
দীর্ঘকাল ধরেই বিদেশ গমনেচ্ছু
সাধারণ মানুষ প্রতারকদের দ্বারা হয়রানির শিক্কার হচ্ছে। মিথ্যা আশ্বাস,
প্রলোভন, বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ঘটনা
ঘটছে। মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচারের দ্বারা অসংখ্য মানুষ যে শুধু সর্বস্বান্ত
হচ্ছে তা-ই নয়, অনেক েেত্রই মানুষকে বিপদে পড়তে হচ্ছে। প্রতারকরা এটি করতে
পারছে আইনি ত্রুটির কারণে। আইন অনুযায়ী শুধু লাইসেন্সধারী এজেন্সি
রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকতে পারবে। বাস্তবতা হচ্ছে, বিভিন্ন
ধরনের সাব-এজেন্ট তৈরি করা হয়, পরবর্তী সময়ে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে
এরা কাজ করছে। এ কারণে অনেক সময় মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেখা যায়
শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে নানা রকমের সমস্যার মধ্যে পড়ছেন।
অভিবাসী কর্মী
উন্নয়ন প্রগ্রাম (ওকাপ) পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, ৬০ শতাংশ শ্রমিক
বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে গিয়ে সফল হননি। ২০১৯ সালে ২৫০ জন দেশে ফেরত আসা
শ্রমিকের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে ওকাপ। জরিপে বলা হচ্ছে, এসব শ্রমিক
নিজ ও পরিবারের জায়গাজমি বিক্রি করে বেশি বেতনে চাকরি পাওয়ার আশায়
মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে পাড়ি দেন। কিন্তু স্থানীয় দালাল ও রিক্রুট
এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের বেশির ভাগই প্রতারিত হন। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ দাবি
করেছেন, প্রবাসে যাওয়ার পর তাঁদের যে চাকরি ও বেতন দেওয়ার কথা তা দেওয়া
হয়নি। এজেন্ট ও রিক্রুট এজেন্সি বেশি বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে
বিদেশে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর কম বেতনের চাকরি করতে বাধ্য করা হয়।
জরিপে আরো উঠে আসে, অসফল প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৪০ শতাংশ বিনা বেতনেই
সেখানে কাজ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। আর ১০
শতাংশ শ্রমিকের ওপর সেখানে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
অভিবাসী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দেশে তুলনামূলকভাবে শ্রমিকের চাহিদা কম। দেশে
চাকরির অপ্রতুলতার কারণে বিদেশে কাজ করতে যেতে হয়। যেহেতু দেশ দ শ্রমিক
তৈরি করতে সম হচ্ছে না, সেহেতু অদ শ্রমিকরা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়।
তাহলে আমাদের করণীয় কী? বাংলাদেশের শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে অদ। অনেক পেশায়
আমাদের কর্মীরা কাঙ্তি মাত্রায় দতা অর্জন করতে পারেননি। তাই ভালো ও বেশি
আয়ের পেশায় বাংলাদেশিদের নিয়োগ কম। এসব পেশার বেশির ভাগই ভারতীয় ও
পাকিস্তানিদের দখলে। অথচ পর্যাপ্ত দতা নিশ্চিত করতে পারলে এসব পেশায়
স্বদেশিদের নিয়োগ করা সম্ভব হতো। কাজেই আমাদের এখন শ্রমবাজারের চাহিদার
পরিবর্তন ও দতার বিষয়ে নজর দিতে হবে। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় শিতি ও
দতাসম্পন্নদের কদর বাড়ছে। সব কর্মত্রে সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও দ
জনশক্তি নিজ নিজ েেত্র কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে নিতে পারে। বিকাশমান
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাই জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। কোন দেশে কোন ধরনের
শ্রমশক্তি রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে আগে থেকেই জানা প্রয়োজন।
দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রতারক এজেন্ট-সাব-এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।