা এবং কমিটির মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি দেয়াই এই নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। বরং মানুষের মননে, চিন্তায় এমন বোধ তৈরি করতে হবে যাতে সে অপরাধকে চিহ্নিত করতে পারে এবং অপরাধপ্রবণ আচরণ না করে।
সবশেষে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আবু জাফর খান যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে সভা সমাপ্ত করেন।