লালমাইয়ে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ
Published : Sunday, 4 April, 2021 at 12:00 AM
প্রদীপ মজুমদার, লালমাই ||
বুকে
ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সিরাজুল ইসলাম । দু-তিন দিনেও সুস্থ না হওয়ায়
চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কভিড-১৯ পরীার
পরামর্শ দেওয়া হয়। তাৎণিক পরীার জন্য তিনি ছুটে যান সরকারি হাসপাতালে।
কিন্তু সেখানে গিয়ে পরীার নমুনা দিতে পারেননি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে
করোনার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ২০
শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপ। সে কারণে করোনায় আক্রান্তদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে
না। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে করোনার দ্বিতীয়
ঢেউ ভয়ংকর রূপ ধারণ করায় আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে
১৮ দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনা নমুনা
সংগ্রহ বন্ধ থাকার কারণে পজিটিভ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ফলে
তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সাধারণ মানুষের
মধ্যে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাপক হারে।
উপজেলার বাগমারা ২০ শয্যা
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তৎকালীন উপজেলা
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জয়াশীষ রায়ের লিখিত নির্দেশে গত বছরের ১৯ মার্চ
থেকে বাগমারা ২০ শয্যা হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেন স্বাস্থ্য সহকারী
উজ্জ্বল সিংহ, অজয়। নভেম্বর পর্যন্ত তারা নমুনা সংগ্রহ করেন ৭৫৮টি। এদের
মধ্যে ১৩৮জনের করোনা শনাক্ত হয়। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান তিনজন।
প্রয়োজন না হওয়ায় ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কেউ নমুনা দেননি।
উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত ১৫ মার্চ সামছুল আলম এবং ১৮ মার্চ লালমাই সরকারি
কলেজের শিক সোলাইমান চৌধুরীর নমুনা সংগ্রহ করেন উজ্জল সিংহ। এরপর থেকে
বাগমারা ২০ শয্যা হাসপাতালের বর্তমান আরএমও ডা. আনোয়ার উল্যাহর মৌখিক
নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
বাগমারা ২০ শয্যা হাসপাতালের আরএমও ডা. আনোয়ার উল্যাহ বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট ও বাজেট না থাকায় করোনা নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লার
সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, করোনা পরীার জন্য নমুনা সংগ্রহ
বন্ধের বিষয়টি সত্যি। জনবল সংকট থাকার কারনে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নমুনা সংগ্রহের কাজ পুনরায় চালু করা হবে।